মুসলিমদেরকে দলে-উপদলে বিভক্ত করার লক্ষ্যে ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকানো হয়েছে যেভাবে।

ইন্নাল হামদালিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন। বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। সালামুন আ’লা মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আ’লাইহি ওয়া সাল্লাম ওয়া সালামুন আ’লাল মুরসালীন।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হ্যামফের (Hampher) নামক এক বৃটিশ গোয়েন্দার লেখা একটি ডায়েরী জার্মানদের হস্তগত হয়। বিখ্যাত জার্মান পত্রিকা ইসপিগল পরবর্তীতে ডায়েরীটির লেখাগুলো ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করে। ডায়েরীটির ইংরেজী ভার্শন Hakikatkitabevi ওয়েব  সাইটে Confessions of a British spy নামে আছে। ঐ ডায়েরী থেকে জানা যায়- খোলাফায় রাশেদিন যুগে প্রায় অর্ধ পৃথিবী ব্যাপি ইসলামের প্রসার লাভ করে, এটি কোনভাবেই খৃষ্টানগণ মেনে নিতে পারছেনা। আর তাই সকল খৃস্টান বিশেষজ্ঞগণ একত্রে মিলে এক মহা পরিকল্পনা গ্রহণ করে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী খোলাফায়ে রাশেদীন যুগের অবসানের পর পরই পশ্চিমা গোয়েন্দারা ইসলামের বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রে মেতে উঠে। ডায়রী থেকে আরো জানা যায়, ঐ গোয়েন্দা হ্যামফের কে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে, একটি বিশেষ মিশনে পাঠানো হয় মধ্যপ্রাচ্যে। সে প্রথমেই পৌঁছায় খোলাফায়ে রাশেদিনের কেন্দ্রস্থল ইস্তাম্বুলে। সেখানে সে স্থানীয় মুসলমানদের মাতৃভাষা তুর্কি রপ্ত করে এবং মুসলমানদের সাথে নিয়মিত মসজিদে যাওয়া আসা শুরু করে। পরবর্তীতে সে ওখানকার এক ইসলামী নেতা আহমদ ইফেন্দীর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করে এই বলে যে, সে একজন ইয়াতিম, দুনিয়ায় তার আর কেউ নেই, কোন অর্থ সম্পদও তার নেই। সঙ্গত কারনেই আহমদ ইফেন্দী তাকে আশ্রয় দেন এবং তাঁর কাছ থেকেই ঐ গোয়েন্দা পরিপূর্ণভাবে কোরআন শিক্ষা লাভ করে। ওখানেই সে তুর্কি, আরবী, কোরআন ও শরীয়ত শিক্ষায় ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে।

এরপর ঐ গোয়েন্দা দ্বিতীয় মিশন নিয়ে ইরাকের বসরায় গমন করে এবং সাধারণ লোকদের সাথে ব্যাপক বন্ধুত্ব তৈরী করে। বসরার এক বিশিষ্ট ব্যক্তির সাথে সে বন্ধুত্ব স্থাপন করে এবং তার ইসলামী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ঐ ব্যাক্তিকে ভুল পথে পরিচালিত করতে শুরু করে। অতঃপর ঐ গোয়েন্দা নিজেই একজন বিজ্ঞ আলেম সেজে ঐখানে একটি মাদ্রাসা খুলে বসে। তার ডায়েরী থেকে আরো জানা যায় ঐ সময়টিতেই তার মতো আরো বহু এজেন্ট একইরকমভাবে বিভিন্ন মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে মিশন শুরু করে। তারা ইসলামী চিন্তাবিদগণকে ভুল পথে পরিচালিত করতে শুরু করে, আবার ক্ষেত্র বিশেষে নিজেরাই বিজ্ঞ আলেম সেজে কুরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখার মাধ্যমে বিভিন্ন রকম ফতোয়া দিতে শুরু করে। তারা বহু মাদ্রাসা খুলে আরবী শিক্ষা দেওয়া শুরু করে এবং শিক্ষার সিলেবাসে এমন কিছু ভুল সুকৌশলে ঢুকিয়ে দেয়, যেন সকল মাদ্রাসা ছাত্রগণই ভুল ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠে। তারা আরেকটি কাজ সুকৌশলে করতে সফল হয়, যা হচ্ছে- কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করে ইসলামে বিভিন্ন রকম কোন্দলের সৃষ্টি করা, যার পরিণতিতে ইসলামে বিভিন্ন দল ও উপদলের সৃষ্টি হতে শুরু করে। তার ডায়েরী থেকে জানা যায়, ঐ এজেন্টদের দুইটি প্রধান টার্গেট দিয়ে পাঠানো হতো :

১) মুসলমানদের দুর্বল (বিশেষ করে জ্ঞানের) জায়গাগুলো খুঁজে বের করা।

২) ঐ পথে তাদের দেহে প্রবেশ করা এবং তাদের জোড়াগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া। এটিই শত্রুকে পরাজিত করার মূল পথ।

ঐ ডায়েরীর বিষয়বস্তু বিশ্লেষণ ও পর্যালোচনা করে তাদের যে কর্ম পরিকল্পনা পাওয়া যায় তা নিম্নরূপ :

  • ইসলামের শত্রুরা, ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য হাজার হাজার গোয়েন্দা হিজাজ (মক্কা-মদিনা), মিশর, ইস্তাম্বুল, ইরাক, ইরানসহ সকল মুসলিম দেশে পাঠিয়ে দেয়।
  • ঐ গোয়েন্দাদের বৃটেনের এক গোপন মাদ্রাসায় আরবী শিখিয়ে কোরআন, হাদিস ও শরীয়াহ জ্ঞানে পারদর্শী আলেম হিসাবে তৈরী করা হয়, অথবা তারা কর্মস্থলে গিয়ে আরবী শিখে কোরআন, হাদিস ও শরীয়াহ জ্ঞানে পারদর্শী হয়ে আলিম বনে যায়।
  • গোয়েন্দারা আলিম হিসাবে মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল, ভাইস প্রিন্সিপাল, শিক্ষক, মসজিদের খতিব, শিশুদের আরবী গৃহ-শিক্ষক ইত্যাদি পদে চাকুরী নেয়।
  • ঐ গোয়েন্দা আলেমরা মুসলিম দেশ, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে কোরআন-হাদিসের ভুল ব্যাখ্যা করায় অথবা নিজেরাই বিশেষজ্ঞ সেজে ভুল ব্যাখ্যা দিতে শুরু করে।
  • গোয়েন্দা আলেমরা মুসলমানদের সাথে মিলেমিশে মাদ্রাসা গড়ে তোলে।
  • অতঃপর তাদের তৈরী করা ভুলগুলো বিভিন্নভাবে, বিশেষ করে মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে দিয়ে মুসলিম সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়।

বৃটিশ গোয়েন্দা হ্যামফের সম্পর্কে জানতে ক্লিক করুন:

http://en.wikipedia.org/wiki/Memoirs_Of_Mr._Hempher,_The_British_Spy_To_The_Middle_East

০২.০৪.১৯৯৮ইং তারিখে প্রকাশিত “দৈনিক ইনকিলাব” একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ঐ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- ভারতের আলীগড়ের একসময়ের নওয়াব ছাতারী, যিনি ভারতে বৃটিশ প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠায় ইংরেজদের সার্বিক সহযোগী ছিলেন। আনুগত্যের পুরষ্কার হিসাবে পরবর্তীতে তিনি উত্তর প্রদেশের গভর্ণর নিযুক্ত হন। উত্তর প্রদেশে অনেক ইংরেজ, কালেক্টরেট পদে বদলী হয়ে আসেন। ইংরেজদের সহযোগী হিসাবে ছাতারীর সাথে ঐ সব কালেক্টরদের বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। একবার বৃটিশ সরকার ভারতবর্ষের সকল গভর্ণরদের বৃটেনে ডেকে পাঠান। ঠিক ঐ সময়টিতে বৃটেনে অবস্থানরত ছাতারীর এক পুরাতন ইংরেজ বন্ধু, কালেক্টরেট ও কমিশনারের সাথে তার দেখা হয়ে গেলে, তিনি বৃটেনে বিশেষ কিছু কি আছে! তা পরিদর্শনের ইচ্ছা পোষন করেন। ঐ কমিশনার তখন ছাতারীকে বৃটিশ সরকারের লিখিত অনুমোদন স্বাপেক্ষে একটি বিশেষ স্থান পরিদর্শনে নিয়ে যান। বন্ধুর সহযোগিতায় লোকালয় থেকে বহু দূরে, এক গভীর অরণ্যে, সেনা ছাওনীর অভ্যন্তরে বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীর ভিতরে গড়ে উঠা একটি বিশাল মাদ্রাসা পরিদর্শন করার সৌভাগ্য লাভ করেন তিনি। সেখানে তিনি দেখতে পান, আরবী শিক্ষা ও ইসলামী জ্ঞানে বিশেষজ্ঞ তৈরী করার এক বিশাল কারখানা, যেখানে আধুনিক, উন্নত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কোরআন, হাদিস, আরবী সাহিত্য ও ইসলামের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম বিষয় সমূহ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। বন্ধুর বদান্যতায়, আরো একটি বিষয় তিনি জানতে পারেন যে, ঐ মাদ্রাসার সকল শিক্ষক ও ছাত্রগণই, বৃটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য ও খৃস্টান পাদ্রী। ওখান থেকেই বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দিয়ে, গোয়েন্দাদেরকে বিশেষ মিশনে পাঠানো হতো মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে। সেখানে তারা নানা রকম ছলা-কলা ও কৌশলের আশ্রয় নিয়ে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, ছোট বাচ্চাদের কুরআনের গৃহশিক্ষক, মাদ্রাসার মুহাদ্দিস বা মুফতি হিসাবে ঢুকে পড়ত। যেহেতু তারা আরবী সাহিত্যে ও ইসলামী জ্ঞানে পারদর্শী, তাই নিয়োগ পেতে তাদেরকে তেমন কোন সমস্যায়ই পড়তে হতো না। তারই জ্বলন্ত প্রমাণ পাওয়া যায় আমাদের এই ভারতীয় উপমহাদেশে।
উপমহাদেশের মুসলিমরা বেশ কিছুদিন ধরেই মুসলিমদের জন্য একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-মাদ্রাসা স্থাপনের জন্য দাবী জানিয়ে আসছিলো। ইংরেজরা দেখলো চক্রান্ত বাস্তবায়নের এমন মোক্ষম সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত হবে না। মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান দাবীকে সম্মান দেখানো হবে আবার নিজস্ব পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে এই মানসে বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির তদানীন্তন গভর্নর জেনারেল স্যার ওয়ারেন হেস্টিংস (Warren Hastings) ১৭৮০ সালের অক্টোবরে কলকাতার শিয়ালদহ’র নিকটে বৈঠকখানা রোডে একশত টাকায় একটি বাড়ি ভাড়া করে ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-মাদ্রাসা স্থাপন করেন। যা আজ মাদ্রাসা-ই-আলিয়া নামে সকলের নিকট পরিচিত। মাত্র ৪০ জন ছাত্র নিয়ে মাদ্রাসাটি পথ চলা শুরু করে। প্রাথমিক পর্যায়ে এই প্রতিষ্ঠানে আরবি, ফারসি, ইসলামী ধর্মতত্ত্ব ও আইন পঠনপাঠনের শিক্ষা কার্যক্রম চালু করা হয়। তৎকালীন ধর্মীয় শিক্ষার সর্বোচ্চ এবং একমাত্র সরকারী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্যেও ইংরেজরা তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের পদটি ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের হাত ছাড়া করেনি। এ ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রথম প্রিন্সিপাল ব্রিটিশ নাগরিক মিস্টার স্প্রেনজার (Dr. A. Sprenger, M.A)। সর্বশেষ ব্রিটিশ প্রিন্সিপাল মিস্টার হ্যামিলটন হারলে (Mr. Alexander Hamilton Harley, M.A.)। প্রথম মুসলিম প্রিন্সিপাল খান বাহাদুর মাওলানা কামাল উদ্দিন আহমাদ। মুসলমানদের মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল যেন খৃষ্টান হতে পারে, সে জন্য তারা আইন করলো ICS (International Christian School)-এর পাশ করা লোক ছাড়া কেউ আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হতে পারবে না এবং তারা জানত যে, এ উপমহাদেশের কোন মুসলমান ICS পাশ নেই। যার ফলশ্রুতিতে দেখা গেছে আলীয়া মাদ্রাসার (বর্তমানে কোলকাতা থেকে ঢাকায় স্থানান্তরিত) প্রথম ২৬ জন প্রিন্সিপালই (১৮৫০ইং-১৯২৭ইং তথা প্রথম ৭৭ বছর) ছিলেন ইয়াহুদী বা খৃস্টান। তাদের নামের তালিকা আজও আলীয়া মাদ্রাসার প্রিন্সিপালের রুমের দেয়ালে টানানো আছে। পাঠকদের জ্ঞাতার্থে মাদ্রাসা-ই-আলিয়া’র সম্মানীত প্রিন্সিপালগণের তালিকা পেশ করছি :

1780-1850 European Secretaries

1850-1927 European Principals

1927-Till Muslim Principals

1. Dr. A. Sprenger, M.A,  2. Sir William Nassalees, L.L.D, 3. J. Staklip, M.A, 4. Henry Ferdinand Blockman, M.A, 5. A.E. Galf, MA, 6. Dr. A.F.R. Hornel, C.I.E. PhD, 7. H. Prothero, M.A, 8. Dr. A.F.R. Hornel, C.I.E. PhD. (2nd time ), 9. F.J Roe, M.A, 10. Dr.A.F.R. Hornel, C.I.E. PhD. (3rd time), 11. F.J Roe, M.A (2nd time), 12. Dr.A.F.R. Hornel, C.I.E. PhD. (4th time), 13. F.J Roe, M.A (3rd time), 14. F.C. Hall. B.A. S.SC, 15. Sir. Earl. Stain, PhD, 16. H.A. Stork, B.A, 17. L.T. Colonel G.S.A. Ranking. M.D. I.MS, 18. H.A. Stork, B.A, 19. Sir. Edward Denison Rass, PhD, 20. H.E. Stepleton B.A. BSc, 21. Sir. Edward Denison Rass, PhD (2nd time ), 22. Mr. Chapman, 23. Sir. Edward Denison Rass, PhD (3rd time), 24. Mr. Alexander Hamilton Harley, M.A, 25. Mr. J.M. Botomely, B.A, 26. Mr. Alexander Hamilton Harley M.A (2nd time)

27. Samsul Ulama Kamaluddin Ahmad, M.A. I.E.S (1st Muslim Principal)

(তথ্যসূত্র: http://www.dhkgovmalia.edu.bd/previous-honorable-principals)

যেহেতু ঐ সময়টাতে বৃটিশ শাসন চালু ছিল, সেহেতু তাদেরকে কোন ছদ্মনাম ব্যবহার করতে হয়নি। আসল নামেই তাদের পরিচিতি ছিল। শুধু প্রিন্সিপাল নয়, মুফাসসির, মুহাদ্দিস, মুফতি ইত্যাদি বিভিন্ন পদও দখল করে রেখেছিল আলেম বেশধারী ঐ খৃস্টানগণ। ফলে খুব সঙ্গত কারণেই মাদ্রাসার সিলেবাস তাদের ইচ্ছামতো তৈরী হয়েছে এবং তারা তাদের আবিষ্কৃত মৌলিক ভুলগুলি মাদ্রাসার সিলেবাসে এমনভাবে ঢুকিয়ে দিতে সক্ষম হয় যে, পরবর্তীতে সেগুলো আর কারো দ্বারা পরিবর্তন করা সম্ভবপর হয়ে উঠেনি। পরিশেষে ক্ষেত্র তাদের অনুকুলে প্রস্তুত হওয়ার পর, তারা প্রিন্সিপালের দায়িত্ব মুসলিমদের হাতে ছেড়ে দেয়।
আল কুরআনের আয়াতসমূহের ৮ ভাগের ১ ভাগই হচ্ছে বিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট। তাই আজ থেকে প্রায় ৭০০ বছর আগেও সারা বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানে রাজত্ব করতো মুসলিম পন্ডিতগণ। কিন্তু এখন? অবাক ব্যাপার হলো, ইসলামী বিশ্বে তথা আমাদের দেশের কওমী মাদ্রাসাগুলোর সিলেবাসে বিজ্ঞান (General Science), অর্থনীতি (Economics), অংক (Mathematics), সমাজবিজ্ঞান (Sociology), রাষ্ট্রবিজ্ঞান (Political Science), পদার্থবিদ্যা (Physics), রসায়নবিদ্যা (Chemistry) ইত্যাদি বিষয় নেই। আছে শুধু ধর্মীয় বিষয়। তার কারণ হিসাবে মাদ্রাসার পাঠ্য বইয়ে যা উল্লেখ আছে তা হলো-
“বস্তুত দ্বীনি ইলম ব্যাতিত যা কিছু আছে, তা সবই আল্লাহ্’র পথের প্রতিবন্ধক।”

এ মর্মে আল্লামা রূমির একটি শের প্রনিধানযোগ্য যার অর্থ:

ইলমে দ্বীন হল ইলমে ফিক্‌হ, তাফসীর ও হাদীস। এগুলো ছাড়া যে অন্য কিছু অধ্যয়ন করবে সে আল্লাহ বিস্মৃত হতে বাধ্য।

(পৃষ্ঠা নং ১৬, উসূলুশ শাশী, প্রকাশক আল-আকসা লাইব্রেরী, ঢাকা। প্রকাশকাল ০৯. ১১. ২০০৪ ইং)

বৃটিশ গোয়েন্দার ঐ ডায়েরী থেকে জানা যায়, তাদের আরেকটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল; মুসলিম জাতিকে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করে ফেলা। আজ মুসলিম জাতি বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত। গোয়েন্দারা তাদের এ উদ্দেশ্যটি সাধন করতে গিয়ে দেখেছে একটি জাতিকে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করে ফেলার ফলপ্রসু উপায় হচ্ছে- তাদের ঈমান ও ইসলাম সংশ্লিষ্ট মূল জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে দেওয়া। যেমন “আল্লাহ্’র পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব (Sovereignty) মেনে নিলে ঈমান নষ্ট হয় না, র্শিক হয় না, কারণ সার্বভৌমত্ব ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট”, “আল্লাহ্’র পরিবর্তে কেউ আইন-বিধান প্রনয়ণ করলে সে ব্যক্তি কাফির এই বিশ্বাস রাখতে হবে কিন্তু সমাজে ফিত্নার আশংকা আছে বিধায় তাকে প্রকাশ্যে কাফির বলা যাবে না”, “কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীকে যারা আইন-বিধান প্রনয়ণের ক্ষমতা দিয়েছে তারা গুনাহ্’র কাজ করেছে তবে তারা র্শিককারী বা মুশরিক নয়”, “আল্লাহ্’র আইন আছে একথা সুস্পষ্ট জানা সত্যেও আল্লাহ্’র পরিবর্তে মানব রচিত আইন-বিধান দ্বারা বিচার-ফায়সালাকারী ব্যক্তি কাফির নয়”, “না বুঝে র্শিক করলে ঈমান নষ্ট হয় না, মুর্তি পুজারী-মাজার পুজারী মুশরিক কিন্তু আল্লাহ্’র হুকুমের পরিবর্তে বা পাশাপাশি মানব রচিত আইন-বিধান মান্যকারী মুশরিক নয়”, “রকেট সাইন্সের যুগে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য নববী যুগের পদ্ধতি অকার্যকর” ইত্যাদি ইত্যাদি। খৃষ্টান ও ইয়াহুদীরা দেখেছে এই পরিকল্পনা সফল হলে একেক দল একেক মত, ভিন্ন দল ভিন্ন মত পোষণ করে মুসলিমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ফিতনা-ফাসাদ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়তে বাধ্য। আর বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের মাঝে হয়েছেও তাই।

একটি জাতির মূল ধর্মগ্রন্থ (মহান রব্ব কর্তৃক প্রদত্ত কিতাব) অবিকৃত থাকলে, শুধুমাত্র নিজেদের জ্ঞানের দ্বারা কৃত বিশ্লেষণের ভিন্নতার কারণে, বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয়। প্রায় ১৪৫০ বছর গত হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোরআনের একটি অক্ষরও বিকৃত হয়নি। পরে সংযোজিত হরকতসমূহও পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হয়নি। অথচ মুসলিম নামধারীরা আজ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কাজেই খুব সহজেই বুঝা যায়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা আলেমগণ গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামের মূলে, মুসলিমদের জ্ঞানে বিষ ঢুকিয়ে, বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে নিজেরাই বিশেষজ্ঞ সেজে, তাদের আবিষ্কৃত ফতোয়াসমূহ মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়ে, মুসলিম জাতিকে আজ বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত করে ফেলতে সক্ষম হয়েছে। প্রমান স্বরূপ দেখুন ইন্টারনেটে এমন অসংখ্য সাইট আছে যেখানে ইসলামের নাম দিয়ে সমসাময়িক বিষয়ের হালাল হারাম ফতওয়া দিচ্ছে শায়খ নামধারী ইয়াহুদী-খৃস্টানরা:

http://www.answering-islam.org/Testimonies/younathan.html

http://www.islamreview.com/

http://answering-islam.org.uk/

http://www.knowislam.info/drupal/mno

http://www.answering-islam.org

http://www.aboutislam.com

http://www.thequran.com

http://www.allahassurance.com

তাওহীদের পক্ষে আর র্শিক ও কুফরের বিরোধীতায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ক্রমবর্ধমান ভাঙ্গন কে উস্কে দেয়ার পিছনে ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা না যতটুকু দায়ী, তার চেয়ে অধিক দায়ী হচ্ছে মুসলিম সমাজের আলিম নামধারীরা। নিজেদের মাঝে দলাদলি আর মতভিন্নতা সম্পর্কে তারা বলে থাকেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- “আমার উম্মতের মধ্যে ইখতেলাফ (পারস্পরিক মতবিরোধ) রহমত স্বরূপ” সুতরাং পারস্পরিক মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ ইসলামী দলই হক্ব। এই বাক্যটি হাদীস কি-না তা কুরআন-সুন্নাহ্’র মানদন্ডে যাচাই-বাছাই না করেই এর রেফারেন্স দিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা তথা খিলাফত ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পথে নিজেরাই যে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে আছেন তা তাদের চিন্তা-চেতনায়ই আসছে না।
আল্লামা জালালুদ্দিন আস সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহু) (জামেউস সাগীর গ্রন্থে), আল্লামা নাসিরদ্দীন আলবানী, মানাবী (রহিমাহুল্লাহু) (সুবকীর উদ্ধৃতিতে), শাইখ জাকারিয়া আল-আনসারী (তাফসীর বায়যাবী গ্রন্থের টিকায়), ইমাম ইবনু হাযম (রহিমাহুল্লাহু) (আল-ইহকাম ফি উসূলিল আহকাম গ্রন্থে) প্রমুখ আলিম উল্লিখিত বাক্যটির ব্যাপারে বলেছেন : “হাদীসটি মুহাদ্দিসদের নিকট পরিচিত নয়। এটির কোন সহীহ, দুর্বল এমনকি জাল সনদ সম্পর্কেও অবহিত হতে পারি নি।” অর্থাৎ হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই। মুহাদ্দিসগণ হাদীসটির সনদ বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। এছাড়া হাদীসটির অর্থও বিচক্ষণ আলিমদের নিকট অপছন্দনীয়। এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট কথা। কারণ মতভেদ যদি রহমত স্বরূপ হত, তাহলে মতৈক্য অপছন্দনীয় হত। এটি এমন একটি কথা যা কোন মুসলিম ব্যক্তি বলতে পারেন না। এ বানোয়াট হাদীসের কুপ্রভাবে বহু মুসলমান কিতাবুল্লাহ ও সহীহ হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টাও করেন না। অথচ সকল মাযহাবের ইমামগণ কুরআন ও সহীহ হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। আর স্বাভাবিকভাবেই এই বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস না হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ, কারণ এর ভাষ্য কুরআনের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত। দেখুন মহান আল্লাহ্ তা’য়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে স্পষ্ট ঘোষনা করেছেন-
“তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর এবং এ ব্যাপারে পরস্পর দলাদলি-বিচ্ছিন্নতা করো না।” (সূরা শুরা ৪২:১৩)
“নিশ্চয় যারা স্বীয় দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে; হে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তাদের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই।” (সূরা আল আনআম ৬:১৫৯)
“তোমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁর অভিমুখী হয়ে শুধুমাত্র তাঁকেই ভয় করো, আর সালাত কায়েম করো এবং এমন মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেয়ো না, যারা তাদের দ্বীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছে। প্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত হয়ে আছে।” (সূরা রুম ৩০:৩১-৩২)
আয়াতসমূহ স্পষ্ট ভাবে জানাচ্ছে যে, দ্বীন প্রতিষ্ঠায় মতভেদের অনুমতি আল্লাহ তা’য়ালার নিকট হতে আসেনি। অতএব কীভাবে এ মতভেদকে অনুসরণীয় শরীয়ত বানিয়ে নেয়া সঠিক হয়? আর কীভাবেই তা নাযিলকৃত রহমত হতে পারে? মোটকথা দ্বীন প্রতিষ্ঠায় শরীয়তের মধ্যে মতভেদ নিন্দনীয়। ওয়াজিব হচ্ছে যতদূর সম্ভব তা থেকে মুক্ত হওয়া। কারণ এটি হচ্ছে উম্মতের দুর্বলতার কারণসমূহের একটি। যেমনিভাবে আল্লাহ পাক বলেছেন :
“আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিনষ্ট হয়ে যাবে৷ আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন।” (সূরা আনফাল ৮:৪৬)
অতএব মতভেদে সন্তুষ্ট থাকা এবং মতভেদ কে রহমত হিসেবে নামকরণ করা সম্পূর্ণ কুরআন বিরোধী কথা, যার অর্থ খুবই স্পষ্ট। অপরপক্ষে মতভেদের সমর্থনে সনদবিহীন এ ভিত্তিহীন হাদীস ছাড়া আর কোন দলীল নেই। এখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন, অথচ তারা লোকদের মধ্যে সর্বোত্তম। সুতরাং উল্লিখিত বাক্যটি অবশিষ্ট উম্মাহর জন্য কেন গ্রহনযোগ্য হবে না? হবে না এই কারণে যে, তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর পথ এবং হক্বের পক্ষকে গ্রহণ করার জন্য সচেষ্ট ছিলেন। তাদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছেন তিনি তাতেও সওয়াবের অধিকারী এবং একটি সওয়াব পাবেন। খালেছ নিয়্যাত এবং উত্তম ইচ্ছা থাকার কারণে। তাদের উপর হতে আল্লাহ্ তাদের ভুলের গুণাহ উঠিয়ে নিয়েছেন। কারণ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেননি; আর তারা সত্যকে জানার গবেষণার ক্ষেত্রে অলসতাও করেন নি। ফলে তাদের মধ্যে যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন, তিনি দু’টি সওয়াবের অধিকারী। (দলীল: আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ/৩৮৬, হা/৩৫৩৬, ই.ফা.বা)। এমন ধারা প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ধর্মীয় ঐ সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে যেগুলোর সমাধান লুকায়িত, যা আমাদের নিকট এখনো পৌঁছায়নি। আর সাহাবীগণের সম্পর্কে আল্লাহ্ পাকের ফায়সালা দেখুন কুরআনে:
“…তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারা। তিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিত। তারা তথায় চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট। তারাই আল্লাহর দল। জেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে।” (সূরা মুজাদালাহ ৫৮:২২)
সুতরাং “আমার উম্মতের মধ্যে ইখতেলাফ (পারস্পরিক মতবিরোধ) রহমত স্বরূপ” বাক্যটির অনুসরণকারী ঐ ব্যক্তির জন্য সর্বাবস্থায় নিন্দা ও অভিসম্পাত যে কুরআনকে এবং নাবীর হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে, তার নিকট স্পষ্টভাবে দলীল প্রতীয়মান হওয়ার পরেও। বরং কুরআন ও হাদীসকে পরিত্যাগ করার মানসে অন্য ব্যক্তির সাথে সে সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইচ্ছাকৃতভাবে মতভেদের অন্ধ অনুসরণ করে, গোঁড়ামী ও অজ্ঞতার দিকে আহবানকারী হিসেবে। সে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার দাবীর সমর্থনে কুরআন ও হাদীসের যে কথাটি মিলে সেটি গ্রহণ করে আর যেটি তার বিপরীতে যায় সেটি পরিত্যাগ করে। এরাই হচ্ছে নিন্দনীয় মতভেদকারী।
তবে বিভিন্ন মুসলিম স্কলারের গবেষণা হতে এ সত্যই বের হয়ে এসেছে যে, পবিত্র কুরআনের এই আয়াতকে আড়াল করে, জাল-বানোয়াট হাদীস তৈরী করে, মুসলিম উম্মাহ কে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করার সুন্দর ব্যবস্থা করেছে মূলতঃ মুসলিম নামধারী খৃষ্টান ও ইয়াহুদী গোয়েন্দা আলিমগণ। আজ মুসলিম জাতি বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত। খৃষ্টান ও ইয়াহুদী গোয়েন্দারা তাদের এ উদ্দেশ্যটি সাধনে দারুনভাবে সফল হয়েছে (যদিও দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়াটা র্শিকের পরোক্ষ ফলাফল)।

কুরআন ও সূন্নাহর বিভিন্ন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয়ে প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানগণ যে উত্তর দেয়, সকল মাদ্রাসা শিক্ষিত আলিম তার বিপরীত উত্তর দেয়। যেমন-
* হাদীস কুরআনকে রহিত করতে পারে কি?
বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানগণ অভিন্ন উত্তর দিবেন যে, হাদীস কখনও কুরআনকে রহিত করতে পারে না। কিন্তু অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষিত আলেমগণ উত্তর দিবেন- হাদিস কুরআনকে রহিত করতে পারে। কারণ তাদের সিলেবাসের মধ্যে এটি আছে।
* কুরআনের অনেক আয়াতের তিলাওয়াত চালু আছে কিন্তু হুকুম চালু নাই। তথ্যটি কি সত্য?
বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন প্রায় সকল সাধারণ শিক্ষিত মুসলমানগণ এক বাক্যে উত্তর দিবেন যে, এটি কখনও সত্য হতে পারে না। কিন্তু অধিকাংশ মাদ্রাসা শিক্ষিত আলিমগণ উত্তর দিবেন- এটি সত্য। কারণ এটিও তাদের সিলেবাসে আছে।
এ দু’টি ঘটনার জন্য দু’টি কারণ থাকতে পারে। যথা:
১. কুরআন ও সূন্নাহর অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বিষয় সাধারণ জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিপরীত।
২. মাদ্রাসার সিলেবাসে ষড়যন্ত্র করে ভুল আকীদাহ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আমার বিশ্বাস সকল বিবেকবান মানুষই বলবেন, মাদ্রাসার সিলেবাসে ষড়যন্ত্র করে ভুল আকীদাহ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাস্তবতা হচ্ছে- একটি তথ্য আরেকটি তথ্যকে রহিত করার প্রসঙ্গ তখনই আসে যখন তথ্যদ্বয় পরস্পর বিপরীতমূখী হয়। সূরা হাক্কাহ’র ৬৯:৪৪-৪৭ নং আয়াতে পবিত্র কোরআন কি স্বাক্ষ্য দেয়-
“এ নাবী [রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] যদি (কুরআনের বিপরীত) কোন কথা রচনা করে আমার কথা বলে চালিয়ে দিত, তবে আমি তাঁর ডান হাত ধরে ফেলতাম এবং তাঁর ঘার ছিঁড়ে ফেলতাম। তখন তোমাদের কেউ-ই (আমাকে) এ কাজ থেকে বিরত রাখতে সক্ষম হতে না।” (কোন কোন তাফসীরে এসেছে-তাঁর জীবন ধমনী (কন্ঠ-শিরা) কেঁটে ফেলতাম, তাঁর ঘাড়ের রগ কেটে দিতাম) ।”
আবার সূরা বাকারাহর ২:১৮৫ নং আয়াতে মহান আল্লাহ তা’য়ালা ঘোষণা করেন-
“কুরআন মানব জাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য-সঠিক পথ দেখায় এবং হক (সত্য) ও বাতিলের (অসত্যের) মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্যকারী।”
অর্থাৎ কুরআন হক্ব (সত্য) আর বাকী সব বাতিল (অসত্য বা মিথ্যা)। তাই কুরআনের বিপরীত কোন কথা রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর কথা হতে পারে না। কাজেই হাদীস কুরআন কে রহিত করার প্রশ্নই আসে না। রহিত করতে হবে যা কুরআন-হাদীস বিরোধী ঐগুলো। হাদীসের কোন কথা কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হলে, ঐ হাদিস যে গোয়েন্দা আলিমদের তৈরী করা জাল হাদিস হবে, তা বলার আর অবকাশ রাখে না।
আমাদের সম্মুখে ইসলামের মৌলিক বিষয়সমুহের (ঈমান, ইসলাম, আমলে সালেহ, তাওহীদ, শিরক, তাগুত, সার্বভৌমত্ব প্রভৃতি) সম্পর্কে কোরআন, হাদিস এবং বাস্তবতার অনেক স্পষ্ট ও সহজবোধগম্য তথ্য রয়েছে। কিন্তু ফিকাহ শাস্ত্রের বদান্যতায়, ঐসকল প্রতিটি বিষয়ের সম্পূর্ণ বা আংশিক বিপরীত কথা সমগ্র মুসলিম বিশ্বে ব্যাপকভাবে চালু আছে। এর কারণ কোনটি হতে পারে?
১। ইসলামী বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান বুদ্ধি খুবই কম ছিল।
২। ষড়যন্ত্র করে ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রকৃত মুসলিমগণ অবশ্যই এ ঘটনার কারণ দ্বিতীয়টি বলে স্বীকার করবেন। ইসলামের মূল জ্ঞানে ভুল ঢুকানো এবং তা স্থায়ী করণে গোয়েন্দারা বিভিন্ন স্তরে যে বিষ্ময়কর কাজগুলো করেছে তা নিম্নরূপ:

  • ইসলামী জ্ঞানের উৎসের তালিকায় ভুল ঢুকিয়ে দেওয়া।
  • কুরআনের জ্ঞান থেকে দূরে সরানোর ব্যবস্থা করা।
  • সহীহ সূন্নাহর জ্ঞান থেকে দূরে সরানোর ব্যবস্থা করা।
  • কুরআনের চেয়ে হাদীসকে বেশী গুরুত্ব দেওয়ার ব্যবস্থা করা।
  •  অভিনব পদ্ধতিতে ভুল তথ্য তৈরী করা।
  •  ভুল তথ্যগুলো ফিকাহ শাস্ত্র ও মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা।
  • কুরআন, হাদীস বাদ দিয়ে ফিকাহ শাস্ত্র থেকে ইসলামী জ্ঞান অর্জনকে উৎসাহিত করা।
  • ফিকাহ শাস্ত্রের সংস্কার বন্ধ করে দিয়ে ভুল তথ্যগুলো সংস্কারের পথ বন্ধ করে দেওয়া।
  • ভুল তথ্যগুলো মুসলিমদের বিনা দ্বিধায় মেনে নেওয়ার ব্যবস্থা করা।

এতদ্ব্যতীত ঐ গোয়েন্দারা প্রথমে কুরআনের আয়াত বানাতে চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে, জাল হাদীস বানিয়ে ইসলামের গভীরতম মূলে মাদ্রাসার পাঠ্য বই ফিকাহ শাস্ত্রে ঢুকিয়ে দিয়েছে এবং “ফিকাহ শাস্ত্র সংস্করণ করা নিষিদ্ধ” এই তথ্যটি ফিকাহ শাস্ত্রের প্রথমেই ঢুকিয়ে দিয়ে কথাটির ব্যাপক প্রচার ও গ্রহণযোগ্যতা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার কুফল আজ বয়ে বেড়াচ্ছে সমগ্র মুসলিম জাতি। আবার “পূর্বে ইজমা হয়ে আছে তাই এ বিষয়ে আর গবেষণা করা যাবে না” কুরআন, হাদীস ও বিবেক-বুদ্ধি বিরুদ্ধ এই কথাটি ফিকাহ শাস্ত্রে ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়েছে। অথচ কোন খলিফার আমলে, কোন স্থানে, কোন কোন আলিমের মতৈক্যের ভিত্তিতে এ ইজমা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তার কোন দলিল তারা অদ্যবধি কোন কিতাবে উল্লেখ করেননি।
মুসলিম বিশ্বে আলিম সম্প্রদায়ের মাঝে কিছু আলিম আছেন যারা কারো কাছে শুনা কোন হাদিস অথবা বিভিন্ন দলিল-প্রমানহীন (কুরআন-সুন্নাহর রেফারেন্স বিহীন) কিতাবাদিতে পড়া কোন কাহিনী/ঘটনা/হাদীস কোনরূপ যাচাই বাছাই ছাড়াই বিভিন্ন ওয়াজ মাহিফল তথা সাধারণ মুসলমানগণের নিকট প্রচার করে থাকেন। এই শ্রেণীর আলিম স¤প্রদায়ের জন্য সাধারণ মুসলিমগণ খুব সহজেই গোমরাহীতে (পথভ্রষ্টতায়) পতিত হন। কিন্তু নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐসব তথাকথিত আলিমদের ব্যাপারে অতি কঠোর অবস্থানে ছিলেন- হযরত আবু হুরাইরা (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, মানুষ মিথ্যুক হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শুনে (যাচাই বাছাই ব্যাতিত) তাই বর্ণনা করে দেয়। (মুসলিম শরীফ, অনুচ্ছেদ:৩, বা. ই.সে.)
অন্য এক হাদীসে নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:
“যে ব্যাক্তি আমার উপর এমন কথা আরোপ করে যা আমি বলিনি, সে যেন জাহান্নামে তার ঠিকানা বানিয়ে নেয়।” (মুসলিম শরীফ, অনুচ্ছেদ:২, বা. ই.সে., বুখারী শরীফ)
নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ওসিয়ত-
হযরত ইবরাজ বিন সারিয়া (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত- রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন-“… আমার পর তোমাদের মধ্যে যারা বেঁচে থাকবে তারা অল্প দিনের মধ্যেই অনেক মতভেদ দেখতে পাবে, তখন তোমরা আমার সূন্নাহে এবং সৎপথপ্রাপ্ত খোলাফায়ে রাশেদীনের সূন্নাতকে আঁকড়ে ধরবে এবং দাঁত দ্বারা কামড়ে ধরে থাকবে। অতএব সাবধান! তোমরা নতুন কথা থেকে বেঁচে থাকবে, কেননা প্রত্যেক নতুন কথাই বিদআত এবং প্রত্যেক বিদআতই গোমরাহী।” (সূনানে আবু দাউদ-৩৮৫১)
কিন্তু আফসোস! আজ সারা বিশ্বের তথা অধিকাংশ মুসলমানগণই অন্ধভাবে প্রচলিত ধর্মীয় বিধি-বিধান অনুকরণ করে চলেছেন। কোন ধর্মীয় নেতা/আলেম (পীর/দরবেশ) যা বলেছেন, তাই অন্ধভাবে অনুসরণ করে চলেছেন। ঐ বলার পেছনে কোন দলিল-প্রমাণ যাচাই করে না কেউ। অনেকেরই যুক্তি- আমরাতো আরবী জানি না, আবার কেউ কেউ বলছেন- লেখা পড়া জানি না, তাহলে অন্ধ অনুকরণ না করেতো আমাদের উপায় নেই। কুরআন-সুন্নাহর পরিবর্তে তথাকথিত হাক্কানী আলিমদের অন্ধ অনুসরণের ব্যাপারে মহান আল্লাহ তা’য়ালার স্পষ্ট বাণী যা বর্তমানে নির্মম সত্য হিসেবে আমাদের সম্মুখে উপস্থিত-
“আর যখন তাদেরকে বলা হয় যে, আল্লাহ যা অবতীর্ন করেছেন, তোমরা তার অনুসরণ কর; তখন তারা বলে (না না) বরং আমরা পিতৃপুরুষদেরকে যাতে (যে মতামত ও ধর্মাদর্শে) পেয়েছি তারই অনুসরণ করব। যদিও তাদের পিতৃপুরুষগণ কিছুই বুঝত না এবং তারা সৎ পথেও ছিল না।” (সূরা বাকারাহ ২:১৭০)
অন্ধ অনুকরণের ব্যাপারে নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর বাণী-
মুহম্মদ ইবনে আব্দুল আজিজ (রহিমাহুল্লাহু) আবু সাইদ খুদরী (রাযিআল্লাহু আনহু) নাবী কারীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের পূর্ববর্তীদের আচার আচরণকে বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে অনুকরণ করবে। এমনকি তাঁরা যদি গুইসাপের গর্তেও প্রবেশ করে থাকে, তাহলে তোমরাও এদের অনুসরণ করবে। আমরা বললাম ইয়া রসুলুল্লাহ এরা কি ইহুদি-নাসারা? তিনি বললেন, আর কারা? (বুখারী-৬৮২১)
মহান আল্লাহ তা’য়ালা পবিত্র কোরানুল কারীমে ঘোষনা করেন-
“তারা আলেম ও দরবেশদেরকে আল্লাহর পরিবর্তে রব্ব বানিয়ে নিয়েছে।” (সূরা তাওবা ৯:৩১)
ব্যাখ্যা : এ আয়াতের ব্যাখ্যা হিসাবে আদি বিন হাতিম (রাযিআল্লাহু আনহু) এর প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: ধর্মীয় বিশেষজ্ঞদের রব্ব মেনে নেওয়ার অর্থ হল তাদের সকল কথা বা সিদ্ধান্ত, নির্ভুল মনে করে, অন্ধভাবে বিনা যাচাইয়ে মেনে নেওয়া তথা তাকলীদ করা। মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘোষনা কি কখনও মিথ্যা হতে পারে? কখনোই না। ঐ ঘোষনারই স্পষ্টত সত্য প্রতিফলন এই গোয়েন্দা কার্যক্রমে প্রকাশিত। সূতরাং দলিল-প্রমাণ ছাড়া অন্ধ অনুকরণ দ্বীন-ইসলামে স্পষ্টত নিষিদ্ধ। আসলে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে, গোয়েন্দা আলিমগণ মুসলিম বিশেষজ্ঞ, পীর, দরবেশ সেজে আসল মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ফাঁকি দিয়ে, কুরআনের আয়াতকে আড়াল করে মুসলিম জাতিকে অন্ধ অনুকরণে বাধ্য করেছে। তবে আলিমদের অনুসরণ কতটুকু করা যাবে এক্ষেত্রেও মহান আল্লাহ তা’য়ালা স্পষ্ট সমাধান দিয়ে রেখেছেন পবিত্র গ্রন্থে-
“যদি তোমরা না জান, তাহলে বিজ্ঞগণকে জিজ্ঞাসা করে নাও দলিল-প্রমাণ ও গ্রন্থসহ।” (সূরা নাহল ১৬:৪৩-৪৪)

পরিশেষে বলতে চাই, মহান আল্লাহ তা’য়ালা ও রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর উপর যারা ঈমান রাখেন তাদের কাছে এ নির্মম সত্য স্পষ্টতই প্রমাণিত যে, মুসলিমবেশী ইয়াহুদী ও খৃষ্টান গোয়েন্দা আলিমদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে মুসলিমরা পা দেয়ার কারণেই ইসলামের মূলে জ্ঞানে ভুল অনুপ্রবেশ করেছে যার পরিণতিতে মুসলিম উম্মাহ আজ দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পরস্পর দ্বন্দ্ব-সংঘাতে লিপ্ত হয়ে নিজেদের শৌর্য-বীর্য হারিয়ে পৃথিবীর বুকে অভিভাবকহীন অসহায় জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। যে মুসলমানকে দেখে কাইসারের কিসরা ধ্বসে যেত, যে মুসলমানকে দেখে হিরাক্লিয়াসের তখত কেঁপে উঠত, যে মুসলমানকে দেখে মহাবীর রুস্তমের হৃদকম্পন শুরু হয়ে যেত, যে মুসলমানের নাম শুনলেই কিং রিচার্ড ব্করুদ্ব হয়ে যেতেন, যে মুসলমানের নাম শুনে রাজা লক্ষণ সেন, গৌড় গোবিন্দরা পেছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে বাঁচতেন, ইয়াহুদী ও খৃষ্টান গোয়েন্দা আলিমদের ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পড়ে আজ সেই মুসলমান গণতন্ত্রী, সমাজতন্ত্রী, রাজতন্ত্রী, জাতিয়তাবাদী, মডারেট মুসলমান হবার আশায় দিনরাত ব্যস্ত! গবেষণায় ব্যস্ত! কত কিতাব-ইনা তারা পড়ে! কেবল কুরআনের হিদায়াত আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নসিহতটুকু পড়ার সময়ই হয় না!
আজ কোথায় সে মুসলমান? যাদের একমাত্র সংবিধান, গাইডবুক হবে আল কুরআন। যাদেরকে আল কুরআনের প্রতিটি হরফই পথ দেখিয়ে দিবে, কি করতে হবে, কখন করতে হবে, এর জন্য তাঁকে কোন যোগ্যতা অর্জন করতে হবে, কিভাবে অর্জন করতে হবে! কেউ কি নেই এই ইয়াহুদী ও খৃষ্টান গোয়েন্দা আলিমদের ষড়যন্ত্রের মুকাবিলায় আল কুরআনকে আঁকড়ে ধরবেন ঈমানের দাবী হিসেবে?

মহান আল্লাহ তা’য়ালা সকল মুসলিমদের ইয়াহুদী ও খৃস্টানদের সকল প্রকার ষড়যন্ত্র থেকে হিফাযত করুন এবং কুরআন ও সুন্নাহর সহীহ-সঠিক জ্ঞান অনুসরণ করে সীরাতুল মুস্তাকিমের পথে পরিচালিত হওয়ার তাওফিক দান করুন। আমীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s