আবদুল্লাহ্ যুল বাজাদায়েন

বিনা যুদ্ধে শহীদ : আবদুল্লাহ্ যুল বাজাদায়েন

আবদুল্লাহ্ যুল বাজাদায়েন রাযিআল্লাহু আনহু। ঈমান ও ইসলাম গ্রহণের পূর্বে তাঁর নাম ছিল আব্দুুল উযযা। অন্তরে সীমাহীন আকাংখা ছিল শাহাদাতের, যুদ্ধের নিয়্যাতে তাবুক পৌঁছার পর হঠাৎ রৌদ্রতাপ বেড়ে গেলে প্রচন্ড গরমে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন সুসংবাদ জানান যে শাহাদাতের আকাংখা নিয়ে জ্বরে মৃত্যুবরণ করলেও আল্লাহ তাকে শহীদদের অন্তর্ভুক্ত করবেন।
আব্দুল উযযা। পিতৃহীন শিশু আব্দুল উযযা। পিতা না থাকার কারণে শিশু আব্দুল উযযা মক্কায় তার চাচার কাছে লালিত-পালিত হন। সে ছিল চাচার একমাত্র উত্তরাধিকারী। ধীরে ধীরে শিশু আব্দুল উযযা তরুন বয়সে উপনীত হলো। তরুণ বয়সে চাচার উট-বকরী চরানোই ছিল তার কাজ। ইতিমধ্যে ইসলামের গুঞ্জনধ্বনি তরুণ আব্দুল উযযার কাছেও পৌঁছে যায়। স্বাভাবিকভাবেই তার তরুণ কোমল প্রাণ ইসলামের এ আকর্ষণ এড়িয়ে যেতে পারলো না। ক্রমশঃ সে তাওহীদের প্রতি আকৃষ্ট হতে থাকে। কিন্তু চাচার ভয় তার মনের আকাশ হতে জাহিলিয়্যাতের মেঘ সরিয়ে তাওহীদের আলোকে বিচ্ছুরিত হতে দিচ্ছিল না। তার মন-প্রাণ ঈমান-ইসলাম গ্রহণের জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলো। কিন্তু শত চেষ্টা করেও চাচার সামনে তার এ উপলব্ধি প্রকাশ করতে সক্ষম হলো না। এভাবেই অতৃপ্ত হৃদয়ে দিন অতিবাহিত হচ্ছিল আব্দুল উযযার।
ইতিমধ্যে মক্কা হতে হিযরত করে মুসলিমরা মদীনায় চলে গিয়েছে এবং মদীনার শাসন কর্তৃত্বও আল্লাহ্’র রাসূল হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাতে ন্যাস্ত হয়েছে। অতঃপর একদিন সুযোগ বুঝে মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নেতৃত্বে মুসলিমরা মক্কা আক্রমন করে বিনা রক্তপাতে মক্কা জয় করে নিল। এই হঠাৎ মক্কা বিজয় আব্দুল উযযার সবকিছুকে ওলট-পালট করে দিল। যুবক আব্দুল উযযার অন্তরের লুক্কায়িত ঈমান ফল্গুস্রোত হয়ে বেরিয়ে এলো।
অবশেষে একদিন অন্তরের সকল বাধা-ভয়কে উপেক্ষা করে সে চাচার সামনে গিয়ে দাড়ালো এবং ইসলাম’ই যে একমাত্র সত্য দ্বীন সে সম্পর্কে বক্তব্য উপস্থাপনের পর তাকে বললো-
“চাচা আপনি নিশ্চয় বুঝতে পারছেন আমার মনের আকাংখা কী? আমি মনস্থির করেছি আমি একমাত্র সত্য রব্ব আল্লাহ্’র প্রতি ঈমান এনে তাঁরই মনোনীত একমাত্র সত্য দ্বীন ইসলাম গ্রহণ করবো। হে আমার চাচা! দুনিয়ার জীবনে কল্যাণ ও শান্তি আর আখিরাতের জীবনে জাহান্নামের ভয়াবহ আগুন থেকে বাঁচতে চাইলে আপনিও এ দ্বীনে হক্বের দাওয়াত কবুল করুন।”
চাচার কাছে ভাতিজার এ আচরণ ছিল অকল্পনীয়। যে কোনদিন তার সামনে স্পষ্ট করে নিজের অভাব-অভিযোগ পেশ করার সাহস পেতো না সেই ভ্রাতু®পুত্র কি-না আজকে তাকে বলছে তার অনুসরনীয় দ্বীন বাতিল আর মুহাম্মদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রচারিত দ্বীন-ইসলামই একমাত্র সত্য দ্বীন!
ভাতিজার এই আহ্বানে ক্রোধে আগুন হয়ে উঠলেন তিনি। ভ্রাতু®পুত্রকে চুড়ান্ত ভয় দেখাবার জন্য তিনি বলে উঠলেন, “তোর কথার পরিণতি কি, তা কি তুই জানিস? তোর মত ধর্মত্যাগী আমার স¤পত্তির এক কপর্দকও পাবে না।”
উত্তরে আব্দুল উযযা সসম্ভ্রমে পিতৃব্যকে বললেন, “দুনিয়ার স¤পদ অপেক্ষা সত্য আমার নিকট অনেক বড়।”
এ কথা শোনা মাত্রই তার চাচা উম্মত্ত সারমেয়তে পরিণত হলো। সে আব্দুল উযযাকে নিকৃষ্ট ভাষায় গালাগাল করতে লাগলেন এমনকি বেদম প্রহার করে এক পর্যায়ে তার দেহের পরিধেয় বস্র ছিনিয়ে নিয়ে তাকে উলঙ্গ অবস্থায় বাড়ী থেকে বের করে দিলেন।
নগ্ন আব্দুল উযযা উপায়ান্তর না দেখে ছুটে গেলেন বিধবা মায়ের কাছে। বললেন, “মা, আমাকে লজ্জা নিবারণের মত কাপড় দাও।”
দরিদ্র মা আব্দুল উযযার পিতার আমলের এক জীর্ণ কম্বল ছুড়ে দিলেন পুত্রের দিকে।
আব্দুল উযযার সেই কম্বল ছিঁড়ে দুই ভাগ করে একখন্ড পরিধান করলেন, আরেক খণ্ড গায়ে চাপালেন। তারপর পিপাসার্ত অন্তরের তাওহীদের তৃষ্ণা মেটাতে ছুটেলন মদীনার পানে, রাহমাতাল্লিল আ’লামীনের কাছে।
পক্ষকাল দীর্ঘ পথ-পরিক্রমা শেষে ফজরের সময় মসজিদে নববীর দরজায় গিয়ে দাঁড়ালেন আব্দুল উযযা। একেবারে উলঙ্গপ্রায়। সারা শরীর তার ক্ষত-বিক্ষত। সবাই বিস্ময়ের সাথে তাঁর দিকে তাকালেন। আব্দুল উযযার ক্লান্ত পরিশ্রান্ত মুখের দিকে একবার তাকিয়ে দয়ার নাবী মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন,
‘কী হয়েছে তোমার? কে তুমি? কোথা হতে এসেছ?’
‘আমি আব্দুল উযযা, এক সত্যের সেবক। মক্কা থেকে এসেছি তাওহীদ গ্রহণ করতে।’
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার সব কথা শুনে দুঃখে বিগলিত হ’লেন। অতঃপর তাকে ‘যুল বাজাদায়েন’ (দুই টুকরা কম্বল ওয়ালা) উপাধিতে সম্মোধন করে বললেন,
‘হে ‘যুল বাজাদায়েন’ (দুই টুকরা কম্বল ওয়ালা)! ‘তুমি আর উযযার দাস নও, তুমি আল্লাহ্’র দাস, আবদুল্লাহ। যাও তুমি আত্মোৎসর্গকারী আসহাবে সুফফার জামায়াতে প্রবেশ কর। আমার নিকট এই মসজিদেই তুমি থাকবে।’
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অপরিসীম ভালবাসতেন এই আবদুল্লাহ ‘যুল বাজাদায়েন’কে।
মসজিদের আঙিনায় অবস্থিত ‘আছহাবে ছুফফা’-র মধ্যে নতুন শামিল হওয়া আবদুল্লাহ বিপুল আগ্রহে কুরআন শিখতে থাকেন। তার উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত অনেক সময় মুছল্লীদের সালাতে ব্যাঘাত ঘটাতো। একদিন হযরত উমার (রাযিআল্লাহু আনহু) তার উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত সম্পর্কে অভিযোগ করলে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, ‘উমার, ওকে কিছু বলো না। এই আবেগের কল্যাণেই তো আল−াহ্ ও রাসূলের জন্য সে নিজের যথাসর্বস্ব বিসর্জন দিয়ে এসেছে’।
এমন সময় তাবুকের যুদ্ধের ঘোষণা চলে আসে। আবদুল্লাহ ছুটে এলেন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দরবারে। এসে যুদ্ধে যাবার অনুমতি চাইলেন। দয়ার নাবী তাকে গাছের একটা ছাল নিয়ে আসতে বললেন। ছালটি নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার হাতে বেঁধে দিয়ে আল্লাহরনিকটে দু’আ করলেন, ‘হে আল্লাহ! আমি কাফিরদের জন্য এর রক্ত হারাম করছি’। আবদুল্লাহ বললেন, হে আল্লাহ্’র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আমি যে শাহাদাতের কাঙাল’। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, যদি তুমি খাদ্যের সন্ধানে বের হও, আর রৌদ্রের উত্তাপ বেড়ে যায় ও তোমার মৃত্যু হয়, তাতেও তুমি শহীদ হিসাবে গণ্য হবে’। এতে বুঝা যায় যে, শাহাদাতের আন্তরিক আকাংখা নিয়ে বিছানায় মৃত্যুবরণ করলেও তিনি শহীদ হিসাবে গণ্য হবেন। মহান রব্ব আল্লাহ্ পাকের ইচ্ছায় হযরত আবদুল্লাহ’র ভাগ্যে সেটাই ঘটে গেল। তাবুক পৌঁছার পর হঠাৎ রৌদ্রতাপ বেড়ে গেলে প্রচন্ড গরমে জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সেখানেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
তাবুকের প্রান্তর। নির্জন রাত। নিঝুম অন্ধকার। বাতাসও যেন নিরব-নিস্তব্ধ। অসহনীয় গরম। ঘাম ঝরছে অবিরাম। হঠাৎ আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদের ঘুম ভেঙে গেল। অস্থির হয়ে ওঠে বসলেন। পিপাসায় তার প্রাণ যায় যায় অবস্থা। পানির পাত্রটি ওঠিয়ে মুখে লাগালেন। পানি পান করছেন। হঠাৎ দেখতে পেলেন অদূরে একটি বাতি জ্বলছে। মাঠের এক প্রান্তে কিছু একটা নড়াচড়া করছে। কিছুক্ষণ অপলক তাকিয়ে রইলেন সেদিকে। দেখলেন, কিছু ছায়া ঘুরাফেরা করছে। ওগুলো কোনো মানুষের ছায়া হবে। কিন্তু গভীর নির্জন রাতে তবুকের প্রান্তরে ওরা আবার কারা? কী করছে এখানে? ওরা কি বিশেষ কোনো দায়িত্বে নিয়োজিত আমাদের দলের কেউ? নাকি শত্র“পক্ষের কেউ, যারা রাত্রিবেলায় অতর্কিত হামলা চালানোর জন্য একত্রিত হচ্ছে?
এরকম নানা প্রশ্ন তাঁর মনে উঁকি মারছে। এক সময় বাতিটি এক স্থানে এসে থেমে গেল। লোকেরাও সেখানে থেমে গেছে যারা বাতির সাথে ছিল। ব্যাপারটি জানার আগ্রহ জাগল তাঁর। তিনি উঠে দাঁড়ালেন এবং উদগ্রীব চিত্তে ছুটতে লাগলেন খুবই দ্রুতবেগে। অতি সন্তর্পণে। ইবনে মাসউদ সে স্থানে গিয়ে পৌঁছলেন; যেখানে বাতিটি থেমে গিয়েছিল। কী আশ্চর্য! সেখানে দেখলেন এক স্তুপ মাটি। মাটির স্তুপের ওপর জ্বলছে একটি বাতি। বাতির আলোয় ঝলমল করছে সাদা কাফনে আবৃত একটি লাশ। লাশটি ঘিরে আছে তিনজন লোক। গরমের রাতে যখন তাবুকের বি¯তৃত মাঠ অন্ধকারে নিমজ্জিত, তখন নি®প্রভপ্রায় একটি বাতির আলোতে একটি লাশ ও তিনজন লোকের চেহারা দেখা যাচ্ছে না। এ কেমন হৃদয় বিদারক ঘটনা! ইবনে মাসউদ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেলেন। ঠিক তখনই এক ব্যক্তি বাতিটির দিকে এগিয়ে এল। বাতির তৈল ফুরিয়ে গেছে। তৈল ঢালতে লাগল। ক্ষুধাতুর বাতি তৈলসিক্ত হতেই প্রজ্জ্বলিত হয়ে ওঠল। এই সুযোগে ইবনে মাসউদ চেরাগ হাতের সেই ব্যক্তিকে চিনে ফেললেন। সে আর কেউ নয; রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুওয়াযযিন বেলাল! ইবনে মাসউদ চিন্তায় পড়ে গেলেন। সেখানে শুধু বেলাল নয়; উমার এবং আবু বাকারও। তাদের সাথে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কেও দেখতে পেলেন তিনি। আর সাদা কাফনে আবৃত একটি লাশ। লাশটি আবদুল্লাহ যুল বাজাদায়েন (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর। কতই না সৌভাগ্যবান সেই লাশ! যার কাফন-দাফন স্বয়ং আবদুল্লাহ’র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর প্রিয় তিন জন সাথী সম্পাদন করছেন। আজ জীবিত আবদুল্লাহ’র চেয়ে মৃত আবদুল্লাহ্’র দেহ তুলনামূলক ভালো কাপড়ের (কাফন) দ্বারা আবৃত।
দাফনের সবকিছু প্রস্তুত। কি সৌভাগ্য আবদুল্লাহর। স্বয়ং হযরত আবু বকর (রাযিআল্লাহু আনহু) ও হযরত উমর (রাযিআল্লাহু আনহু) এগিয়ে এসে তাঁর দেহ কবরে নামাতে লাগলেন। বিলাল (রাযিআল্লাহু আনহু) তুলে ধরলেন প্রদীপ। আর মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যাকুল কন্ঠে তখন বলছেন, ‘সসম্ভ্রমে, সসম্ভ্রমে, তোমাদের ভ্রাতাকে সসম্ভ্রমে নামাও।’ বলতে বলতে স্বয়ং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কবরে নেমে পড়লেন এবং অশ্রুসিক্ত নয়নে সাথীদ্বয়কে বললেন, এসো, ‘আমার ভাই’কে আমার কাছে দাও, আমার হাতেই তাকে দাফন করি…! আবদুল্লাহ’র দেহ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর হাতে দেয়া হল। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বরকতময় হাত দ্বারা লাশটি কবরে রাখলেন। অতঃপর তাকে কবরে কাত করে শোয়ানোর সময় তিনি বলেন, ‘হে আল্লাহ! আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত আমি এ যুবকের উপরে সন্তুষ্ট ছিলাম। আপনিও তার উপরে সন্তুষ্ট হয়ে যান’। তাবুকের নির্জন প্রান্তরটি আজ ধন্য। ধন্য সেই কবরটিও। নাবীজীর স্পর্শে ওরা গর্বিত। এভাবেই তাবুকের নির্জন, অন্ধকার রাত্রে দাফন সম্পন্ন হল তাঁর। আবদুল্লাহ যুল বাজাদায়েন (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর দাফনকার্যের এই দৃশ্য দেখে আবদুল্লাহ্ ইবনে মাসঊদ (রাযিআল্লাহু আনহু) বলে ওঠেন, ‘হায়! এই কবরে যদি আমি হ’তাম!’ [সীরাতে ইবনে হিশাম ২/৫২৮]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s