ইসলামী জ্ঞানকোষ

প্রশ্ন: যে বিষয়সমূহে শিক্ষা লাভ করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য (ফরয), সে বিষয়সমূহ কী ?

উত্তর: যে বিষয়সমূহে শিক্ষা লাভ করা প্রতিটি মানুষের কর্তব্য (ফরয), সে বিষয়সমূহ হলো:

(এক) ইলম বা জ্ঞান অর্জন। এমন জ্ঞান অর্জন করা, যদ্বারা দলীল-প্রমাণ সহ আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীন-এর এবং দ্বীন ইসলামের প্রকৃত পরিচয় লাভ করা যায়।

(দুই) এ জ্ঞানকে কার্যে পরিণত করা তথা অর্জিত উক্ত ইলম অনুযায়ী আমাল করা।

(তিন) আল্লাহর নির্দেশিত এবং রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর প্রদর্শিত দ্বীনের প্রতি মানবজাতিকে আহবান করা।

(চার) এই দাওয়াতী কর্তব্য পালনে সম্ভাব্য সকল কষ্ট ও বিপদ-আপদে ধৈর্য্যধারণ করা।

প্রশ্ন: এই কথাগুলোর স্বপক্ষে প্রমাণ কী?

উত্তর: এর প্রমাণ হলো আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র এ বাণী-

“সময়ের কসম, নিশ্চয়ই মানুষ মহাক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। কিন্তু তারা ব্যতীত, যারা ঈমান এনেছে এবং আমালে সালেহ্ (সৎ কাজ) করেছে এবং পরস্পরকে হক্বের (সত্য গ্রহণের) উপদেশ দিয়েছে এবং একে অন্যকে ধৈর্য্যধারণের উপদেশ দিতে থেকেছে।” (সূরা আল আছর ১০৩:১-৩)

প্রশ্ন: জ্ঞান অর্জনের পূর্বে কথা ও কাজ, না কথা ও কাজের পূর্বে  জ্ঞান অর্জন করা কর্তব্য ?

উত্তর: কথা বলা ও কাজ করার পূর্বে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। এর প্রমাণ হলো, আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র এ বাণী:

“অতএব, হে নাবী! ভাল করে জেনে নাও, আল্লাহ্ ছাড়া আর কেউ ইবাদাতের যোগ্য নয়৷ ক্ষমা প্রার্থনা করুন নিজের ত্রুটির জন্য এবং মু’মিন পুরুষ ও নারীদের জন্যও। আল্লাহ্ তোমাদের আর আল্লাহ্ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে অবহিত।” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৯)

এ আয়াতে দেখা যায় যে, আলাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা কথা ও কাজের পূর্বে জানার তথা জ্ঞান অর্জনের নির্দেশ দিয়েছেন। তাইতো ইমাম বুখারী (রহিমাহুল্লাহু) সহীহ বুখারীতে “কথা ও কাজের পূর্বে জ্ঞান” শিরোনামে একটি পৃথক অনুচ্ছেদই রেখেছেন।

প্রশ্ন: যে তিনটি বিষয় সম্পর্কে জানা এবং তদনুযায়ী আমাল করা প্রতিটি মুসলমানের অবশ্য কর্তব্য সে বিষয় গুলো কি ?
উত্তর: সে বিষয়গুলো হলো-

(এক) আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আমাদেরকে রিযিক দান করেছেন অতঃপর তিনি আমাদেরকে অনর্থক ছেড়ে দেননি বরং আমাদের প্রতি (বিশেষ বার্তা দিয়ে) রাসূল পাঠিয়েছেন। তাই যে ব্যক্তি আল্লাহ্র প্রেরিত রাসূলের আনুগত্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে রাসূলের অবাধ্যতা বা নাফরমানি করবে সে জাহান্নামের অধিবাসী হবে। এ কথার প্রমাণ:

“আমি তোমাদের কাছে একজন রাসূলকে তোমাদের জন্যে সাক্ষী করে প্রেরণ করেছি, যেমন প্রেরণ করেছিলাম ফির‘আউনের কাছে একজন রাসূল। অতঃপর ফির‘আউন সেই রাসূলকে অমান্য করলো, ফলে আমি তাকে কঠিন শাস্তি  দিয়েছি।” (সূরা মুয্যাম্মিল ৭৩:১৫-১৬)

(দুই) আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা তাঁর সাথে কাউকে শরীক করা আদৌ পছন্দ করেন না। যদি কেউ শরীক করে তবে তার কোন আমল আল্লাহ্ কবুল করবেন না, সে হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত এবং তার স্থান হবে জাহান্নামে। এ কথার প্রমাণ:

“এবং এই ওহীও করা হয়েছে যে, মাসজিদসমূহ আল্লাহ তা’আলাকে স্মরণ করার জন্য। অতএব, তোমরা আল্লাহ্’র সাথে কাউকে ডেকো না।” (সূরা আল জ্বীন ৭২:১৮)

“তোমার প্রতি এবং তোমার পূর্বে গত হওয়া সকল নাবী রাসূলদের প্রতি এই ওহী পাঠানো হয়েছে যে, যদি তুমি র্শিক করো, তাহলে তোমার সকল আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত।” (সূরা আয যুমার ৩৯:৬৫)

“কিন্তু যদি তারা কোন র্শিক করে, তাহলে তারা যত আমলই করুক না কেন তা ধ্বংস হয়ে যাবে।” (সূরা আনআ’ম ৬:৮৮)

“আল্লাহ্ তাঁর সাথে র্শিক করার গুনাহ মাফ করবেন না। র্শিক ছাড়া অন্যান্য যে সব গুনাহ রয়েছে সেগুলো যাকে ইচ্ছা মাফ করে দিবেন।” (সূরা নিসা ৪:৪৮)

“যে ব্যক্তি আল্লাহ্’র সাথে কাউকে শরীক করেছে তার ওপর আল্লাহ্ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নাম। আর এ ধরনের জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৭২)

(তিন) যে ব্যক্তি মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর আনুগত্য করবে এবং কথায়, কাজে ও অন্তরে আল্লাহকে এক ও একক স্বীকার করবে, তার জন্য আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের অবাধ্য-নাফরমানদের সাথে বন্ধুত্ব রাখা জায়িয নয়। এ কথার প্রমাণ:

“যারা আল্লাহ্ ও আখিরাতে বিশ্বাস করে, তাদেরকে আপনি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের বিরুাচরণকারীদের সাথে বন্ধুত্ব করতে দেখবেন না, যদিও তারা তাদের পিতা, পুত্র, ভাই অথবা জ্ঞাতি-গোষ্ঠী হয়। তাদের অন্তরে আল্লাহ্ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন; যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ্ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে। (সূরা আল মুজাদালাহ্ ৫৮:২২)

প্রশ্ন: খাঁটি দ্বীনে ইবরাহীম কি?

উত্তরঃ খাঁটি দ্বীনে ইবরাহীম হলো, ইখলাসের সাথে (একনিষ্টভাবে খাঁটি মনে) শুধুমাত্র এক আল্লাহর ‘ইবাদাত করা। সমগ্র মানব জাতিকে আল্লাহ্  সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা এ কাজেরই নির্দেশ দিয়েছেন এবং এ জন্যই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন। এ কথার প্রমাণ :
“আর আমি জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে, তারা একমাত্র আমার ইবাদাত করবে।” (সূরা আয যারিয়াত ৫১:৫৬)

প্রশ্ন: “আমারই ইবাদাত করবে” কথাটির অর্থ কী?

উত্তর: এ কথার অর্থ হলো- ইবাদাতে আল্লাহ্’কেই একক ও অদ্বিতীয় নির্ধারণ করবে এবং একমাত্র আল্লাহ্’রই আদেশ ও নিষেধ মেনে চলবে। তবে ইবাদাত শব্দটিকে শুধু নামায, রোযা, হজ্জ, যাকাত এবং এ ধরনের অন্যান্য ইবাদাত অর্থে ব্যবহার করা হয়নি। তাই যদি কেউ ইবাদাতকে এ সংকীর্ণ অর্থে গ্রহণ করে যে, জিন ও মানুষকে আল্লাহ্ শুধু নামায পড়া, রোযা রাখা এবং তাসবীহ তাহলীল করার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে তবে সে আল্লাহ্’র সৃষ্টি করার প্রকৃত উদ্দেশ্যই উপলব্ধি করতে পারেনি। কারণ একমাত্র আল্লাহ্’র ইবাদাত-এর পূর্ণাংগ অর্থ হচ্ছে, জিন ও মানুষকে একমাত্র আল্লাহ্ ছাড়া অন্যের দাসত্ব, আইনের আনুগত্য, উপাসনা, আদেশ পালন ও বিনীত প্রার্থণার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। অর্থাৎ আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো সামনে নত না হওয়া, আল্লাহ্ তা’য়ালার আনুগত্যের মোকাবেলায় অন্য কারও আনুগত্য অবলম্বন না করা, অন্য কারো আইন-বিধান পালন না করা, অন্য কাউকে ভয় না করা, অন্য কারো রচিত দ্বীন বা আদর্শের অনুসরণ না করা, অন্য কাউকে নিজের ভাগ্য নিয়ন্তা মনে না করা প্রভৃতিকেই একত্রে ইবাদাত বলে। (আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন, সূরা সাবা’র, আয যুমার, আল জাসিয়া’র ব্যাখ্যা/টীকা)।

প্রশ্ন: আল্লাহর আদেশকৃত সর্বপ্রথম বিষয়টি কী?

উত্তর: আল্লাহ’র আদেশকৃত সর্বপ্রথম বিষয় হলো- ‘‘তাওহীদ’’ তথা আল্লাহর এককত্ব প্রতিষ্ঠা।

প্রশ্ন: তাওহীদ অর্থ কী?

উত্তর: তাওহীদ অর্থ হলো, আল্লাহকে তাঁর নাম, সত্তা, গুণাবলী, ক্ষমতা ও অধিকারে এক ও একক জানা এবং মানা।

প্রশ্ন: আল্লাহ’র নিষেধকৃত সর্বপ্রধান বিষয়টি কী?

উত্তর: আল্লাহ’র নিষেধকৃত সর্বপ্রধান বিষয় হলো “র্শিক”।

প্রশ্ন: র্শিক কী?

উত্তর: র্শিক হলো আল্লাহর নাম, সত্তা, গুণাবলী, ক্ষমতা ও অধিকারে অন্য কাউকে বা কোন কিছুকে অংশীদার সাব্যস্ত করা।

প্রশ্ন: এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এর প্রমাণ হলো আল্লাহ্ তা‘আলার এ বাণী:

“আর উপাসনা কর আল্লাহর এবং শরীক করো না তার সাথে অপর কাউকে।” (সূরা আন্ নিসা ৪:৩৬)

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন:

“অতএব, আল্লাহ্’র সাথে তোমরা অন্য কাউকেও সমকক্ষ করো না।” (সূরা আল-বাক্বারাহ্ ২:২২)

প্রশ্ন: যে তিনটি মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করা, সেগুলো কার্যে  পরিণত করা তথা বাস্তবায়ন করা এবং যে মূলনীতি গুলোর প্রতি আহবান জানানো প্রত্যেক মানুষের অবশ্য কর্তব্য (ফরয) তা কী?

উত্তর: সে তিনটি মূলনীতি হলো :

(১) বান্দাহ্’র জন্য তার একমাত্র রব্বের পরিচয় লাভ করা

(২) তাঁর মনোনীত একমাত্র দ্বীন-ইসলামের পরিচয় লাভ করা

(৩) তাঁর সর্বশেষ নাবী ও রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর জীবন ও কর্ম পরিচয় লাভ করা।

প্রশ্ন: আমাদের রব্ব কে ?

উত্তর: আমাদের একমাত্র রব্ব হলেন আল্লাহ্। যিনি আমাকে এবং সমগ্র বিশ্বকে তাঁর অশেষ নিয়ামাত (দান ও অনুগ্রহ) দ্বারা প্রতিপালন করছেন। তিনিই হলেন আমাদের একমাত্র সার্বভৌম মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা, তিনি ব্যতীত দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা লাভের সত্তা আর কেউ নেই।

প্রশ্ন: এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এ কথার প্রমাণ হলো আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র এ বাণী:

“যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহ্ তা‘আলার, যিনি সমগ্র সৃষ্টি জগতের রব্ব।” (সূরা আল ফাতিহা ১:১)

একমাত্র আল্লাহ্ তা‘আলা ব্যতীত সকল কিছুই হলো তাঁর সৃষ্টি, আর আমি সহ সকল মানুষ তাঁর সৃষ্ট পৃথিবী নামক এক গ্রহের বাসিন্দা তথা আল্লাহর এক সৃষ্টি বা মাখলূক্ব।

প্রশ্ন: কিসের দ্বারা আমরা মহান রব্বের পরিচয় লাভ করলাম?

উত্তর: আসমান ও জমীনের মধ্যবর্তী যা কিছু রয়েছে সে সবের দ্বারা আমরা আমাদের মহান রব্বের পরিচয় লাভ করেছি।
প্রশ্ন: এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এর প্রমাণ হলো কুরআনুল কারীমের নিম্নের আয়াত সমূহ:

“তাঁর নিদর্শন সমূহের মধ্যে রয়েছে রাত, দিন, সূর্য ও চন্দ্র। তোমরা সূর্যকে সিজদাহ করো না, চন্দ্রকেও না। তোমরা সিজদাহ করো সেই আল্লাহকে যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন, যদি তোমরা বাস্তবিকই কেবল তাঁরই ইবাদাতকারী হও।” (ছূরা হা-মীম আস সিজদাহ/ফুসসিলাত ৪১:৩৭)

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন:

“প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ্ই তোমাদের রব্ব, যিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলকে ছয় দিনে সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর আরশের উপর অধিষ্ঠিত হয়েছেন। তিনি রাতকে দিনের উপর সমাচ্ছন্ন করে দেন এমতাবস্থায় যে, রাত দ্রুত গতিতে দিনের অনুসরণ করে চলে। তিনি সৃষ্টি করেছেন সূর্য, চন্দ্র ও নক্ষত্র, এগুলো তাঁর নির্দেশে পরিচালিত। জেনে রাখো, সৃষ্টি করা এবং আদেশ প্রদানের মালিক তিনিই। আল্লাহ্ বরকতময় যিনি বিশ্ব জগতের রব্ব।” (সূরা আল আ‘রাফ ৭:৫৪)

প্রশ্ন: রব্ব বলতে কী বুঝায়?

উত্তর: রব্ব বলতে বুঝায়: সৃষ্টিকর্তা, পালনকর্তা, রক্ষাকর্তা, শৃংখলা বিধানকারী, পূর্ণতাদানকারী, হাশরের ময়দানে একত্রে জমাকারী, সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক, বিবর্তক, বিধানদাতা, নিরংকুশ কর্তা, মালিক, ক্রমোন্নতি বিধায়ক, প্রভু, প্রতিপালক, ।

প্রশ্ন: এর প্রমাণ কী?

উত্তর: দেখুন: তাফসীরে ইবনে কাছীর ১ম খন্ড, সূরা ফাতিহা বাংলা অনুবাদ, আল্লামা আশরাফ আলী থানবী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) কৃত মুনাজাতে মকবুল, ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক প্রকাশিত আল কুরআনুল করীম, সূরা আল ফাতিহার টীকা, লিসানুল আরব ৩য় খন্ড, ৫৪৫ পৃষ্ঠা, মিছবাহুল লুগাত ২৭২ পৃষ্ঠা, সূরা আল বাক্বারাহ ২:২১-২২, সূরা মু’মিন ৪০:৬২-৬৮, সূরা আরাফ ৭:৪, সূরা যুমার ৩৯:৫-৬, সূরা ফাতির ৩৬:১১-১৪, সূরা শুয়ারা ২৬:৭৭-৮২ ইত্যাদি।

প্রশ্ন: সৃষ্টির প্রতি রব্বের হক্ব কী?

উত্তর: সমগ্র সৃষ্টি দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনার মাধ্যমে শুধুমাত্র রব্বেরই ইবাদাত করবে।

প্রশ্ন: এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এ কথার প্রমাণ হলো আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র এ বাণী:

“হে মানব সমাজ! তোমরা তোমাদের রব্বের ইবাদাত কর, যিনি তোমাদিগকে এবং তোমাদের পূর্ববর্তীদিগকে সৃষ্টি করেছেন। আশা করা যায় তাতে হয়তো তোমরা তাক্ওয়া অর্জন করতে পারবে।” (সূরা আল বাক্বারাহ ২:২১)

নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব্ব এবং তোমাদেরও রব্ব; কাজেই তোমরা তাঁর ইবাদাত করো। এটিই সরল-সঠিক পথ। (সূরা আলে ইমরান ৩:৫১,  সূরা মারিয়াম ১৯:৩৬, সূরা যুখরুফ ৪৩:৬৪)

প্রশ্ন: ইবাদাত কী, ইবাদাত বলতে কি বুঝায়?

উত্তর: ইবাদাত হলো চুড়ান্ত বিনয় ও বশ্যতা প্রদর্শন, দাসত্ব, আনুগত্য ও উপাসনা এবং সাথে সাথে যার প্রতি এরূপ বশ্যতা ও বিনয় প্রদর্শন করা হবে, যার দাসত্ব, আনুগত্য ও উপাসনা করা হবে তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ ভালবাসা ও সুগভীর আন্তরিক সম্পর্ক পোষণ। অন্য কথায়, বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীন, দৃশ্যমান কিংবা অদৃশ্য যতসব কাজ আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা ভালবাসেন বা পছন্দ করেন সেসব কাজের সামষ্টিক নাম হলো ইবাদাত। আর সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র মহান রব্ব আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র জন্যই সুনির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত।

প্রশ্ন: সকল প্রকার ইবাদত একমাত্র আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র জন্য সুনির্দিষ্ট ও সুনির্ধারিত, এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এ কথার প্রমাণ হলো আল্লাহ্ তা‘আলা’র এ বাণী:

“এবং নিশ্চয়ই মাসজিদ সমূহ আল্লাহ’র জন্যে, সুতরাং তোমরা আল্লাহ’র সাথে অন্য কাউকে ডেকো না।” (সূরা আল জ্বিন ৭২:১৮)

আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা আরো ইরশাদ করেছেন:

“তোমার রব্ব ফায়সালা করে দিয়েছেন যে, তোমরা একমাত্র তাঁর ইবাদাত ব্যতীত আর কারো ইবাদাত করো না।” (সূরা বণী ইসরাঈল ১৭:২৩)

‘আমি মানুষ ও জ্বিন জাতিকে সৃষ্টি করেছি একমাত্র আমার ইবাদাত করার জন্য।’ (সূরা যারিয়াত ৫১:৫৬)

“(হে নবী!) বলো, হে আহলে কিতাবরা! এসো এমন একটি কথার ওপর আমরা একমত হই, যে ব্যাপারে তোমাদের ও আমাদের মাঝে কোন বিরোধ নেই। তা হলো- আমরা আল্লাহ্ ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত-দাসত্ব, আনুগত্য ও উপাসনা করবো না। তার সাথে কাউকে শরীক করবো না। আর আমরা আল্লাহর পরিবর্তে অন্য কাউকে রব্ব হিসেবে গ্রহণ করবো না।” (সূরা আলে-ইমরান ৩:৬৪)

প্রশ্ন: আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র  নির্দেশিত ইবাদাত কত প্রকার?

উত্তর: আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র নির্দেশিত ইবাদাতের সংখ্যা অনেক। তন্মধ্যে হচ্ছে যেমন: ইসলাম, ঈমান, ইহসান, দো‘আ, ভয়, আশা, ভরসা বা নির্ভরতা, আনুগত্য, অনুরাগ/ আগ্রহ।

প্রশ্ন: যে ব্যক্তি সামান্য পরিমান ইবাদাত আল্লাহ্ ব্যতীত অন্য কারো উদ্দেশ্যে নিবেদন করে, ইসলামের দৃষ্টিতে সে কী?

উত্তর: শরী‘য়তে ইসলামিয়াহ’র দৃষ্টিতে সে হলো মুশরিক (অংশীবাদী)।

প্রশ্ন: এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এর প্রমাণ হলো আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র এ বাণী:

“যে কেউ আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্যকে ডাকে যার ব্যাপারে তার কাছে কোন প্রমাণ নেই, তাহলে তার হিসাব তার পালনকর্তার কাছে রয়েছে, নিশ্চয় কাফিররা সফলকাম হবে না। (সূরা আল মু‘মিনূন ২৩:১১৭)

প্রশ্ন: “দো‘আ” যে একপ্রকার ইবাদাত, এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: প্রমাণ হলো আল্লাহ্ তা‘আলা’র এ বাণী:

“তোমাদের রব্ব বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব। নিশ্চয়ই যারা অহংকার বশে আমার ইবাদাত থেকে বিমূখ থাকে, তারা অচিরেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্ছিত হয়ে।” (সূরা গাফির/মু’মিন ৪০:৬০)

ছুন্নাহ থেকে এর প্রমাণ হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “দো‘আ হলো ইবাদাতের সার।” (তিরমিযী)

অন্য বর্ণনায় বর্ণিত রয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “দো‘আই হলো ইবাদাত।” (মুসনাদে আহমদ, সুনানে আবী দাউদ)

প্রশ্ন: “অজানা ভয় বা আশংকা করা” একপ্রকার ইবাদাত, এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এ কথার প্রমাণ হলো আল্লাহ্ তা‘আলা’র এ বাণী:

“ সুতরাং তোমরা তাদের ভয় করো না। বরং আমাকে ভয় কর, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক।” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৭৫)

প্রশ্ন: “আশা করা” একপ্রকার ইবাদাত, এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এ কথার প্রমাণ হলো আল্লাহ্ তা‘আলা’র এ বাণী:

“অতএব, যে ব্যক্তি তার রব্বের সাক্ষাত কামনা করে, সে যেন আমালে সালেহ করে এবং তার রব্বের ইবাদাতে কাউকে শরীক না করে। (সূরা ক্বাহ্ফ ১৮:১১০)

প্রশ্ন: “ভরসা করা বা তাওয়াক্কুল” এক প্রকার ইবাদাত, এ কথার প্রমাণ কী?

উত্তর: এর প্রমাণ হলো কুরআনুল কারীমের নিম্নোক্ত আয়াত সমূহ:
“আর আল্লাহ’র উপর ভরসা করো যদি তোমরা মু’মিন হও।” (সূরা আল মায়িদাহ ৫:২৩)

“যে কেউ আল্লাহ্’র উপর ভরসা করবে, তাহলে আল্লাহ্ই তার জন্য যথেষ্ট।” (সূরা আত্ তালাক্ব ৬৫:৩)

প্রশ্ন: “অনুরাগ/আগ্রহ, ভীতি ও বিনয়” এগুলো প্রতিটি যে এক এক প্রকার ইবাদাত, এর প্রমাণ কী?

উত্তর: এর প্রমাণ হলো আল্লাহ্ সূবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র এ বাণী:

“তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, এবং তারা  গভীর আগ্রহ ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার প্রতি বিনীত।” (সূরা আল আম্বিয়া ২১:৯০)

প্রশ্ন: সালাতের প্রত্যেক রাকাতে আমরা মহান রব্ব আল্লাহ’র নিকট কী প্রার্থণা করি?

উত্তর: হে মহান রব্ব “আমাদেরকে সরল-সঠিক পথে (সিরাতাল মুস্তাক্বীমে)পরিচালিত করো, সে সমস্ত লোকের পথ, যাদেরকে তুমি নেয়ামত দান করেছ। তাদের পথ নয়, যাদের প্রতি তোমার গজব নাযিল হয়েছে এবং যারা পথভ্রষ্ট হয়েছে।” (সূরা আল ফাতিহা ১:৬-৭)

প্রশ্ন: সিরাতুল মুস্তাক্বীমসরল-সঠিক পথ কোনটি?

উত্তর: “নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার রব্ব এবং তোমাদেরও রব্ব; কাজেই তোমরা তাঁর ইবাদাত করো। এটিই সিরাতুল মুস্তাক্বীম-সরল-সঠিক পথ।” (সূরা আলে ইমরান ৩:৫১,  সূরা মারিয়াম ১৯:৩৬, সূরা যুখরুফ ৪৩:৬৪)

প্রশ্ন: মহান আল্লাহ কোথায় অবস্থান করেন?

উত্তর: মহান আল্লাহ আরশে আযীমের উপর অবস্থান করেন। আল্লাহ’র কথাই এর দলীল। আল্লাহ তায়ালা বলেন:

‘(তিনি আল্লাহ বলেন) পরম দয়াময় আরশের উপর সমাসীন রয়েছেন। [সূরা ত্বা-হা ২০:৫]

মহান আল্লাহ আসমানের উপর বা আরশে আযীমের উপর সমাসীন-সমুন্নত আছেন, এই অর্থে কুরআন মাজীদের ৭টি আয়াত রয়েছে- আল ফুরকান ২৫:৫৯, ত্ব-হা ২০:৫, আর রা’দ ১৩:২, ইউনূছ ১০:৩, আরাফ ৭:৫৪, হাদীদ ৫৭:৪, আস সাজদাহ ৩২:৪। অতএব যারা দাবী করেন যে, মহান আল্লাহ সর্ব জায়গায় বিরাজমান, অথবা তিনি মুমিন বান্দার ক্বলবের ভিতর অবস্থান করেন, আর মু‘মিন বান্দার ক্বলব বা অন্তর হলো আল্লাহর আরশ বা ঘর। তাদের এ সমস্ত দাবী কতটুকু ভিত্তি রাখে তা জ্ঞানীদের বুঝা কোন সমস্যা নয়।

প্রশ্ন: মহান আল্লাহ পাকের চেহারা মোবারক অর্থাৎ মূখমন্ডল আছে কি? থাকলে তার দলীল কী?

উত্তর: হাঁ, মহান আল্লাহ পাকের চেহারা মোবারক অর্থাৎ মূখমন্ডল আছে। আল্লাহ পাকের কথাই এর দলীল ।

ভূপৃষ্ঠের সবকিছুই ধ্বংস হয়ে যাবে। তবে (হে রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনার মহিমাময় ও মহানুভব রব্বের চেহারা মুবারক অর্থাৎ সত্তাই একমাত্র বাকী থাকবে। (আর-রাহমান ৫৫:২৬-২৭)

প্রশ্নঃ মহান আল্লাহ’র কি হাত আছে? থাকলে তার দলীল কী?

উত্তরঃ মহান আল্লাহ’র হাত আছে, আল্লাহ’র কথাই এর দলীল।

‘আল্লাহ বললেন, হে ইবলীস ! আমি নিজ দু’হাতে যাকে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদা করতে তোমাকে কিসে বাঁধা দিল? (ছোয়াদ ৩৮:৭৫)

প্রশ্ন: মহান আল্লাহ’র কি চক্ষু আছে? থাকলে তার দলীল কী?

উত্তরঃ হাঁ, মহান আল্লাহর চক্ষু আছে। আল্লাহর কথাই এর দলীল। যেমন তিনি হযরত মূসা (আলাইহিস সালাম) কে লক্ষ্য করে বলেছিলেন:

‘আমি আমার নিকট হতে তোমার উপর ভালবাসা ঢেলে দিয়েছিলাম, যাতে তুমি আমার চোখের সামনে প্রতিপালিত হও। (ত্বা-হা ২০:৩৯) এমনিভাবে আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে শান্তনা দিতে যেয়ে বলেন:

‘(হে রাসূল! সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনি আপনার রব্বের নির্দেশের অপেক্ষায় ধৈর্যধারণ করুন, আপনি আমার চোখের সামনেই রয়েছেন। (আত-তূর ৫২:৪৮)

প্রশ্ন: মহান আল্লাহ শুনেন এবং দেখেন, এর দলীল কী?

উত্তর: মহান অল্লাহ শুনেন এবং দেখেন। আল্লাহ’র কথাই এর দলীল। যেমন তিনি বলেন,

‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা শ্রবণ করেন ও দেখেন। (আল-মুজাদালাহ ৫৮:১)

প্রশ্ন: মানুষের শ্রবণ শক্তি ও দর্শন শক্তি, অপর দিকে মহান আল্লাহর শ্রবণ শক্তি ও দর্শন শক্তি, এ দু’য়ের মাঝে কোন পার্থক্য আছে কী?

উত্তর: হাঁ, মানুষেরা কানে শুনে ও চোখে দেখে, অপর দিকে মহান আল্লাহ শুনেন ও চোখে দেখেন, এ দু’য়ের মাঝে অবশ্যই বিরাট পার্থক্য রয়েছে। মহান আল্লাহ’র কথাই এর দলীল। যেমন তিনি বলেন,

‘আল্লাহর সাদৃশ্য কোন বস্তুই নাই এবং তিনি শুনেন ও দেখেন। (শূরা ৪২:১১)

বাস্তবতার আলোকে চিন্তা করলে আমরা বুঝতে পারি যে, নি:সন্দেহে মানুষের দৃষ্টিশক্তি ও শ্রবণশক্তির একটা নির্ধারিত আয়তন, সীমা বা দুরত্ব আছে যার ভিতরের বস্তু গুলি মানুষেরা সহজে চোখে দেখতে পায় এবং আওয়ায বা শব্দ সমূহ সহজে কানে শুনতে পায়। তবে ঐ নির্ধারিত সীমা বা দূরত্বের বাইরে চলে গেলে তখন মানুষ আর কিছুই চোখে দেখতেও পায় না আর শুনতে পায় না। অপর দিকে মহান আল্লাহর দর্শনশক্তি ও শ্রবন শক্তির জন্য নির্ধারিত কোন সীমা বা দুরত্ব বলতে কিছুই নেই। যেমন মানুষেরা ২/৩ হাত দূর থেকে বইয়ের ছোট অক্ষরগুলি দেখে পড়তে পারে, কিন্তু ৭/৮ হাত দূর থেকে ঐ অক্ষরগুলি আর পড়া সম্ভব হয় না।

এমনিভাবে মানুষের চোখের সামনে যদি সামান্য একটা কাপড় বা কাগজের পর্দা ঝুলিয়ে রাখা হয় তাহলে ঐ কাপড় বা কাগজের ওপাশে সে কিছুই দেখতে পায় না। এমনিভাবে মানুষেরা গভীর অন্ধকার রাতে কিছুই দেখতে পায় না। অপর দিকে মহান আল্লাহ তা‘আলা অমাবস্যার ঘোর অন্ধকার রাতে কাল পাহাড় বা কাল কাপড়ের উপর দিয়ে কাল পিঁপড়া চলাচল করলেও সেই পিঁপড়াকে দেখতে পান এবং তার পদধ্বনি শুনতে পান।

প্রশ্ন: একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার আর কেউ গায়েবের খবর রাখে কী?

উত্তর: না, একমাত্র মহান আল্লাহ ছাড়া দুনিয়ার আর কেউ গায়েবের খবর রাখে না। আল্লাহ তাআলার কথাই এর দলীল। যেমন তিনি বলেন:

অর্থ:‘নিশ্চয়ই আমি আাল্লহ আসমান ও যমীনের যাবতীয় গোপন বিষয় সম্পর্কে খুব ভাল করেই অবগত আছি এবং সে সব বিষয়েও আমি জানি যা তোমরা প্রকাশ কর, আর যা তোমরা গোপন রাখ। (বাক্বারাহ ২:৩৩) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:

“সেই মহান আল্লাহর কাছে অদৃশ্য জগতের সমস্ত চাবি রয়েছে। সেগুলো একমাত্র তিনি ছাড়া আর কেহই জানেন না।” (আনআম ৬:৫৯)

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s