প্রচলিত জাল হাদীস

house-fire১) দ্বীন ( ধর্ম )  হচ্ছে বিবেক , যার দ্বীন নেই তার কোন বিবেক নেই । সূত্রঃ “ আল- কুনা ”  এবং  “ আল-কুনা ওয়াল  আসমা ”  গ্রন্থে আবূ মালেক বিশ্‌র ইবনু গালিব সূত্রে যুহরী হতে।

হাদীসটি বাতিল : বাতিল বলেছেনঃ ইমাম নাসাঈ ( রহঃ ) , হাফিয ইবনু হাজার ( রহঃ ) , আল্লামা আল- আলবানী ( রহঃ ) । আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম ( রহঃ )  বলেনঃ “ বিবেক সম্পর্কে বর্ণিত সকল হাদীস মিথ্যা । ” ( আল- মানার ; পৃঃ ২৫ )

২) মসজিদের মধ্যে কথোপকথন পূণ্যগুলোকে খেয়ে ফেলে যেমনভাবে চতুষ্পদ জন্তুগুলো ঘাস খেয়ে ফেলে । সূত্রঃ “ আল- ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন ” ; ( ১ / ১৩৬ )

হাদীসটি ভিত্তিহীন।  বাতিল বলেছেনঃ হাফিয ইরাকী ( রহঃ ) , হাফিয ইবনু হাজার ( রহঃ ) , আব্দুল ওয়াহাব সুবকী ( রহঃ ), আল্লামা আল- আলবানী ( রহঃ )

৩) দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ ।

হাদীসটি জাল।  জাল বলেছেনঃ ইমাম সাগানী ( রহঃ )  ও অন্যান্য ইমামরা ।

৪)  তোমরা জ্ঞান অন্বেষণ কর সুদূর চীন দেশে গিয়ে হলেও ।        

হাদীসটি বাতিল।  সূত্রঃ এটি যেসব গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছেঃ “ আখবারূ আসহাবান ” ( ২/ ১০৬) ; “ আল- ফাওয়াইদ ” ( ২/২৪১ ) ; “ আল- আরবা’য়ীন ” ( ২/১৫১ ) ; “ আত্‌- তারিখ ” ( ৯/৩৬৪ ) ; “ কিতাবুল রেহালা ” ( ১/২ ) ; “ আল- মাদখাল ” ( ২৪১/৩২৪ ) ; “ আল- মুনতাকা ” ( ১/২৮ ) । উপরের প্রত্যেকটি গ্রন্থে জাল হাদীসটি হাসান ইবনু আতিয়া সূত্রে  “ আবূ আতিকা ”  হতে বর্ণিত হয়েছে।   হাদীসটির বর্ণনাকারী “ আবূ আতিকা ” সম্পর্কে ইমাম বুখারী ( রহঃ ) বলেনঃ তিনি মুনকারূল হাদীস। ইমাম নাসাঈ ( রহঃ )  বলেনঃ তিনি নির্ভরযোগ্য নন। ইমাম উকায়লী ( রহঃ )  বলেনঃ তিনি নিতান্তই দুর্বল। ইমাম আবূ হাতিম ( রহঃ ) বলেনঃ তিনি যাহেবুল হাদীস। ইমাম ইবনুল জাওযী ( রহঃ ) ও ইমাম ইবনু হিব্বান ( রহঃ ) বলেনঃ হাদীসটি বাতিল। ইমাম সুলায়মানী ( রহঃ )  “ আবূ আতিকাকে ”  হাদীস জালকারী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ইমাম সাখাবী ( রহঃ ) তার “ মাকাসীদুল হাসানা ” গ্রন্থে উপরোক্ত মত সমর্থন করেন। ইমাম আহমাদ ( রহঃ ) এ হাদীসটিকে কঠোর ভাষায় ইনকার করেছেন।  ইমাম সুয়ূতী ( রহঃ )  “ আল- লায়ালী ”  ( ১/১৯৩ ) গ্রন্থে বলেনঃ   হাদীসটির আরো দু’ টি সূত্র রয়েছেঃ— ১) একটির সনদে রয়েছেন ইয়াকূব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম আসকালনী। এ ইয়াকূব সম্পর্কে ইমাম যাহাবী ( রহঃ ) বলেনঃ সে মিথ্যুক।  ২) দ্বিতীয়টির সনদে রয়েছেন আহমাদ ইবনু আবদুল্লাহ যুওয়াইবারী। যুওয়াইবারী হাদীস জালকারী।

৫) যে ব্যক্তি নিজেকে চিনেছে , সে তার প্রভুকে চিনতে সক্ষম হয়েছে।                 

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।  বাতিল বলেছেনঃ  ইমাম নববী (রহঃ) , ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহঃ) হাফিয সাখাবী (রহঃ), ইমাম সূয়ুতী (রহঃ) , শাইখ আল- কারী (রহঃ) । ফিরোযাবাদী (রহঃ)  বলেনঃ  যদিও অধিকাংশ লোক এটিকে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর হাদীস বলে চালাচ্ছেন , তবুও এটি নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)  এর হাদীসের অন্তর্ভুক্ত নয়। এর ভিত্তিই সহীহ নয় । এটি ইসরাইলীদের বর্ণনায় বর্ণিত ।

৬) আমি আরবী ভাষী, কুরআন আরবী ভাষায় এবং জান্নাতীদের ভাষা আরবী ।              

হাদীসটি জাল। সূত্রঃ “ আল- মু’ জামুল আওসাত ”  ( ২ /২৮৫// ১ / ৯৩০১ )। হাদীসের রাবীর ( আব্দুল আযীয ) সমালোচনা করেছেনঃ  ইমাম বুখারী ( রহঃ ) , ইমাম হায়সামী ( রহঃ ) , ইমাম সূয়ুতী ( রহঃ ) , হাফিয ইরাকী ( রহঃ ) , ইমাম ইবনু মাঈন ( রহঃ ) , ইমাম ইবনু আররাক ( রহঃ ) , ইমাম ইবনু আদী ( রহঃ ) , আল্লামা আল- আলবানী ( রহঃ ) ।

৭) মুমিনের উচ্ছিষ্টে রয়েছে  আরোগ্য।                

হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।  ভিত্তি নেই বলেছেনঃ  শাইখ আহমাদ আল গাযাযী ( রহঃ ) , শাইখ আজলূনী ( রহঃ ) । শাইখ আহমাদ আল গাযাযী ( রহঃ ) বলেনঃ এটি কোন হাদীস নয়।  ( আল- যাদ্দুল হাসীস )

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s