মোহরানার নুন্যতম পরিমান কত?

মোহরানার নুন্যতম পরিমান কত?

বর্তমান সময়ে উম্মাহাতুল মুমিনীনদের মোহরানা এর অনুরূপ পরিমান কত?

দয়াময়, পরম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি।

মোহরানার নুন্যতম পরিমান:
মোহরানার নুন্যতম পরিমান সম্পর্কে বর্ণিত ইমাম বুখারীর সংকলিত হাদীস গ্রন্থের হাদীসটি নিম্নরূপ:

সাহল ইব্নু সা‘দ (রাযিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক মহিলা রাসূলুল্লাহ্  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার জীবনকে আপনার হাতে সমর্পণ করতে এসেছি। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামতার দিকে তাকালেন এবং সতর্ক দৃষ্টিতে তার আপাদমস্তক লক্ষ্য করলেন। তারপর তিনি মাথা নিচু করলেন। যখন মহিলাটি দেখল, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার সম্পর্কে কোন ফয়সালা দিচ্ছেন না, তখন সে বসে পড়ল। এরপর নাবী  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সহাবীদের মধ্যে একজন দাঁড়ালেন এবং বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আপনার বিয়ের প্রয়োজন না থাকে, তবে আমার সঙ্গে এর বিয়ে দিয়ে দিন। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কাছে কিছু আছে কি? সে উত্তর করলো- না, আল্লাহর কসম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার কাছে কিছুই নেই। রাসূলুল্লাহ্সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস বললেন, তুমি তোমার পরিবার-পরিজনের কাছে ফিরে গিয়ে দেখ, কিছু পাও কিনা। এরপর লোকটি চলে গেল। ফিরে এসে বলল, আল্লাহর কসম! আমি কিছুই পাইনি। এরপর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আবার দেখ, লোহার একটি আংটিও যদি পাও। তারপর লোকটি আবার ফিরে গেল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! তাও পেলাম না, কিন্তু এই আমার লুঙ্গি (শুধু এটাই আছে)। (রাবী) সাহল (রাঃ) বলেন, তার কাছে কোন চাদর ছিল না। লোকটি এর অর্ধেক তাকে দিতে চাইল। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে তোমার লুঙ্গি দিয়ে কী করবে? তুমি যদি পরিধান কর, তাহলে তার কোন কাজে আসবে না, আর সে যদি পরিধান করে, তবে তোমার কোন কাজে আসবে না। তারপর বেশ কিছুক্ষণ লোকটি নীরবে বসে থাকল। তারপর উঠে দাঁড়াল। সে যেতে উদ্যত হলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে ডেকে আনলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী পরিমাণ কুরআন মাজীদ মুখস্থ আছে? সে বলল, আমার অমুক অমুক সূরা মুখস্থ আছে এবং সে গণনা করল। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কি তোমার মুখস্থ আছে। সে বলল, হাঁ। নাবীসাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামবললেন, যে পরিমাণ কুরআন তোমার মুখস্থ আছে তার বিনিময়ে তোমার কাছে এ মহিলাটিকে তোমার অধীনস্থ করে (বিয়ে) দিলাম।

[সহীহ বুখারী : তাওহীদ পাবলিকেশন-৫০৮৭, আধুনিক প্রকাশনী- ৪৭১৪, ইসলামিক ফাউন্ডেশন-৪৭১৬]

এই হাদিসটি থেকে এটা স্পষ্টভাবে প্রমানিত যে, মোহরানা যত কমই হোক না কেন তা গ্রহণযোগ্য যদি দুই পক্ষই তা মেনে নেই।

বর্তমান সময়ে উম্মাহাতুল মুমিনীন দের মোহরানা এর অনুরূপ পরিমান কত?

আবু সালামাহ ইবনু আব্দুর রহমান (রাযিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত: “আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম আয়িশা (রাযিআল্লাহু আনহু), রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়াসাল্লাম এর স্ত্রীকে যে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কি পরিমাণ মোহরানা দিয়েছিলেন. তিনি বললেন: ‘মোহরানা, যা তিনি তার স্ত্রীদেরকে দিয়েছিলেন তা হলো বারো উকিয়াহ এবং এক নাশ সে জিজ্ঞেস করলো, তুমি কি জানো নাশ কি? সে বলল, তিনি বলেসেন যে এটা হছে এক উকিয়াহ এর অর্ধেক. যা ছিল ৫০০ দিরহাম। এটাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার স্ত্রীদেরকে দিয়েছিলেন।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ১৪২৬)

উম্মাহাতুল মুমিনীনদের মোহরানার মুল্য নির্ধারণ:

এক দিরহাম এর ওজন হছে ২.৯৭৫ গ্রাম। সতরাং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দেওয়া মোহরানার পরিমাণ হছে: ৫০০ দিরহাম ২.৯৭৫ গ্রাম = ১৪৮৭.৫ গ্রাম রুপা কিংবা বর্তমানে এর বাজার মূল্য।

মোহরানার পরিমাণ সম্বন্ধে কুরআনুল কারীমে কিছু বলা হয়নি। বেশ কিছু হাদীস এসেছে এ সম্বন্ধে সেখানে কোথাও দশ দিরহামের কথা বলা হয়েছে আবার কোথাও বলা হয়েছে- যদিও লোহার আংটি দিয়ে হয় মোহরানা দিয়ে দাও। উল্লিখিত হাদীসটি বুখারী মুসলিমসহ অন্যান্য হাদীসের কিতাবে এসেছে। এবং এটা বিশুদ্ধ হাদীস। হাদীসটি হচ্ছে- “যাও, তোমার সাথে কুরআনের যে অংশ আছে (মুখস্ত আছে) তার বিনিময়ে তাকে (মহিলাকে) তোমার সাথে বিবাহ দিয়ে দিলাম।” (বুখারী ও মুসলিম)

একটা সুত্র আছে ইসলামিক আইনে। আর তা হলো-যখন দেখা যাবে পরস্পর বিরোধী কোন হাদীস রয়েছে এবং সবগুলো শুদ্ধ বর্ণনায় এসেছে সেখানে বুঝতে হবে যে, আল্লাহ তায়ালা সে বিষয়ে ইসলামিক স্কলারদের জন্য গবেষণার সুযোগ রেখে দিয়েছেন। সেখানে গবেষণার পর তারা যে সিদ্ধান্তে উপণীত হয় সেটা আমল করা বৈধ। অন্যকথায়, এগুলোর পরিধিকে আল্লাহ তায়ালা বিস্তৃত করে দিয়েছেন। গবেষণার পরে যা সিদ্ধান্ত হবে তার সবই বৈধ হবে।

প্রথম কথা হল- হযরত আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে- দশ দিরহামের কমে কোন মোহর নেই। (দারে কুতনী, সুনানুল কুবরা বায়হাকী)

রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:.. দশ দিরহামের কমে মোহর হবে না। (সুনানুল কুবরা বায়হাকী)

তবে, বিভিন্ন রেওয়ায়েতে বিভিন্ন ধরণের হাদীস আসার কারণে ইসলামিক স্কলারগণ এতে মতভেদ করেছেন। যাদের মত ও দলীল কারও কাছে যৌক্তিক মনে হয় সে তাকেই গ্রহণ করবে।

নোট:

স্ত্রীকে তার ঐ প্রদেয় মোহর প্রদান করা ফরয। জমি, জায়গা, অর্থ, অলঙ্কার, কাপড়-চোপড় ইত্যাদি মোহরে দেওয়া চলে। বরং প্রয়োজনে (পাত্রীপক্ষ রাজী হলে) কুরআন শিক্ষাদান, ইসলাম গ্রহণও মোহর হতে পারে।[মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২০২-৩২০৯]

মোহরের নির্দিষ্ট কোন অংক নেই। তবে সেবচ্ছায় বেশী দেওয়া নিন্দনীয় নয়। নাবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর কোন স্ত্রী ও কন্যার মোহর ৪৮০ দিরহাম (১৪২৮ গ্রাম ওজনের রৌপ্যমুদ্রা) এর অধিক ছিল না। [ইরওয়াউল গালীল ১৯২৭]

হযরত ফাতেমা (রাযিআল্লাহু আনহুমা) এর মোহর ছিল একটি লৌহবর্ম।[সহীহ আবু দাউদ, আল্লামা আলবানী ১৮৬৫নং, নাসাঈ, মুসনাদে আহমদ১/৮০]

হযরত আয়েশা (রাযিআল্লাহু আনহুমা) বলেন, তাঁর মোহর ছিল ৫০০ দিরহাম (১৪৮৭,৫ গ্রাম ওজনের রৌপ্য মুদ্রা)।[সহীহ আবু দাউদ ১৮৫১]

তবে কেবল উম্মে হাবীবা (রাযিআল্লাহু আনহুমা) এর মোহর ছিল ৪০০০ দিরহাম (১১৯০০ গ্রাম রৌপ্য মুদ্রা)। অবশ্য এই মোহর বাদশাহ নাজাশী মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর তরফ থেকে আদায় করেছিলেন।[সহীহ আবু দাউদ ১৮৫৩]

সংগৃহীত

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

w

Connecting to %s