এক নজরে আল-ক্বুরআন

Quranআরবী (الْقُرْآن) ক্বুরআন শব্দের অর্থ : পাঠ করা, বেশি বেশি পড়া, অধিকহারে পঠিত।
মহান আল্লাহ রাবুল আলামীন তাঁর সৃষ্ট জ্বীন ও মানুষ জাতির হিদায়াতের জন্য, তাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রিয় জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর আইন-বিধান ও পথ নির্দেশ সম্বলিত যে সকল ওহী জিব্রাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে তাঁর রাসূল হযরত মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উপর পর্যায়ক্রমে নাযিল করেছেন তার সমন্বয়ে সংকলিত কিতাবই আল কুরআন।
ক্বুরআন নাযিলের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য: মানুষকে পথভ্রষ্টতা থেকে বাঁচিয়ে হিদায়াত, মুক্তি ও কল্যাণের পথে তুলে নিয়ে আসার ক্বুরআনের প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
মৌলিক বৈশিষ্ট্য: পবিত্র ক্বুরআনুল কারীম মানব জাতির জন্য এক পরিপূর্ণ হিদায়াত গ্রন্থ, পার্থিব ও পারলৌকিক জীবনের প্রতিটি দিক ও বিভাগের সুস্পষ্ট নির্দেশনা এর মধ্যে নিহিত। যা আপন মহিমায় ভাস্বর, তুলনাহীন ও অপ্রতিদ্বন্দী মানব মুক্তির মহাস্মারক। আল-ক্বুরআন বিশ্বের ইতিহাসে একমাত্র নির্ভুল ও সন্দেহমুক্ত কিতাব, সর্বযুগের শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ, সর্বশেষ আসমানী গ্রন্থ, মানব জাতির ইহকালীন ও পরকালীন মুক্তির সনদ, ভারসাম্যপূর্ণ পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা, শ্বাশত আইন, অন্যতম সাহিত্য, রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর শ্রেষ্ঠ মু’জিযা।
আল ক্বুরআনের আরও কিছু বৈশিষ্ঠ্য: ১. আল ক্বুরআন হিদায়েতের শ্রেষ্ঠ আলোকবর্তিকা। ২. তাজকিয়ায়ে নফসের গাইড লাইন। ৩. ভ্রান্ত আক্বীদাহ্-বিশ্বাস অপনোদনে শাণিত তলোয়ার। ৪. শির্কমুক্ত সমাজ ব্যবস্থার প্রামাণ্য দলিল। ৫. পাপীদের হুশিয়ারি সংকেত। ৬. কুফরি মতবাদের মূলোৎপাটনকারী। ৭. জাহিলিয়্যাত নির্মূলের দিক নির্দশিকা। ৮. অন্ধকারে আলোকবর্তিকা। ৯. জ্ঞান-বিজ্ঞানের উৎস। ১০. শান্তি প্রতিষ্ঠার অনন্য মাধ্যম। ১১. ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার চিরস্থায়ী দলিল। ১২. সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ফর্মুলা। ১৩. সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের দিক নির্দেশনা। ১৪. বিশ্ব মানবতার মুক্তি সনদ। ১৫. জান্নাত লাভের চূড়ান্ত সিঁড়ি। ১৬. সৎকর্মশীলদের সুসংবাদদাতা। ১৭. আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রধান মাধ্যম। ১৮. সত্যপথ এবং বাতিল পথের পার্থক্য নির্দেশকারী। ১৯. সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবার গঠনের দিকনির্দেশক। ২০. পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহের সত্যায়নকারী। ২১. নারী ও পুরুষের অধিকারে ভারসাম্যতা আনয়নকারী। ২২. সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যনির্ণয়কারী। ২৩. কিয়ামত দিবসের পরিস্থিতির অগ্রীম বর্ণনা। ২৪. সুদমুক্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার প্রবক্তা। ২৫. শ্রেষ্ঠ উম্মতের ঘোষণাকারী। ২৬. অতীত ইতিহাসের স্মারক। ২৭. তাওহীদ ও রিসালাত সংরক্ষণকারী।
এ হচ্ছে একমাত্র কিতাব, যার মধ্যে কোন সন্দেহের লেশ মাত্র নেই। আর এটাই আল্লাহ-ভীরুদের জন্য হিদায়াত, পথনির্দেশ বা জীবন পরিচালনার পদ্ধতি। (সূরা বাকারাহ ২:২)
আল-কুরআনের অপর কয়েকটি নাম:
আল-হুদা
আল-ফুরকান
আন-নূর
আয-যিকর
কিতাবুল-মুবিন
আল-কালাম
কিতাবুল মাসানী
আল-হিকমত
কিতাবুল হাকীম
সিরাতুল-মুসত্দাকিম
আল হাদি
আল বোরহান
৮ টি পদ্ধতিতে ওহী নাযিল হয়েছে:
অন্তরে সরাসরি ঢেলে দেয়ার মাধ্যমে (ইলহামের মাধ্যমে)
ঘন্টাধ্বনির সাহায্যে
সত্য-স্বপ্নযোগে
হযরত জিব্রাইল (আলাইহিস সালাম) নিজ আকৃতিতে এবং হযরত দাহিয়াতুল ক্বালবী (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর আকৃতিতে উপস্থিত হয়ে
সরাসরি আল্লাহর বাণী শ্রবণ
মৌমাছির গুণগুণ শব্দের ন্যায়
এবং ইসরাফিলের মাধ্যম ওহী নাযিল হয়েছে।
কুরআনের সূরা ও আয়াতের প্রকারভেদ:
বিষয়ভিত্তিক আয়াত ৩ প্রকার : ১. হালাল ২. হারাম ৩. আমছাল
অর্থ বুঝার দিক দিয়ে ২ প্রকার : ১. মুহকামাত, ২. মুতাশাবেহাত।
নাজিলের দিক দিয়ে ২ প্রকার : ১. মাক্কী ২. মাদানী।
মাক্কী সূরা সংখ্যা : ৮৬টি।
মাদানী সূরা সংখ্যা : ২৮টি।
মাক্কী সূরা : সাধারণত যে সকল সূরা রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাক্কী জীবনে অর্থাৎ হিজরতের পূর্বে অবতীর্ণ হয়েছে তাদেরকে মাক্কী সূরা বলে।
মাক্কী সূরার বৈশিষ্ট্য :
এ সৃষ্টিজগতের মানুষ জাতিকে তাদের মহান মালিক আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ভিত্তি সম্পর্কে ধারণা দান। সৃষ্টিজগতের মাঝে মানুষের সঠিক অবস্থান নির্ণয়। রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দেয়া মহান দায়িত্ব পালনের উপযোগী উপদেশ। জীবন ও জগত সম্পর্কে প্রচলিত ভ্রান্ত ধারণা অপনোদন করে সঠিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠার চেষ্টা। জীন ও মানুষ জাতির ঈমান ও ইসলামের মৌলক বিষয়সমূহকে বিভিন্নভাবে পেশ করা, তাওহীদ, রিসালাত ও আখিরাতের বেশি চর্চা। মানুষের ঘুমন্ত বিবেক ও নৈতিকতাবোধ জাগ্রত করে চিন্তা শক্তিকে সত্য গ্রহণে আগ্রহী করা। প্রাথমিকভাবে সবগুলোর ভাষা স্বচ্ছ ঝর্না ধারার মত ঝরঝরে, ছোটছোট, ছন্দময়, সহজে মুখস্থ হবার উপযোগী।
মাক্কী সূরা ব্যক্তি গঠনে হেদায়াত পূর্ণ।
মাক্কী সূরায় ধৈর্যের উপদেশ, তাওহীদ বিরোধীতার জবাব ও মোকাবিলায় ক্ষমা ও সবরের উপদেশ দেয়া হয়েছে।
হিজরতের পূর্বে নাজিল হয়েছে।
অধিকাংশ সূরা ছোট ছোট।
মাদানী সূরার বৈশিষ্ট্য:
অধিকাংশ সূরা দীর্ঘ ।
হিজরতের পরে নাযিল।
সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের বিধান।
ফৌজদারী আইন, মিরাসী বিধান, বিয়ে-তালাক, যাকাত-উশর ইত্যাদীর নিয়ম কানুন।
দল, রাষ্ট্র, সভ্যতা ও সামাজিকতার ভিত্তি।
মুনাফিক, কাফির, জিম্মি, আহলে কিতাব যুদ্ধমান শত্রু, সন্ধিসুত্রে আবদ্ধ জাতির প্রতি আচরন।
জয় পরাজয়, বিপদ, নিরাপত্তা ও ভীতি ইত্যাদী অবস্থায় মুসলমানদের কর্তব্য।
পূর্ণাঙ্গ ক্বুরআন একসাথে আল্লাহর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর নাযিল করা হয়নি, বিভিন্ন সময় ভিন্ন ভিন্ন অবস্থা এবং ঘটনার পরিপেক্ষিতে আয়াত ও সূরা নাযিল হয়। পূর্ণাঙ্গ ক্বুরআন একত্রে সংকলিত করার পূর্বে বিভিন্ন পন্থায় তা সংরক্ষিত হয়েছে:
সাহাবীদের মুখস্থ করে অন্তকরনের মাধ্যমে
গাছের পাতায় লিখে
গাছের ছালে লিখে
পশুর চামড়ায় লিখে
পশুর হাড়ে লিখে
পাথরের গায়ে লিখে।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জীবিত থাকা অবস্থায় বিভিন্ন সাহাবীরা ক্বুরআন মুখস্থ করে নিয়েছিলেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে লিখে রেখে নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওফাতর পর হযরত আবুবকর (রাযিআল্লাহু আনহু) এর আমলে যখন ইয়ামামার যুদ্ধে ৭০ জন হাফেজে কুরআন শাহাদাত বরণ করেন তখন তিনি হযরত ওমর (রাযিআল্লাহু আনহু) এর পরামর্শক্রমে যায়েদ বিন সাবিত (রাযিআল্লাহু আনহু) এর নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করেন ও সংকলনের কাজ শুরু করেন। এর মূল এক কপি হযরত হাফসা (রাযিআল্লাহু আনহুমা) এর কাছে গচ্ছিত রাখেন। আরও পরে হযরত উসমান (রাযিআল্লাহু আনহু) তাঁর খিলাফতকালে সংরক্ষিত পাণ্ডুলিপিতে যে সাতটি ভাষায় কুরআন রচিত ও প্রচলিত ছিল তা হতে কুরাইশ ভাষা ব্যতীত বাকী সবগুলো পুড়িয়ে দেন ও সব ভাষার তিলাওয়াত লুপ্ত করেন। পরবর্তীতে এই পুনঃসংকলিত ক্বুরআনের একটি কপি আবার হযরত হাফসা (রাযিআল্লাহু আনহুমা) এর নিকট গচ্ছিত রাখেন এবং তা হতে কয়েকটি কপি (অনুলিপি) করে বিভিন্ন দেশের প্রধানদের কাছে প্রেরণ করেন।
এক নজরে আল কুরআন:
৬১০ খ্রিস্টাব্দ, রমাদ্বান মাসে মহিমান্বিত ক্বদরের রজনীতে হেরা পর্বতের গুহায় আল-ক্বুরআন নাযিল হয়। এ সম্পর্কে আল-ক্বুরআনে ইরশাদ হয়েছে- “রমাদ্বান মাস। এ মাসেই হেদায়াত গ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল করা হয়েছে, যাতে রয়েছে মানব জাতির জন্য সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা ও সত্য মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য করার জন্য উপদেশসমূহ।” (সূরা বাকারা ২:৮৫)
পূর্ণাঙ্গ আল- ক্বুরআন নাযিলের মোট সময়কাল ২২ বছর ৫ মাস ১৪ দিন।
ক্বুরআন নাযিল শেষ হয় হিজরী ১১ সালের সফর মাসে।
পারা: ৩০টি।
সূরা: ১১৪টি, মাক্কী ৯২টি, মাদানী ২২টি।
আয়াত সংখ্যা: হযরত আয়েশা (রাযিআল্লাহ আনহুমা) এর মতে- ৬৬৬৬ট, হযরত ওসমান (রাযিআল্লাহ আনহু) এর মতে-৬২৫০, হযরত আলী (রাযিআল্লাহ আনহু) এর মতে- ৬২৩৬টি, হযরত ইবনে মাসউদ (রাযিআল্লাহ আনহু) এর মতে-৬২১৮টি, মক্কার গনণা অনুযায়ী-৬২১২টি, বসরাবাসীর গণনা অনুযায়ী-৬২২৬টি, ইরাকবাসীর গণনা অনুযায়ী-৬২১৪টি।
মূলতঃ আয়াতর সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত দেয়ার কারণ হলো- রাসূলুল্লাহ্ (সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছু কিছু আয়াত তিলাওয়াতের সময় মাঝে কখনো থামতেন, কখনো আবার না থেমে মিলিয়ে পড়তেন। এই থামা বা বিরতির দিকে লক্ষ্য রেখে সাহাবীগণের কেউ কেউ বড় আয়াতকে দুই বা তিন আয়াত হিসেব করেছেন আবার কেউ কেউ একে এক আয়াত বলেই মত ব্যক্ত করেছেন, কেউ কেউ আবার ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম’ কে পৃথক আয়াত হিসেবে গণনা করেছেন। যদিও বর্তমানে বিশ্বব্যাপী পঠিত ক্বুরআনুল কারীমের নুসখায় হযরত আলী (রাযিআল্লাহ আনহু) এর মতটি বিদ্যমান অর্থাৎ ক্বুরআনুল কারীমের আয়াতসমূহকে ৬২৩৬টি আয়াতে ভাগ করা হয়েছে। তবে ঐতিহাসিকদের কাছে হযরত আয়েশা (রাযিআল্লাহ আনহুমা) এর মতটিই প্রসিদ্ধি লাভ করেছে অর্থাৎ আয়াত ৬৬৬৬টি।
মনজিল: ৭টি। যথা-(১) ফা (ﻒ) সূরায়ে ফাতিহা থেকে সূরায়ে নিসা পর্যন্ত। (২) মীম (ﻢ) সূরায়ে মায়েদা থেকে সূরায়ে তাওবা পর্যন্ত। (৩) ইয়া (ﻱ) সূরায়ে ইউনূস থেকে সূরায়ে নাহল পর্যন্ত। (৪) বা (ﺐ) সূরায়ে বনী ইস্রাঈল থেকে সূরায়ে ফুরক্বান পর্যন্ত। (৫) সীন (ﺲ) সূরায়ে শুয়ারা থেকে সূরায়ে ইয়াসীন পর্যন্ত। (৬) ওয়া (ﻮ) সূরায়ে ওয়াস্ সাফ্ফাত থেকে সূরায়ে হুযরাত পর্যন্ত। (৭) ক্বাফ (ﻖ) সূরায়ে ক্বাফ থেকে সূরায়ে নাস পর্যন্ত।
শব্দ: কারো মতে-৮৬৪৩০টি। কারো মতে-৭৭৪৩৯টি। কারো মতে আবার-৭৭৯৩৪টি। কারো মতে-৭৬৪৪০টি।
অক্ষর বা বর্ণ: ৩৪৬০৩৭টি। কারো মতে-৩৩৮৬০৬টি। কারো মতে আবার-৩২৩৬৭১টি। কারো মতে-৩১২৬৯০টি।
(আলিফ)-৪৮৮৭২টি। (বা)-১১১২৮টি। (তা)-৭৭৩টি। (ছা)-৭৬১২টি। (জীম)-৩২৭৩টি। (হা)-৭৭৩টি। (খা)-২৪১৬টি। (দাল)-৫৬৪২টি। (যাল)-৪৬৯৭টি। (রা)-১২৭৯টি। (জ্বা)-১৫৯০টি। (ছীন)-৫৮৯০টি। (শীন)-২২৫৩টি। (স্বোয়াদ)-২০১৩টি। (যোয়াদ)-১৬০৭টি। (ত্বা)-১২৭৪টি। (যোয়া)-৮৪৬টি। (আইন)-৯২২০০টি। (গাইন)-২২০৮টি। (ফা)-৮৪৯৯টি। (ক্বাফ)-৬৮১৩টি। (কাফ)-৯৫১২টি। (লাম)-৩৪৩২টি। (মীম)-২৬৫৩৫টি। (নূন)-২৬৫৫০টি। (ওয়া)-১৫৫৩৬টি। (হা)-১৯০৬০টি। (লাম-আলিফ)-৩৭২০টি। (হামযা)-৪১১৫টি। (ইয়া)-২৫৯১৯টি। সর্বমোট-৩৪৬০৩৭টি।
মোট ওয়াক্বফ: ৫০৫৮টি।
মোট মদ: ১৭৭১টি।
মোট তাশদীদ: ১২২৫টি।
মোট সাকিন: ১০৬১৮৮টি।
পেশ: ৮৮০৪টি।
যের: ৩৯৫৮২টি।
যবর: ৫৩২৪২টি।
সিজদাহ: ইমাম আবূহানিফার মতে-১৪টি। ইমাম শাফেয়ীর মতে- ১৫টি।
সর্ববৃহৎ সূরা: সূরাতুল বাকারাহ, আয়াত সংখ্যা- ২৮৬।
সবচেয়ে ছোট সূরা: সূরাতুল কাওসার, আয়াত সংখ্যা-৩।
মোট রুকু: ৫৪০টি, প্রশিদ্ধ মতে।
আয়াতের ধরন: আদেশসূচক আয়াত ১০০০, নিষেধসূচক ১০০০, সুসংবাদসূচক ১০০০, ভীতি প্রদর্শনসূচক ১০০০, কাহিনীমূলক ১০০০, দৃষ্টান্তমূলক ১০০০, হালাল সংক্রান্ত ২৫০, হারাম সংক্রান্ত ২৫০, দোয়া, জিকির ও তাসবিহ সংক্রান্ত ১০০টি।
আল-ক্বুরআনে ক্বুরআন শব্দ এসেছে : ৬১ বার।
আল-ক্বুরআনে আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গুণবাচক নাম উল্লেখ করা হয়েছে আর-রব্ব। যা প্রায় ৮৫০ বারেরও অধিক উল্লিখিত হয়েছে।
সর্বপ্রথম নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা : আল-ফাতিহা।
সর্বপ্রথম নাযিলকৃত আয়াত/ওহী : আল-আলাক (১-৫)।
সর্বশেষ নাযিলকৃত পূর্ণাঙ্গ সূরা : আন-নসর।
সর্বশেষ নাযিলকৃত আয়াত বা ওহী : আল-বাকারাহ ২৮১।
সবচেয়ে বড় সূরা : আল-বাকারাহ।
সবচেয়ে ছোট সূরা : আল-কাউসার।
সূরা তওবার অপর নাম : বারাআত।
সূরা মুহাম্মাদের অপর নাম : আল-ক্বিতাল।
ক্বুরআনে উল্লেখিত সাহাবীর নাম : যায়েদ ইবনে হারেসা (রাযিআল্লাহু আনহু)।
সূরা আনফালে বদরের, তওবায় তাবুকের, আহযাবে খন্দকের, ইমরানে উহুদের যুদ্ধের আলোচনা করা হয়েছে।
ক্বুরআনে জিব্রাইল (আলাইহিস সালাম)-কে রুহুল আমীন বলা হয়েছে।
জামিউল ক্বুরআন হযরত উসমান (রাযিআল্লাহু আনহু) এর আদি পান্ডুলিপি তুরস্কের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।
সূরা তাওবায় বিসমিল্লাহ নেই এবং সূরা নমলে ২ বার বিসমিল্লাহ আছে।
সূরা তাওবায় কবুল প্রাপ্ত ৩ জন সাহাবীর নাম:
হযরত হিলাল ইবনে উমাইয়া (রাযিআল্লাহু আনহু)
হযরত মুরারা ইবনে রুবাঈ (রাযিআল্লাহু আনহু)
হযরত কাব ইবনে মালিক (রাযিআল্লাহু আনহু)
সর্বপ্রথম নুকতা ও হরকত প্রবর্তন করেন আবুল আসওয়াদ দুয়াইলি মতান্তরে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ।
ক্বুরআনে ব্যবহৃত শব্দ সংখ্যা, ক্বুরআনে ক্বুরআন শব্দটি এসেছে ৬১ বার, আল্লাহ ২,৬৯৮ বার, রব্ব ৮৫০ বারের অধিক, রহমান ৫৭ বার, রাহীম ১১৪ বার, মুহাম্মদ ৪ বার, আহমদ ১ বার, লা ইলা হা ইল্লাহু ২ বার, সালাত ৮২ বার, যাকাত ৩২ বার, সাদাকা ১২১২ বার।
ক্বুরআনে উল্লিখিত বিভিন্ন নাম, নবী রাসূলের নাম ২৫ জনের, ফেরেশ্তার নাম ৪ জনের, শয়তান শব্দটি এসেছে ৮৫ বার, ইবলিশ ১১ বার, জিনদের প্রসঙ্গ ৩২ বার, মুসার আলাইহিস সালাম-এর নাম ১৩৫ বার, আল্লাহদ্রোহীদের নাম ৬ জনের।
সূরা কাওসারে মীম নেই।
সূরা কাফিরুনে মীমের সংখ্যা নয়টি।
ক্বুরআনে বর্ণিত একজন সাহাবী হযরত জায়েদ ইবনে হারেসা রাযিআল্লাহু আনহু।
ক্বুরআনে একজন মহিয়সী নারীর নাম বর্ণিত হয়েছে- হযরত মারইয়াম বিনতে ইমরান।
ক্বুরআনের প্রথম ওহী লেখক হযরত জায়িদ বিন সাবিত রাযিআল্লাহু আনহু।
তরজমানুল ক্বুরআন বা ক্বুরআনের মুখপাত্র হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু।
বিভন্নজনের নিকট বিভিন্ন স্থানে সংরক্ষিত ক্বুরআনের আয়াতসমূহকে সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রাযিআল্লাহু আনহু। ৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে।
ক্বুরআনের প্রথম সংকলক হযরত উসমান রাযিআল্লাহু আনহু।
ক্বুরআনের প্রথম মুফাস্সির হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাযিআল্লাহু আনহু।
ক্বুরআনের প্রথম বাংলা অনুবাদক (আংশিক) আমির উদ্দিন বসুনিয়া।
পুস্তকাকারে প্রকাশিত ক্বুরআনের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাংলা অনুবাদক গিরিশচন্দ্র সেন।
ক্বুরআনের বাচনভঙ্গি, অতি প্রাঞ্জল ও বক্তৃতাপূর্ণ।
ক্বুরআনের বিষয়বস্তু, মানুষ ও জিন।
তেলাওয়াতে সিজদাহ্
সম্পূর্ণ কুরআন শরিফে ১৪টি সিজদার আয়াত আছে। যে আয়াতগুলো পড়লে বা শুনলে সিজদা দিতে হয়, তা নিম্নে প্রদত্ত হলো-
ক্রম সূরা আয়াত পারা
১ . আ’রাফ -০৬ -৯
২ . রা’দ -১৫ -১৩
৩ . নাহল -৫০ -১৪
৪ . বনি ঈসরাইল -১০৭ -১৫
৫ . মারইয়াম -৫৮ -১৬
৬ . হাজ্জ -১৮ -১৭
৭ . ফুরক্বান -৬০ -১৯
৮ . নামল -২৬ -১৯
৯ . সাজদাহ -১৫ -২১
১০ . ছোয়াদ -২৪ -২৩
১১ . হা মীম সাজদাহ -৩৮ -২৪
১২ . নাজ্বম -৬২ -২৭
১৩ . ইনশিক্বাক -২১ -৩০
১৪ . আলাক্ব -১৯ -৩০

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s