মুহাম্মদ ইবনে কাশিম এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আগমন

মুহাম্মদ ইবনে কাশিম এবং ভারতীয় উপমহাদেশে ইসলামের আগমন

খিলাফত হচ্ছে ইসলামি শাসন ব্যবস্থার নাম। আর খিলাফত রাষ্ট্র দিয়ে বুঝায় ইসলামি রাষ্ট্রকে যেই রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ব্যাবস্থা থেকে সামাজিক ও পারিবারিক সকল বিষয় আল্লাহর নিকট একমাত্র জীবন ব্যাবস্থা ইসলাম দিয়ে পরিচালনা করা হয়। ৬২২ খৃষ্টাব্দে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মদিনাতে হিজরতের পর সেখানে ইসলামের সর্বপ্রথম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন যা যুগের পর যুগ ধরে রাসুলের (সাঃ) পর থেকে খলীফাদের মাধ্যমে পৃথিবীর কিছু অঞ্চল ব্যাতিত অধিকাংশ অঞ্চলেই বিস্তৃতি লাভ করে। খলীফাগণ রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দেখানো পথ অনুসারে দাওয়া ও জিহাদের মাধ্যমে ইসলামি খিলাফত রাষ্ট্রের বিস্তৃতি ঘটান। এই দাওয়া ও জিহাদের পেছনে রয়েছে বহু বীর সেনা মুজাহিদদের একান্ত প্রচেষ্টা। যারা নিজের জীবনের মায়াকে উপেক্ষা করে শহীদের মর্যাদা লাভের চেতনায় বছরের পর বছর পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূর দূর দেশে ইসলামের সুশীতল শান্তির বার্তা পৌঁছে দিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং সেখানে তা রাষ্ট্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠা করে শান্তি স্থাপনের চরম পরাকাষ্ঠা প্রদর্শন করেছেন। মুহম্মদ ইবন কাশিম তেমনি একজন বীর মুজাহিদ যিনি সিন্ধু দেশের একজন মজলুম মুসলিম বোনের একটিমাত্র চিঠি হাতে পেয়েই খলীফার অনুমতি ক্রমে এক এক করে ভারতীয় উপমহাদেশের সিন্ধু প্রদেশের প্রত্যেকটি অঞ্চল হতে জুলুমের শেষ চিহ্ন পর্যন্ত ধ্বংস করে সেখানে ইসলামের সর্বকালের শান্তির বার্তা পৌঁছে দেন এবং অল্পতেই উক্ত অঞ্চলের সমগ্র মজলুম অধিবাসীর হৃদয় জয় করেন।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ছিলেন বসরার গভর্নর, তখন ইসলামি খিলাফত রাষ্ট্রের সাথে তুরস্ক ও আফ্রিকার যুদ্ধ চলছিল। খলীফা ওলীদ ছিলেন মুসলিমদের খলীফা। তুরস্কের জিহাদের সেনাপতি কুতায়বা যুদ্ধ বিষয়ে পরামর্শ করতে তার পক্ষ থেকে একজন দূত পাঠিয়েছেন হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ খিলাফতের সকল জিহাদ বিষয়ে নকশা তৈরি ও বিশ্লেষণ করতেন। তিনি মানচিত্র নিয়ে গবেষণা করার সময় এক দূতের আগমন শুনে তাকে তার নিকট আসতে বলেন। কিছুক্ষণ পর বর্ম পরিহিত পনের-ষোল বছরের এক যুবক প্রবেশ করল, তার মস্তকে তাম্র নির্মিত এক শিরস্রান সোভা পাচ্ছিল। দৃঢ় গঠন, দীপ্ত নয়ন এবং হালকা অথচ বদ্ধ ওষ্ঠ এক অসাধারণ দৃঢ়টা ও মনোবলের পরিচয় দিচ্ছিল।
যুবককে দেখে তিনি কুতায়বার পরিহাস করে বললেন আমি কুতায়বাকে একজন অভিজ্ঞ সেনাপতি প্রেরণ করতে বলেছিলাম, আর সে আমাকে আট বছরের বালককে পাঠিয়ে দিয়েছে। যুবক জবাব দিল,আমার বয়স ১৬ বছর ৮ মাস। আপনি যাকে পাঠাতে বলেছেন আমি সেই। হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললেন, তুমি কুতায়বার শ্রেষ্ঠতম সেনাপতি? কুতায়বার সাথে তোমার সম্পর্ক কী? যুবক জবাব দিল আমরা উভয়েই মুসলমান।
হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বললেন, আমাকে বুঝিয়ে দাও যে সৈন্য বাহিনী হিরাতের ন্যায় সামান্য নগর জয় করতে অক্ষম, সে বোখরার মত দৃঢ় ও শক্তিশালী শহর কিভাবে জয়ের আসা করে? ওহ আগে বল তুমি মানচিত্র পাঠ করতে জান তো?
যুবক কোন প্রশ্নের জবাব না দিয়েই সম্পূর্ণ যুদ্ধ কৌশল এমন ভাবে মানচিত্র ধরে ধরে বুঝালেন যে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ বিস্ময়ের সাথে চুপ করে তার দিকে তাকিয়েই রইলেন। পরে জিজ্ঞাস করলেন তুমি কোন উপজাতির লোক? যুবক উত্তর দিল, আমি সাকাফি। হাজ্জাজ বললেন, তুমি সাকাফি?? তোমার নাম কী? যুবক উত্তর দিল, মুহম্মদ ইবনে কাশিম। হাজ্জাস চমকে বললেন, কাশিমের পুত্রের কাছে আমি এটাই আশা করেছিলাম। তুমি আমাকে চিন? ……. তুমি আমার ভাতুস্পুত্র।
আসলে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ যখন মক্কায় আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়রকে হত্যা করে মদিনায় ফিরে আসেন তখন থেকেই মদিনায় মুহম্মদ বিন কাশিমের পিতা, তার ভাই তাকে দেখতে পারতো না। আর এই কারনে মুহম্মদ বিন কাশিমের মা তাকে কখনো চাচা হাজ্জাজ বিন ইউসুফের সাথে দেখা করতে দেন নি।
পরে হাজ্জাজ বিন ইউসুফ মুহম্মদ বিন কাশিমের সাথে তার নিজ কন্যা যুবায়দার বিয়ে দেন এবং তাকে দামেস্কে খলীফা ওলীদের নিকট যুদ্ধ বিষয়ক বিশ্লেষকের পদে নিযুক্ত করে প্রেরণ করেন। যাতে খলীফা আফ্রিকার সাথে জিহাদের কৌশল ও বিশ্লেষনের জন্য মুহম্মদ বিন কাশিমকে দায়িত্ব দেন। মুলত হাজ্জাজ এই কাজে তাকে নিযুক্ত করেন নিজের ভাতুস্পুত্র হওয়ার কারণে নয় বরং তার যুদ্ধ কৌশলের উপর মুগ্ধ হয়েই।
মুহম্মদ ইবনে কাশিম দামিস্কে খলীফার কাছে যাওয়ার পূর্বেই হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে মকরণ থেকে এক দূত আসে। দূত হাজ্জাজের কাছে এক মুসলিম বালিকার রক্তে লিখা এক চিঠি দিয়ে সিন্দু রাজ্যে কিছু মুসলিম এতিম ও নারী-পুরুষের উপর সেখানকার রাজার অত্যাচারের কথা বর্ণনা করেন। মুহম্মদ বিন কাশিমও তা শুনার পর সিদ্ধান্ত নেন দ্রুত দামিস্কে যেয়ে তিনি সবার আগে খলীফাকে সিন্দুর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করার জন্য বলবেন। কিন্তু খিলাফত রাষ্ট্র তখন আফ্রিকা ও তুরস্কের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত এবং স্পেনের সাথে যুদ্ধ শুরু হবে হবে ভাব থাকায় খলীফা নতুন করে সিন্ধুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে পারবে কিনা তা নিয়ে সবাই চিন্তিত থাকেন। সৈন্য সংখ্যার সল্পতাই এই চিন্তার মুল কারন।
সিন্ধুতে মুসলিমদের উপর অত্যাচারের কাহিনির সুত্রপাত:
অনেক আগে থেকেই লংকা দেশের সাথে আরব, রোম ও ইরানের ব্যবসা ছিল। লংকা দেশে কিছু আরব তাই প্রায় জন্ম থেকেই বসবাস করত। তখন রোম ও পারস্য (ইরান) ছিল সুপার পাওয়ার। তারা আরবদের উপর ক্ষমতা দেখিয়ে অন্য দেশের সাথে জোর পূর্বক ব্যবসা করত, এতে যে দেশের সাথে তারা ব্যবসা করত তারা কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তারা রোম ও পারস্যের সাথে ব্যবসা করতে বাধ্য হত। ইতিমধ্যে আরবে এক বিশাল জাগরণের কারনে সেখানে এক নতুন আদর্শের ও জীবন ব্যাবস্থার উদ্ভব হয়েছে। সে ক্ষমতাধর আদর্শের সুবাদে তারা রোম ও পারস্যকে পরাজিত করে নতুন সুপার পাওয়ার হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলো খুবই খুশি হয়। তারা অনায়াসেই তাই আরবদের সাথে ব্যাবসা করতে ইচ্ছা প্রকাশ করে। সে সুবাদে কিছু উপটৌকন দিয়ে লংকার রাজা আব্দুস শামস নামক এক লংকান আরবকে আরব দেশে প্রেরণ করেন। কিন্তু লংকান আরবের জাহাজ ডুবে যাওয়ায় সে ফিরে আসে। সেই লংকান আরবের এক কন্যা ছিল।
পরে একদিন আবুল হাসান নামক এক ব্যাক্তি তার জাহাজ নিয়ে লংকাতে ব্যবসা করার জন্য ৫০ টি ঘোড়া নিয়ে আসে। উপকূলে এসে তার সেই লংকান আরবের সাথে দেখা হয় ও পরে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠে। একদিন ঘটনা ক্রমে সকল লঙ্কান আরবই ইসলামের দাওয়াত পেয়ে একে একে ইসলাম গ্রহণ করে। ঘটনা ক্রমে আব্দুস শামসের কন্যার সাথে আবুল হাসানের বিয়ে হয়। তাদের ঘরে দুই সন্তান হয়। তারা লংকাতেই থেকে যায়। আবুল হাসানের সন্তানদের নাম খালেদ ও তার ২ বছর ছোট মেয়ে নাহিদ।
একদিন আবুল হাসানকে লংকার রাজা আবারও কিছু উপহার দিয়ে আরবের বসরার গভর্নর হাজ্জাজ বিন ইউসুফ ও দামেস্কের খলীফার নিকট প্রেরণ করে। লংকার রাজার সাথে আবুল হাসানের খুবই ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে ওঠায় তাকেই রাজা বিশ্বাস করে এই দায়িত্ব দেয়। কিন্তু আবুল হাসানের নৌকা সিন্ধুর কাছা কাছি এলে সিন্ধুর রাজা তা লুটপাট করে আবুল হাসানকে বন্দী করে রাখে। লংকায় সবাই ভাবে আবুল হাসান পানিতে ডুবে ইন্তেকাল করেছেন।
পরে সেখবর খলীফা পেয়ে যুবায়ের নামক এক দূতকে সেখানকার এতিম শিশু ও নারীদেরকে আরবে নিতে পাঠান এবং তার সাথে লংকার রাজার কাছে কিছু উপহার পাঠান। যুবায়র লংকার রাজাকে একথা বললে রাজার ছেলে-মেয়েরা কান্নায় ভেঙ্গে পরে। কারন আবুল হাসানের ছেলে খালিদ ও মেয়ে নাহিদের সাথে রাজার ছেলে ও মেয়ের ঘনিষ্ট বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। কিন্তু খালিদ বলে সে যেহেতু একজন মুসলিম মুজাহিদের সন্তান তাই সে আরবে যেয়ে স্বজাতির সাথে কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে চায়। তাই পরে আর রাজা তাদের বারন না করে যুবায়রের সাথে পাঠিয়ে দেয়। রাজা তাদের সাথে খলীফার নিকট নিজের সেনাপতিকে দিয়ে কিছু উপহার আরেক জাহাজে করে পাঠায়। জাহাজ দুটি আরবের উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
পথে জাহাজ দুটো ডাকাতদের পাল্লায় পরে। সেখান থেকে মুসলিমরা দাকাতের সরদার গন্সুকে আটক করে এবং জয়রাম ও মায়াদেবী নামে দুই ভাই-বোনকে ডাকাত থেকে মুক্ত করে। পরে একদিন যুবায়র গন্সু ডাকাতের কাছে তার ডাকাতি পেশায় ঢুকার করুন কাহিনী শুনে আর কখনো ডাকাতি করবেনা এই প্রতিশ্রুতিতে তাকে ক্ষমা করে দেয়। জয়রাম জাহাজ দেবলের উপকূলে থামিয়ে দেবলের গভর্নর প্রতাপ রায়ের কাছে মেহমান হিসেবে আসা জাহাজ দুটোর খবর দিলে প্রতাপ রায় জাহাজ দুটোর সকল উপহার ছিনিয়ে নিয়ে মুসলিম নারী-পুরুষদের সিন্দুর অত্যাচারী রাজা দাহির-এর কাছে নিয়ে যায়। রাজা উপহার সহ সকলকে বন্দী করে।
জাহাজ আটক করার আগেই গন্সু খালিদ, নাহিদ ও মায়াকে জোর করে এক নৌকায় তুলে তাদের উদ্ধার করে পালিয়ে গভির জঙ্গলে নিজের কেল্লায় নিয়ে যায়। পরে গন্সু ও তার দল জুবায়র ও জয়রামকে রাজার কাছ থেকে পালিয়ে উদ্ধার করে। জুবায়র কেল্লায় ফিরে এলে নাহিদ তার রাক্তে লিখা এক চিঠি দিয়ে তাকে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের কাছে পাঠায়।
জুবায়র হাজ্জাজ বিন ইউসুফের নিকট সব ঘটনা খুলে বলে, হাজ্জাজ খুবই রাগান্বিত হয়ে বলেন, “ছাগল তাহলে সিংহকে শিং দেখাতে শুরু করেছে।” পরে জুবায়র হাজ্জাজকে সেই চিঠিটি দেয়, হাজ্জাজ পড়তে থাকে…
“দূতের মুখে মুসলমান শিশু ও নারীদের বিপদের কথা শুনে আমার দৃঢ় বিশ্বাস বসরার শাসনকর্তা স্বীয় সৈন্য বাহিনীর আত্মমর্যাদা সম্পন্ন সৈনিককে অশ্ব প্রস্তুত করার আদেশ দিয়েছন। সংবাদ বাহককে আমার এ পত্র দেখাবার প্রয়োজন হবে না। হাজ্জাজ বিন ইউসুফের রক্ত যদি শীতল হয়ে জমে গিয়ে থাকে তবে হয়ত আমার এ পত্রও বিফল হবে। আমি আবুল হাসানের কন্যা। আমি ও আমার ভাই এখনো শত্রুর নাগালের বাইরে। কিন্তু আমার অন্য সকল সঙ্গী শত্রু হাতে বন্দী – যার বিন্দু মাত্র দয়া নাই। বন্দীশালার সেই অন্ধকার কুঠুরির কথা কল্পনা করুন – যেখানে বন্দীরা মুসলিম মুজাহিদদের অশ্বের ক্ষুরের শব্দ শুনার জন্য উৎকর্ণ ও অস্থির হয়ে আছে। আমাদের জন্য অহরহ সন্ধান চলছে। সম্ভবতঃ অচিরেই আমাদেরকেও কোন অন্ধকার কুঠুরিতে বন্দী করা হবে। এও সম্ভব যে, তার পূর্বেই আবার যখন আমাকে মৃত্যুর দুয়ারে পৌঁছে দেয়া হবে এবং আমি সেই দুরদৃষ্ট হতে বেঁচে যাব। কিন্তু মরবার সময় আমার দুঃখ থেকে যাবে যে, যেসব ঝাঞ্চাগতি অশ্ব তুর্কিস্তান ও আফ্রিকার দরজা ঘা মেরেছে, স্বজাতির এতীম ও অসহায় শিশুদের সাহায্যের জন্য তারা পৌছাতে পারল না। এও কি সম্ভব যে তলোয়ার রোম ও পারস্যের গর্বিত নরপতিদের মস্তকে বজ্ররূপে আপতিত হয়েছিল, সিন্ধুর উদ্ধত রাজার সামনে তা ভোঁতা প্রমাণিত হল। আমি মৃত্যুকে ভয় করি না। কিন্তু হাজ্জাজ, তুমি যদি বেঁচে থাক, তবে আমার আত্মমর্যাদাশীল জাতির এতীম ও বিধবাদের সাহায্যে ছুটে এস।”

নাহীদ
আত্মমর্যাদাশীল জাতির এক অসহায় কন্যা

হাজ্জাজ বিন ইউসুফ চিঠির অর্ধেকটা পড়েই আরও ক্রোধান্নিত হয়ে জুবায়র ও মুহম্মদ বিন কাশিমকে দামেস্কে খলীফার কাছে পাঠান, এই বলে যে তারা যেন যেভাবেই হোক খলীফাকে জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ করে। পথে বিভিন্ন ক্যাম্পে সবচেয়ে তাজা ঘোড়াগুলো নিয়ে যেতে বলেন তাদের।
পথে মুহম্মদ বিন কাশিম ও জুবায়র এক ক্যাম্পে ৫ টি ঘোড়া দেখে ২ টি নিতে চাইলে খাদেম বলে, এগুলো সুলায়মান ইবনে আব্দিল মালিকের ঘোড়া, যিনি খলীফার ভাই এবং পরবর্তী খলীফা হয়ার দাবি করেন। উনি কাল দামিস্কে যুদ্ধবিদ্যার প্রদর্শনীতে আনন্দ ভ্রমণে যাবেন। মুলতঃ সুলায়মান ছিলেন খুবই আরাম প্রিয় লোক। পরে সুলায়মানের কাছে মুহম্মদ বিন কাশিম ঘোড়া চাইলে সে ও তার বন্ধুরা এতে অস্বীকৃতি জানায় ও তার বন্ধু সালেহ মুহম্মদ বিন কাশিমের সাথে মারামারি করতে চায়। বিন কাশিম তার কথায় পাত্তা না দিয়ে জোর করে ২টি ঘোড়া নিয়ে যায়, তারা তার বীরত্ব দেখে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে।
মুহম্মদ বিন কাশিম দামিস্কে পৌছলে খলীফাও চিঠি পড়ে রেগে জান ও মজলিশের সবাই ঘটনা শুনে জিহাদ জিহাদ ধ্বনি তুলে। খলীফা মুহাম্মদ বিন কাশিমকে বলেন, যেহেতু আমাদের সকল সৈন্য এখন তুরস্কে ও আফ্রিকায় ব্যাস্ত তাই তোমাকে এই যুদ্ধের জন্য নতুন করে সাধারন জনগন থেকে সৈন্য নিতে হবে। আর এ ব্যাপারে কোন মুসলিমই জিহাদে না যেতে রাজি হবে না। তাই খলীফা পরের দিন যুদ্ধাস্ত্র প্রদর্শনীতে মুহাম্মদ বিন কাশিমকে তার আপন ভাই সুলায়মানের সাথে লাগতে বলেন যাতে মুহম্মদ বিন কাশিম জিতলে তিনি সাধারন জনতাকে বক্তব্য দিয়ে তখনি জিহাদের জন্য উৎবুদ্ধ করতে পারেন।
পরের দিন খেলার মাঠে জুবায়র সোলায়মানের বন্ধু সালিহ ও মুহাম্মদ বিন কাশিম সোলায়মানকে পরাজিত করলে সবাই তাদের ২ জনের প্রতি অবিভুত হয়ে যায়। কারন সোলায়মান আর সালিহ ছিল সে সময়ের চাম্পিয়ন। সকলে মুহম্মদ বিন কাশিমকে ঘিরে ধরলে তিনি জনসাধারণকে সিন্দুর ঘটনা বলেন। জনসাধারণ ঘটনা শুনে জিহাদ জিহাদ ধ্বনি দিয়ে চারিদিক মুখরিত করে তোলে। খলীফা ওয়ালীদ তখনি সিন্ধুর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করে ফেলেন। বিন কাশিম জনগন থেকে সৈন্য রিক্রুট করেন। এসময় উমর ইবনে আব্দিল আযীয তাকে যুদ্ধের পরে সেখানকার রাজার অত্যাচারিত সাধারণ জনতার সাথে ভাল আচরনের উপদেশ দেন, তাদের আহত ব্যাক্তিদের সেবা-চিকিৎসা করার পরামর্শ দেন।
ফজরের নামাজ পরে মুহম্মদ বিন কাশিম ৫ হাজার সৈন্য নিয়ে বসরার উদ্দেশ্যে রওনা হন। দামেস্কে তার সৈন্য সংখ্যা ৫ হাজার হলেও বসরায় এসে বসরার আরও সৈন্য মিলে মোট ১২ হাজার সৈন্য হয়। তার স্বীয় স্ত্রী জুবায়দা ও তার মা বসরার প্রতিটি ঘরে নারীদের মাঝে নাহিদের করুন কাহিনী প্রচার করে এবং সকল নারীই নিজেকে এক একজন নাহিদ ভাবতে শুরু করেন। আর এই জন্যই নারীরা পুরুষদের উৎসাহ দেয়ায় বসরাতে আরও সৈন্য যোগ হয়। ১২ হাজার সৈন্যের মধ্যে ৬ হাজার অশ্বারোহী, ৩ হাজার পদাতিক ও ৩ হাজার রসদ বাহী উটের সাথে ছিল।
তখন ইসলামী খিলাফত রাষ্ট্র মকরণ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। মকরনের পরেই ছিল সিন্ধু। উক্ত ঘটনার পর মকরনের শাসক সিন্ধুতে বন্দীদের ছাড়িয়ে আনার জন্য ২০ জন দূত সহ প্রেরণ করে। কিন্তু মকরনে ২০ জনের মধ্যে মাত্র ২ জনকে সিন্ধুর রাজা ফেরত পাঠায়। এই খবরও মুসলিমদের মাঝে আগুনে আরও তেল যোগ করে।
মুহম্মদ বিন কাশিমের সৈন্য যখন মকরন সীমান্ত অতিক্রম করে সিন্দুর পাহাড়ি অঞ্চল লাসবেলায় প্রবেশ করে তখনি সিন্ধু রাজার তরুন সেনাপতি ভীম সিংহ ২০ হাজার সৈন্য সহ তাদের প্রতিরোধ করে। তারা পাহাড় থেকে বড় বড় পাথর নিক্ষেপ করে মুসলিমদের ক্ষতি করতে থাকে। এভাবে তারা তাদের যাত্রা কয়েক দিন শ্লথ করে দেয়। একদিন মুহম্মদ বিন কাশিম গোয়েন্দা যোগে খবর পেলেন যে ২০ মাইল দুরের এক কেল্লা থেকে এই হামলা চালানো হচ্ছে। তাই তিনি রাতে এশার নামাজ পরে ৫০০ সৈন্য নিয়ে সেই কিল্লা আক্রমণ করতে যান। তিনি বাকি সৈন্য মুহম্মদ ইবনে হারুনের নেতৃত্বে রেখে কিল্লার দিকে যান। কিল্লায় খবর পৌঁছে যে, মুহম্মদ ইবনে কাশিম তাদের কিল্লা দখল করতে আসছে। তাই ভীম সিংহ ৩০০ সৈন্য নিয়ে কিল্লার বাইরে তাদের ঠেকাতে যান। তারা বিন হারুনের সৈন্যকে আক্রমণাত্মক সৈন্য ভেবে তাদের পিছু নেয়। অপর দিকে মুহম্মদ ইবনে কাশিম ৫০০ সৈন্য নিয়ে পাহাড়ের আড়াল থেকে খালি কিল্লায় ঢুকে পরেন। কিল্লা দখল করে তিনি সব সৈন্যকে চলে যেতে অনুমতি দেন। সৈন্যরা এটাকে প্রতারণা ভেবে জিজ্ঞেস করে, আপনি আমাদের সাথে এমন কেন করছেন? বিন কাশিম উত্তর দেন, “শত্রুকে ধ্বংস করা আমাদের উদ্দেশ্য নয়, বরং তাদের শান্তির পথ দেখানোই আমাদের উদ্দেশ্য”।
এদিকে ৫০ জনের অশ্বারোহী বাহিনী নিয়ে খালিদ, নাহিদ, মায়া ও জয়রাম কেল্লা বিজয়ের খবর পেয়ে কেল্লায় প্রবেশ করে। তারা সকলে সকলকে পরিচয় করিয়ে দেন। ইতি মধ্যে মায়াদেবী ও তার ভাই জয়রাম ইসলাম গ্রহণ করে তাদের নাম যূহরা ও নাসিরুদ্দীন রেখেছে। গন্সুও ইসলাম গ্রহণ করে তার নাম সা’আদ রেখেছে।
এদিকে ভীম সিংহ তার সৈন্য বাহিনী নিয়ে হারুনের সৈন্যের উপর আক্রমণ করলে মুহম্মদ বিন কাশিম কেল্লা থেকে বের হয়ে উল্টো দিক দিয়ে ভীম সিংহের উপর আক্রমণ করে তার সৈন্য নিয়ে হারুনের সৈন্যের সাথে মিশে যায়। ভীম সিংহের সৈন্যরা সবাই ছিন্ন বিচ্ছিন্ন হয়ে কেল্লার দিকে সরে গেলে কেল্লার প্রাকারের উপর থেকে তাদের উপর তীর নিক্ষেপ করে মুসলিম বাহিনী। এতে অনেক সৈন্য মারা যায় ভীম সিংহের। পরে তারা আত্মসমর্পণ করে মুহম্মদ বিন কাশিমের কাছে। মুহম্মদ বিন কাশিম শহীদদের জানাজার পরে আহত সিন্ধু সৈন্যদের সেবা-চিকিৎসা করা শুরু করে। তিনি শল্য চিকিৎসকের পাশাপাশি নিজেও আহতদের শল্য চিকিৎসা করতে থাকে। তিনি নিজেও শল্যচিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ছিলেন। তিনি নিজ হাতে সিন্দু সেনাপতি ভীম সিংহের চিকিৎসা করে তার মন জয় করে ফেলেন। ভীম সিংহ সুস্থ হলে তাকে মুক্তি দিলে সে সিন্ধু রাজ্যে ফিরে যায়।
লাসবেলা জয়ের পর মুহম্মদ বিন কাশিম নিজে জুবায়রের সাথে নাহিদের এবং খালিদের সাথে জুহরার (মায়াদেবী) বিয়ে দেন। এদিকে সেবা চিকিৎসার কারণে সিন্ধু সৈন্যরা দলে দলে মুহম্মদ বিন কাশিমের প্রতি অবিভুত হয়ে তার দলে যোগ দিতে লাগল। তারা এযাবতকাল সিন্ধু রাজার যে অত্যাচার সহ্য করছিল তার পরিত্রাণ পেল। তারা মুহম্মদ বিন কাশিমকে তাদের নতুন দেবতা ভাবতে লাগল।
মুহম্মদ বিন কাশিম এবার দেবল অবরোধ করলেন। তিনি দববাবা (সেকালের অত্যাধুনিক যুদ্ধ কামান, যা দিয়ে বড় বড় পাথর মারা যেত) ও মিনজানিকের সাহায্যে দেবলের প্রাচীর ভেঙ্গে ভিতরে প্রবেশ করলে রাজা পালিয়ে যায়, আর বাকি সৈন্যরা আল্লাহু আকবর বলে মুসলিমদের কাছে আত্মসমর্পণ করে। দেবল বাঁচাতে সিন্ধুরাজা দাহির নিজেই সিন্দু থেকে চলে আসে। সে যতদিন সেখানে থাকে তত দিন সে সেখানকার অনেক নারীর সম্মান হরণ করে, এতে সেই নারীরা মুহম্মদ বিন কাশিম এর কাছে রাজার ব্যাপারে নালিশ করে ও মুহম্মদ বিন কাশিমকে তাদের দেবতা ভাবতে থাকে, যিনি অত্যাচার থেকে তাদের রেহাই দিয়েছেন। রাজা পালিয়ে নীরুন দুর্গে আশ্রয় নেয়।
মুহম্মদ বিন কাশিম নিরুন দুর্গ ও পরে সয়ুন ও পরে সবিস্তান দুর্গ জয় করেন। জয় করার পর এ স্থানের মানুষদের মনও তিনি পূর্বের মত জয় করেন। তারা সবাই মুসলিমদের সাথে যুক্ত হয়ে মুসলিমদের পাল্লা ভারী করতে থাকে।
রাজা মনে করেছিলেন মুহম্মদ বিন কাশিম প্রচণ্ড খরস্রোতী সিন্ধু নদী পার হয়ে ওপারে যেয়ে ব্রাক্ষণাবাদ আক্রমণ করতে পারবেন না। তাই তিনি সেখানে যেয়ে অন্য রাজাদের সাথে মিলে শেষ যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে থাকেন। কিন্তু নদীর জেলে ও মাঝিরাই মুহম্মদ বিন কাশিমকে ওপারে যেতে সাহায্য করে। ৭১৩ সালের জুন মাসে মুহম্মদ বিন কাশিম বিনা বাধায় নদী পার হয়ে ব্রাক্ষণাবাদ এর নিকটে রাজা দাহিরের সৈন্যের উপর আক্রমণ করেন। এ যুদ্ধে রাজা নিহত হয়।
পরে মুহম্মদ বিন কাশিম ব্রাক্ষণাবাদ আক্রমণ করলে রাজপুত্র জয় সিংহ সেখান থেকে পলায়ন করে । পরে মুহম্মদ বিন কাশিম মুলতান ও আরোর জয় করেন। একদিন আরোরের এক পুরহিত মুহম্মদ বিন কাশিমের মূর্তি বানিয়ে শহরে ঘুরান। মুহম্মদ বিন কাশিম এই অবস্থা দেখে ইসলামে মূর্তি পূজা হারাম তা সকলকে বুঝিয়ে দেন ও মূর্তিটি ধ্বংস করেন। তাদের বুঝিয়ে বলেন মানুষ কখনো মানুষকে ইবাদত করতে পারে না। ইবাদত পাওয়ার মালিক কেবল আল্লাহ। মুলতান অবরোধের সময় মুহম্মদ বিন কাশিম হাজ্জাজ বিন ইউসুফের ইনেকালের খবর পেয়েছিলেন।
একদিন ইয়াজিদ নামক এক সেনাপতির নেতৃত্বে ৫০ জন অশ্বারোহীর এক দল এসে মুহম্মদ বিন কাশিমকে এক পত্র দিয়ে বলেন এটি খলীফা সুলায়মান এর পত্র। মুহম্মদ বিন কাশিম অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করেন খলীফা সুলায়মান?? তিনি উত্তর দেন, খলীফা ওলীদ ইন্তেকালের পর সুলায়মান খিলাফতের মসনদে বসে। চিঠি পড়ে মুহম্মদ বিন কাশিম বলেন, “আমি সুলায়মানের কাছে এমনটাই আশা করেছিলাম”। সুলায়মান ছিল হাজ্জাজ বিন ইউসুফের চরম শত্রু। মুহম্মদ বিন কাশিম হাজ্জাজের জামাতা হয়ায় সে শত্রুতা বসত তাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। তাই সে মুহম্মদ বিন কাশিমকে বন্দী করতে ৫০ জনের ঐ দলকে পাঠায়। খালিদ, ভীম সিংহ ও জুবায়র সহ সমগ্র সিন্দুবাসী এর বিরধিতা করে। তখন সমগ্র মুসলিম বাহিনীর সৈন্য ১২ হাজার থেকে ১ লক্ষ্যে পৌছায়, যদিও সবাই তখনো মুসলিম ছিল না, কিন্তু তারা সমগ্র ভারত থেকে অত্যাচার দূর করার জন্য তাদের সেনাপতি মুহম্মদ বিন কাশিমের সাথে আগুনেও ঝাপ দিতেও প্রস্তুত ছিল।
মুহম্মদ বিন কাশিম মুসলিমদের বাধাকে উপেক্ষা করে বললেন, এটি আমিরুল মুমিনিন খলীফার আদেশ, যা আমাকে পালন করতেই হবে। মুলতঃ উনি জানতেন যে সুলায়মান কখনোই তাকে ছেড়ে দিবে না। তবুও তিনি স্বেচ্ছায় এরূপ করেছেন যেন, সমগ্র ইসলামী খিলাফত দুভাগে ভেঙ্গে না যায় এবং নতুন জয়ী সিন্দুর মুসলিমরা যেন তার জন্য খলীফার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে বসে। তিনি বলতেন, আমি মরে গেলে শুধু একজন মুহম্মদ বিন কাশিম মারা যাবে, আর আমি খলীফার কথা না শুনলে সমগ্র খিলাফত দুভাগে ভেঙ্গে যাবে। ইয়াজিদও তাকে বলেছিলেন আপনি দয়া করে যাবেন না, উনি যা করার আমাকে করবেন। পরে ইয়াজিদ সকলকে আশ্বাস দেন এই বলে যে, তিনি মুহম্মদ বিন কাশিমকে খলীফার সাথে দেখা করিয়ে নিজ দায়িত্বে সিন্ধুতে এনে দিবেন।
অবশেষে মুহম্মদ বিন কাশিম তাদের সাথে যাত্রা করলেন। শহরের প্রত্যেকটা নারী-পুরুষ তার জন্য কান্নার রোল ছেড়ে দেয়, তারা যেন তাদের সেনাপতি, তাদের অত্যাচার হতে রাক্ষাকারীকে শেষ বারের মত বিদায় দিচ্ছে। সুলায়মানের ইচ্ছা ছিল তাকে শিকল পড়িয়ে বন্দী বেশে নিয়ে আসা। কিন্তু মুসলিমদের মন ভেঙ্গে যাবে বিধায় ইয়াজিদ এমনটা করেন নি। এদিকে ইয়াজিদ যুবায়েরকে উমর ইবনে আব্দিল আযীযের নিকট পাঠায় এই বলে যে, তিনি যেন সুলায়ামানের নিকট যেয়ে এই ব্যাপারে কথা বলে সিন্দু বিজয়ী মুহম্মদ বিন কাশিমকে রক্ষা করে। যুবায়ের সাথে সাথে ঘোড়া নিয়ে রওনা হয় মদিনার দিকে। পরে সে উমার ইবনে আব্দিল আযীযকে বললে উনি দ্রুত দামেস্কে সোলাইমানের কাছে যেয়ে তাকে হুশিয়ার করে বলেন, এরূপ করলে তিনি সোলায়মানের বিরুদ্ধে সমগ্র খিলাফতকে এক করে তার পতন ঘটাবেন।

এদিকে সুলায়মান মুহম্মদ বিন কাশিম ও হাজ্জাজকে চরম শত্রু ভাবাপন্ন ব্যাক্তি তার বন্ধু সালেহকে মুহম্মদ বিন কাশিমের গর্দান কাটতে ওয়াসিত পাঠায়। ওয়াসিত ছিল এমন এক যায়গা যেখানে খুব কম লোক একাজে বাধা দিবে। কারন সেখানকার বেশির ভাগ লোকই মুহম্মদ বিন কাশিমের বংশের শত্রু। সুলায়মান মুহম্মদ বিন কাশিমকে বসরায় নিতে বারন করেন কারন সেখানে বসরার প্রত্যেকটা নারী-পুরুষ সিন্দু বিজয়ীকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে পথ চেয়েছিল। কিন্তু এক রাতে মুহম্মদ বিন কাশিম ইয়াজিদের অনুমতি ক্রমে গোপনীয়তার সাথে তার স্ত্রী যুবায়দার সঙ্গে শেষ সাক্ষাৎ করেন।
অবশেষে সুলায়মান উমার ইবনে আব্দিল আযীযের কথায় লজ্জিত হয়ে যুবায়রকে দিয়ে সালেহ এর কাছে পত্র পাঠায়। যুবায়র আবারো দ্রুত ঘোড়া নিয়ে ওয়াসিতের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। ওয়াসিত এসে তিনি এক ভিড় দেখতে পেয়ে জনগণকে জিজ্ঞাস করেন এটি কিসের ভিড় ? তারা জবাবদেয় এটি সিন্দু বিজয়ী মুহম্মদ বিন কাশিমের জানাজার ভিড়!! … জুবায়র তখনই বেহুশ হয়ে ঘোড়া থেকে পরে যায়। লোক-জন তার হাতে একটি চিঠি দেখে তা পড়া শুরু করে, সেখানে সালেহকে উদ্দেশ্য করে লিখা ছিল, সে যেন সসম্মানে মুহম্মদ বিন কাশিমকে দামিস্কে পাঠিয়ে দেয়। তখনই শহরের ৫০ জন ক্ষুদ্ধ যুবক নগ্ন তরবারি নিয়ে সালিহের ঘর অভিমুখে রওনা হয়ে তার উপর ঝাপিয়ে পরে।
৬২২ খ্রিস্টাব্দ থেকে ৭১৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মাত্র ৯১ বছরে ইসলামি খিলাফত ব্যাবস্থা মদিনা থেকে পশ্চিমে ইউরোপ, দক্ষিণে আফ্রিকা, পূর্বে ভারত ও চীন এবং উত্তরে রাশিয়া পর্যন্ত ছড়িয়ে পরে। মুহম্মদ বিন কাশিমকে এভাবে শত্রুতা বশত হত্যা করা না হলে হয়ত তখনই সেটা সমগ্র চীন-রাশিয়া- অস্ট্রেলিয়া ছাড়িয়ে আমেরিকাতেও ছড়িয়ে পরত। মূলত ঘটনা তো এই যে বিশ্বজগতের প্রতিপালক যা লিখে রেখেছেন তার বিন্দু মাত্রও পরিবর্তন যোগ্য নয় আর তাইতো এক সময় সেই খিলাফত ব্যাবস্থাও রাষ্ট্রীয় ভাবে ধ্বংস হয়ে গেল। তবে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) আমাদের নিশ্চিত করে গেছেন সেই খিলাফত আবার আসবে, নবুওতের আদলে। এবার আসলে এটি আর কখনোই ধ্বংস হবে না, পৃথিবীর প্রত্যেকটা ঘরে ঘরে পৌছিয়ে দিবে ইসলাম এবং চলবে কিয়ামত পর্যন্ত।

[সূত্র: মুহম্মদ ইবন কাশিম : নসীম হিজাযী]

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s