ইসলামী দলগুলোর ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সম্পর্কে দু’টি কথা

গণতন্ত্র সহ মানব রচিত ব্যবস্থার অধীনে থেকে ইসলামী দলগুলোর ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা সম্পর্কে দুটি কথা

গণতন্ত্র সহ মানব রচিত ব্যবস্থা মেনে নেয়া ইসলামী দলগুলোর রাজনৈতিক দুরদর্শিতাতো অনেক দেখলাম আজ পর্যন্ত। ইসলামের নামে গঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনৈতিক খেলা ইতিহাস হতে পাক-ভারত উপমহাদেশের ৭০ বছর আর স্বচক্ষে বাংলাদেশে কম করে হলেও অন্তত ৩০ বছর যাবত দেখছি। যার পরিপ্রেক্ষিতে আমার কথা হলো, ইসলামপন্থীদের উপর নির্যাতন ও হয়রানি যেহেতু বাড়ছে বৈ কমছে না, সেহেতু শিরকী-কুফরী ব্যবস্থা ত্যাগ করে পরিপূর্ণভাবে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নাহ ভিত্তিক রাজনীতি করেই নির্যাতন সহ্য করি। কুফরের সাথে আপোষ-সমঝোতা করে পদাবনত হয়ে থাকবো, আবার তাগুতের নির্যাতনও সহ্য করে যাব এটি কেমন কথা! সব চাইতে বড় কথা হলো, মানুষ যখন নিজেরা কৌশল তৈরী করে তখন আল্লাহও দায়-দায়ীত্ব তাদের উপর ছেড়ে দেন, আর যখন মানুষ আল্লাহ্ প্রদত্ত সুন্নাহ গ্রহণ করে তখন তার দায়-দায়ীত্বও মহান আল্লাহ্ নিজের কুদরতী হাতে তুলে নেন। আরবে যখন আইয়্যামে জাহেলিয়াত তখন ইসলামের আবির্ভাবও আবু জাহেল-আবু লাহাবের কাছে অসহ্য ও সাধারণ জনগণের কাছে অবাস্তবিক বলে মনে হয়েছিল। যে কারণে সাধারণ জনগণ আবু লাহাব-আবু জাহেল গংদের কথায় ইসলামের ঝান্ডাবাহী আল্লাহ্’র হাবীব আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে প্রস্তরাঘাতে রক্তাক্ত করতে এতটুকুও কুন্ঠিত হয়নি। তবে যারা আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীনকে বিশ্বজাহানের একমাত্র রব্ব-সার্বভৌম মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা মেনে ঈমান এনেছিল কিংবা ঈমান না এনেও এই মহাসত্যের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছিল তারা কিন্তু সকল যুলুম-অত্যাচারের মুখেও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জামায়াত ত্যাগ করে ভিন্ন জামায়াতে শামিল হননি।

একটু কষ্ট স্বীকার করে অনুধাবন করার চেষ্টা করে দেখুন, গণ-মানুষের মৌলিক অধিকার আদায় ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা যে পশ্চিমা বিশ্বে, সেখানেও গণতন্ত্রবাদীরা নারীদের ভোটাধিকার দিয়েছে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার ৫০ বছর পর। আর আমাদের মত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দরিদ্র, মঙ্গাপিড়িত দেশগুলির উপর গণতন্ত্র চাপিয়ে দিয়ে ১৮ বছরের আবাল বাচ্চা থেকে শুরু করে নারী পর্যন্ত সবাইকে ভোট দেওয়ার প্রতি উৎসাহিত করে এবং ভোটাধিকারের নামে ব্যাক্তি স্বাধীনতার বুলি আওড়ায়। আপনি গণতন্ত্রবাদীদের কাছেই প্রশ্ন করুন- তারা কেন গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পরও ৫০ বছর পর্যন্ত নারীদের ভোটাধিকার হতে বঞ্চিত রেখেছিল ? অথবা ২৫ বছরের নিচে কেউ ভোট দিতে পারতো না? গণতন্ত্রের শুরুর অবস্থা শুনবেন! শুরুতে এমনও ছিল যে, শুধুমাত্র যারা সমাজের পুঁজিপতি তারাই সে দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনে ভোট দিতে পারতেন!!! অথচ আজব ব্যাপার দেখুন, আজকে আমাদের মতো এই মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দরিদ্র দেশগুলিকে আরও দরিদ্র করার লক্ষ্যে, অর্থনৈতিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য ব্যাক্তি স্বাধীনতার নামে ভোটাধিকারের কথা বলে গণতন্ত্র নামক কুফুরী ব্যবস্থা চাপিয়ে দিচ্ছে। টার্গেট শুধু একটাই, আমরা যেন তাদের পদাবনত হয়ে থাকি!! তাদের দেওয়া মানব রচিত জীবন ব্যবস্থাকে গ্রহণ করি!! তাদের সাহায্য যেন আমাদের চলার জন্য বাধ্যতামূলক বিষয়ে পরিনত হয়!! আমরা যেন সকল ক্ষেত্রে তাদের প্রভূত্বকেই স্বীকার করে নিই!!! নাউযুবিল্লাহ।

‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’-এর ‘সংবিধানের প্রাধান্য’ অনুচ্ছেদের ৭-এর (২) ধারায় বর্ণিত আছে- ‘‘জনগণের অভিপ্রায়ের পরম অভিব্যক্তিরূপে এই সংবিধান প্রজাতন্ত্রের সর্বোচ্চ আইন এবং অন্য কোন আইন যদি এই সংবিধানের সহিত অসামঞ্জস্য হয়, তাহা হইলে সেই আইনের যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ, ততখানি বাতিল হইবে।’’ ঈমানদার মুসলিমদের উদ্দেশ্যে বলছি, এই ধারা অনুযায়ী সংবিধানের কোন আইনের সাথে কুরআন-সুন্নাহ্ উৎসারিত আইন যতটুকু সামঞ্জস্যপূর্ণ ততটুকুই গ্রহণ করা হবে আর যতখানি অসামঞ্জস্যপূর্ণ ততটুকু বর্জন করা হবে। অন্যভাবে পার্লামেন্ট (সংসদ) সদস্যগণ কুরআনের কোন আইনের যতটুকু নিজেদের সুবিধাভোগের বিপরীত নয় ততটুকুই জনগণের জন্য আইন হিসেবে গ্রহণ করবেন, আর যতটুকু আইন তাদের সুবিধাভোগী, শোষণ ব্যবস্থার পথে বাধা তা গ্রহণ করবেন না। গণতান্ত্রিক সংবিধানকে হিকমত হিসেবে গ্রহণকারী কোন মুসলিম, যিনি নিজেকে ঈমানদার মনে করেন, তিনি কিরূপে সংবিধানের এই ধারা মেনে সংসদ সদস্য পদের জন্য নির্বাচন করেন কিংবা সংসদ সদস্য পদ গ্রহণ করেন? দেখুন আল্লাহ্ কী বলছেন-

‘‘তাহলে কি তোমরা কিতাবের একটি অংশের ওপর ঈমান আনছো এবং অন্য অংশের সাথে কুফরী করছো? তারপর তোমাদের মধ্য থেকে যারাই এমনটি করবে তাদের শাস্তি এ ছাড়া আর কি হতে পারে যে, দুনিয়ার জীবনে লাঞ্ছিত ও পর্যদুস্ত হবে এবং আখিরাতে তাদেরকে কঠিনতম শাস্তির দিকে ফিরিয়ে দেয়া হবে? তোমাদের কর্মকান্ড সম্পর্কে আল্লাহ বে-খবর নন।’’ [সূরা আল বাকারা ২:৮৫]

সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব নামক চরম মিথ্যা প্রতিষ্ঠার ভুয়া শ্লোগাণে অচেতন, দিশেহারা, লক্ষ্যবিন্দুহীন নানা মত ও পথে বিভ্রান্ত, হতাশাগ্রস্ত জনগণকে মিথ্যা বাক্যজালে আশার আলো দেখিয়ে, মিথ্যা-অলিক স্তুতিবাক্যে মোহগ্রস্ত করে জনতার শীর্ষে ব্যক্তিস্বার্থ সচেতন একটা ক্ষুদ্র অংশের নেতৃত্বে বুলেট-ব্যালটের বিপ্লব ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলের রাজনীতিই মূলতঃ গণতন্ত্র।

গণতন্ত্রের দ্বারা সংখ্যাগুরু জনগণ মুক্তি লাভ করেছে এমন ইতিহাস আজও রচিত হয়নি। সুদী কারবারী, লুন্ঠনকারী, ঘুষখোর ও সরকারী ক্ষমতার অপব্যবহারকারী, বিবেকহীন হিংস্র শ্বাপদদের সমাজ শীর্ষে নেওয়া এবং তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করার ইতিহাসই রচিত হয়েছে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সংখ্যালঘু শাসকগোষ্ঠীর প্রতারণার হাত থেকে জনগণকে মুক্ত করার প্রকৃত কোন উদ্যোগ নেওয়া হয় না। তাই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ইসলাম প্রতিষ্ঠা ছাড়া এ প্রতারণা থেকে মুক্ত হওয়ার কোন উপায় নেই।

মানুষের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মিথ্যা শ্লোগানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় অচেতন জনগোষ্ঠীর শীর্ষে একটি সচেতন সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বর্তমান শাসকশ্রেণীকে হটিয়ে আরেকটি প্রভাবশালী শাসকশ্রেণীকেই ক্ষমতায় এনেছে। এবং জনগণ হতে প্রাপ্ত সার্বভৌম ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজেদের স্বার্থানুযায়ী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ঢেলে সাজিয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের একটি অংশ মুক্তি পাবে, উপকৃত হবে এ মনে করে ভোট দিয়েছে, নইলে সমর্থন করেছে, নইলে নির্লিপ্ত থেকেছে। কিন্তু সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনায় মানুষের সার্বভৌমত্ব মানুষকে প্রকৃত মুক্তি আজও দিতে পারেনি।

গণতান্ত্রিক সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ। আর ‘জনগণের এই সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন সংসদ বা আইন সভার নির্বাচিত সম্মানিত সদস্যগণ।’ এ কোটেশনভূক্ত বাক্যটি যে কত বড় প্রতারণা, ভন্ডামি আর চরম মিথ্যাচার তা বাস্তবতার নিরিখে বিবেচনা করলেই বুঝা যাবে। প্রকৃতপক্ষে গণতন্ত্রের মাধ্যমে ‘জনগণকে সকল ক্ষমতার উৎস’ মেনে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদেরকেই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক বানিয়ে দেয়া হয়। অর্থাৎ নির্বাচনের পর সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক আর জনগণ থাকে না, তা চলে যায় জনগণের নির্বাচিত বিভিন্ন ‘দলের প্রতিনিধি’দের হাতে। ‘দলের প্রতিনিধি’ শব্দটি ব্যবহার করলাম এই কারণে যে, বাস্তবে জনগণের ভোটে আইন সভা বা পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর সদস্যগণ জনগণের নয়, নিজ দলের প্রতিনিধিত্ব করেন, তারা ক্ষমতাসীন দলের সদস্য হলে রাষ্ট্রপ্রধান বা প্রধান শাসকের প্রতিনিধিত্ব করেন। আর যদি বিরোধী দলের সদস্য হন তবে নিজ দলনেতার প্রতিনিধিত্ব করেন। কারণ সংসদ সদস্য বা আইন সভার সদস্য হওয়ার জন্য জনগণ তাদেরকে মনোনয়ন দেয়নি, তাদের দলের প্রধানরাই দলের প্রতিনিধি হিসেবে জনগণের নিকট ভোট চাইতে তাদেরকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। সুতরাং নির্বাচিত হওয়ার পর তাই স্বাভাবিকভাবেই দলীয় সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধি হয়ে যান তারা। শুধু তাই নয়, ‘জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধি’ পরিচয়ে পার্লামেন্ট বা আইন সভায় যোগ দিলেও জনগণের কল্যাণে যদি নিজ দলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মতামত ব্যক্ত করেন তবে সংবিধান অনুযায়ী জনগণের পক্ষে কথা বলার অপরাধে(!) জনগণের সেই কথিত প্রতিনিধির সংসদ সদস্য পদ বাতিল হয়ে যায়। এ থেকেই কি প্রমাণিত হয় না, সংসদ বা আইন সভার নির্বাচিত সম্মানিত সদস্যগণ জনগণের সার্বভৌমত্বের নয়, নিজ নিজ দল/দলীয় প্রধানের সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্ব করেন?!

যে সকল মুসলিম গণতন্ত্র সমর্থন করেন, তারা কি কখনো ইতিহাস ও বাস্তবতার আলোকে সত্যিকার অর্থে গণতন্ত্রের মূল লক্ষ্য কী, তা ভেবে দেখেছেন? এর মূল লক্ষ্যই হলো, অধিকাংশের ইচ্ছার ভিত্তিতে সকল জনসাধারণকে শাসন করা। আর শাসন করতে যে আইন-বিধান প্রয়োজন তা জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিগণই প্রণয়ন করবে। মানুষ হয়ে মানুষকে নিয়ন্ত্রনের জন্য নিজস্ব মনগড়া আইন-বিধান প্রণয়ন করার ক্ষমতা আল্লাহর বিধানের বৈপরিত্য ঘোষণা করে। কারণ প্রকৃতপক্ষে আইন প্রণয়নের অধিকার কেবলমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীনের, যিনি বিশ্বজাহানের সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক। তাই কেউ যদি এমন কোন শাসন ব্যবস্থার মধ্যে প্রবেশ করতে চায় প্রকৃতপক্ষে যার ভিত্তি মানব রচিত অর্থাৎ যাতে সার্বভৌমত্ব মানুষের অথবা যা আল্লাহর তা’আলা প্রণীত শরীয়াহর সাথে সাংঘর্ষিক অথবা যা ইসলামিক শরীয়াহ্কে বাতিল বলে ঘোষণা করে, তাহলে এরূপ শাসন ব্যবস্থা আল্লাহর নিকট কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। মহান আল্লাহ রাব্বুল আ’লামিন এ সম্পর্কে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছেন-

‘‘আর কেউ যদি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোন দ্বীন (জীবন ব্যবস্থা) গ্রহণ করতে চায় তাহলে তা কখনও কবুল করা হবে না এবং সে হবে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত।’’ [সূরা আলে ইমরান ৩:৮৫]

মূলতঃ যে নীতির উপর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত তা হল ‘জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস’। অর্থাৎ গণতন্ত্রে সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক জনগণ নির্বাচিত দলীয় প্রতিনিধিগণ। এই ক্ষমতার মৌলিক বৈশিষ্টই হচ্ছে- জনগণের জন্য আইন-বিধান তৈরী ও প্রণয়ন। অন্য কথায় গণতন্ত্রে আইন-বিধান প্রণয়নকারী হচ্ছে মানুষ, ফলে যার আইনের আনুগত্য করা হয় আসলে সে আল্লাহর নয় বরং মানুষ। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে যে, আইন প্রণয়ন ও হালার-হারাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে যার ইবাদাত অথবা আনুগত্য করা হয় সেও মানুষ, আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীনের সৃষ্টি, সে মহান আল্লাহর নয়! আর এটাই হল কুফর, শিরক এবং পথভ্রষ্টতার মূল অস্তিত্ব এবং দ্বীনের মৌলিক বিষয় সমূহ ও তাওহীদের সাথে সাংঘর্ষিক। এভাবেই অচেতন এবং অজ্ঞ লোকেরা শাসন-কর্তৃত্ব ও আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে আল্লাহর রুবুবিয়্যাতে এবং উলুহিয়্যাতে শরীক করে।

গণতন্ত্র এমন একটা পদ্ধতি যার দ্বারা আইন-বিধান প্রণয়নের ক্ষেত্রে আল্লাহর জন্য সংরক্ষিত সার্বভৌম ক্ষমতাকে অস্বীকার করা হয় এবং এই ব্যবস্থা মানুষকে র্শিকের রাজ্যে অনুপ্রবেশ করায়। গণতন্ত্র মানুষকে মানুষের জন্য আইন প্রণয়নকারীর ক্ষমতা প্রদান করে। অথচ একমাত্র আইন-বিধান প্রণয়নকারী হলেন আল্লাহর রাব্বুল আ’লামীন।

মূলতঃ সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে গণতন্ত্র সহ সকল মানবরচিত ব্যবস্থায় মানুষ মানুষকেই সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক মেনে নেয়ার মাধ্যমে রব্বের আসনে বসায়। অপরদিকে, ইসলামে সার্বভৌমত্ব একমাত্র আল্লাহর। আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীন-ই সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশ কর্তা। সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে মানুষের সার্বভৌমত্ব মেনে নেয়ার অর্থই হলো আল্লাহর সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা, আল্লাহর সাথে শিরক করা। যা মূলতঃ আল্লাহর রুবুবিয়্যাতকে অস্বীকার করার শামিল। আর যেখানে গণতন্ত্রকে মেনে নেয়ার মাধ্যমে গোটা জাতি র্শিকে নিমজ্জিত হয় সেখানে ইসলামের অস্তিত্ব কিভাবে থাকে? এটি কাফির-মুশরিকদের এমন এক সূক্ষ্ণ ষড়যন্ত্র, যার মাধ্যমে আল্লাহর রুবুবিয়্যাতকে কার্যত অস্বীকার করা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষ তা বুঝতে পারে না। আপনি লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন, তারা বলে না তোমরা ইসলাম ছাড়ো, তারা বলে, গণতন্ত্র (জনগণের আইন) গ্রহণ কর, কেননা তারা ভালো করেই জানে, গণতন্ত্র গ্রহণ অর্থই হলো ইসলামকে বর্জন করা।

গণতন্ত্র সহ মানব রচিত ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে আমরা যে ক্ষমার অযোগ্য মহাপাপ ‘শিরক’এ জড়িত হয়ে আছি তা বুঝতে পারছিনা বিধায়; আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের কাছে ক্ষমা চাওয়াও হচ্ছে না এবং শিরক থেকে মুক্তও হতে পারছি না। যার ফলে শিরক নিয়েই মৃত্যুবরণ করতে হচ্ছে এবং পরিণতি হচ্ছে জাহান্নাম!

গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে এটি মতের সংখ্যাগরিষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেয়। অর্থাৎ হালাল-হারাম, ন্যায়-অন্যায় বিবেচ্য নয়, সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ কী চায় সেটাই মুখ্য। অথচ ইসলাম এর বিপরীত অর্থাৎ আল্লাহ প্রদত্ত শরীয়াহ কর্তৃক নিষিদ্ধ হারাম কিংবা অন্যায় বিষয়ে জনগণের সমর্থন-অসমর্থনের কোন সুযোগই নেই। কারণ দুনিয়ার অধিকাংশ লোক নির্ভুল জ্ঞানের পরিবর্তে কেবলমাত্র আন্দাজ অনুমানের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। তাদের আকীদা-বিশ্বাস, দর্শন, চিন্তাধারা, জীবন যাপনের মূলনীতি ও কর্মবিধান সবকিছুই ধারণা ও অনুমানের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে আল্লাহর পথ অর্থাৎ আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী দুনিয়ায় জীবন যাপন করার পথ মাত্র একটিই। সেটি হচ্ছে ইসলাম। কাজেই দুনিয়ার বেশীর ভাগ লোক কোন পথে যাচ্ছে, কোন সত্য সন্ধানীর এটা দেখা ও অনুসরণ, অনুগমন করা উচিত নয়। বরং আল্লাহ যে পথটি নির্ধারণ করে দিয়েছেন তার ওপরই তার দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলা উচিত। এ পথে চলতে গিয়ে দুনিয়ায় যদি সে নিঃসঙ্গ-একাকী হয়ে পড়ে তাহলেও তাকে একাকীই চলতে হবে। তাই আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীন বলেন-

‘‘আর হে মুহাম্মাদ ! যদি তুমি দুনিয়ায় বসবাসকারী অধিকাংশ লোকের কথায় চলো তাহলে তারা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করে ফেলবে। তারা তো চলে নিছক আন্দাজ-অনুমানের ভিত্তিতে এবং তারা কেবল আন্দাজ-অনুমানই করে থাকে। আসলে তোমার রব্বই ভাল জানেন, কে তাঁর পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে আছে আর কে সত্য-সরল পথে অবিচল রয়েছে।’’ (সূরা আনআম : ১১৬,১১৭)

আজকে যারা মানবরচিত ব্যবস্থা গণতন্ত্রকে মেনে এ ব্যবস্থার অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদে সংখ্যাগরিষ্ট আসন পেয়ে ইসলাম কায়েমের স্বপ্নে বিভোর তারা কি লক্ষ্য করে দেখেছেন যে, গণতন্ত্রের অধীনে নির্বাচনের বাজারে সকলের ভোটের দাম সমান! অর্থাৎ সৎ-অসৎ, মালিক-কর্মচারী, নামাযী-বেনামাযী, দ্বীনদার-বদকার, আমানতদার-খিয়ানতকারী, পর্দানশীল-জিনাকারী সকলের মূল্য সমান! আচ্ছা, আপনি কি কখনো আপনার দ্বীনদার পরহেযগার মা-বোন-স্ত্রীকে বাজারের দেহপসারীনির সমকক্ষ মনে করেন বা মেনে নিবেন? একজন তাকওয়াপন্থী আলেম আর মূর্খকে কি সমান মনে করেন? আল্লাহওয়ালা আর আল্লাহদ্রোহীকে কি সমান মনে করেন? তাওহীদপন্থী আর মুশরিক কি আপনাদের দৃষ্টিতে সমান? আপনি কি মাসজিদের খতিব-ইমামের সাথে বেনামাযী ব্যক্তিকে তুলনা করেন? আপনি কি এলাকার পরহেযগার ব্যক্তির সাথে জেনাকারী-ব্যভিচারীর তুলনা করেন? কালোবাজারী আর সৎ নেককার ব্যবসায়ীকে একই পাল্লায় ওজন করেন? একজন আল্লাহভীরু আস্তিক আর দুনিয়াদার নাস্তিককে কি সমকক্ষ গণ্য করেন? উত্তরে আপনারা সবাই একবাক্যে বলবেন, নিশ্চয়ই নয়! অথচ ভোটের বাজারে গণতন্ত্র এদের সকলকে সমান মূল্যের অধিকারী বানিয়ে রেখেছে! আর ইসলামপন্থীরাও ইসলামকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার নেশায় ভাল-মন্দ, জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে হিন্দু, মুসলিম, খৃস্টান, কাদিয়ানী, নাস্তিক ও মুরতাদসহ সন্ত্রাসী, খুনী, ডাকাত, পতিতা, কালোবাজারী, সুদখোর, ঘুষখোর, জেনাকারী সকলেরই সমর্থন পেতে রীতিমত যুদ্ধে অবতীর্ণ হন। কারণ জিততে হলে যে অধিকাংশের ভোট পেতে হবে! আপনাদের নিকট গণতান্ত্রিক ভোট যুদ্ধই প্রকৃত ইসলামী যুদ্ধ। এ যুদ্ধে জয়লাভ করার মাধ্যমেই ইসলামকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। আপনারা মনে-প্রাণে বিশ্বাস করেন এবং বলেনÑ এভাবে ভোটাভুটি করতে করতে সমাজে আপনাদের গ্রহণযোগ্যতা চলে আসবে, আর যদি অকস্মাৎ কোনদিন সংখ্যাগরিষ্ট জনগণ আপনাদেরকে নেতৃত্বের আসনে বসায় তবে বিন্দু মাত্র অপেক্ষা না করে আপনারা খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করবেন। দেশের সংবিধান হবে কুরআন, সর্বক্ষেত্রে বিধান হবে ইসলাম ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনাদের এ বাতুলতা না শরীয়ত সম্মত আর না বাস্তব সম্মত। আপনারা জ্ঞাতে অজ্ঞাতে যে গণতন্ত্রীদের জয়গানে জীবন পাত করেছেন, ক্ষমতা পেয়ে এবার তাদেরকেই ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা! কথায় বলে গুরুর সাথে গোড়ামী। যাই হোক আপনারা যারা ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য গণতন্ত্রকে মেনে নিয়ে মানুষের সমর্থন আদায়ের জন্য খাটাখাটি হাঁটাহাটি করছেন আপনাদেরকে বলবো, গণতন্ত্র কুফর-র্শিকে পরিপুর্ণ একটি ব্যবস্থা। অথচ আপনাদের বিভ্রান্তির কারণে সাধারণ জনগণ এর চাতুর্যতাপূর্র্ণ স্লোগানে মুগ্ধ হয়ে ঈমান ও ইসলাম খুইয়ে বসছে। কুফর ও র্শিকের ধ্বংস সাধনের জন্য যে মুসলিম জাতির আবির্ভাব ঘটেছিল সে জাতিকেই র্শিক ও কুফরের প্রতি শুধু নমনীয়-সহনীয় নয় বরং শ্রদ্ধাশীল করে তুলতে সক্ষম হয়েছে আপনাদের ভুল ব্যাখ্যা। তবে আপনারা যদি অন্তরে সত্যিই গণতন্ত্র নামক ব্যবস্থাকে কুফরী মনে করেন, তবে পশ্চিমা বিশ্বের সামনে নিজেকে গণতান্ত্রিক প্রমাণ করার জন্য অন্তরে অন্তরে এটাকে কুফরী জেনে ঘৃণা করার নীতি পরিত্যাগ করে এর বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কঠোর অবস্থান নিয়ে দৃঢ়ভাবে প্রচার কার্য চালিয়ে যাওয়ার মাধ্যমে দুনিয়া ও আখিরাতের মহাক্ষতি থেকে নিজেরা বাচুঁন এবং জাতির মানুষকে বাচাঁন। দেশ পরিচালনার জন্য সৎ, যোগ্য, আল্লাহভীরু নেতা নির্বাচনে সকলের সমান অধিকার আছে গণতন্ত্রের এই সস্তা শ্লোগানে সৎ-অসৎ, নামাযী-বেনামাযী, দ্বীনদার-বদকার, আমানতদার-খিয়ানতকারী, পর্দানশীল-জিনাকারী সকলকে এক পাল্লায় ওজন করা সম্পর্কে আপনাদের গোমরাহীর জবাবে মহান রব্ব আল্লাহ্ পাক কি বলছেন দেখুন:

যে লোক আল্লাহর ইচ্ছার অনুগত, সে কি ঐ লোকের সমান হতে পারে, যে আল্লাহ্’র ক্রোধ অর্জন করেছে? বস্তুতঃ তার ঠিকানা হলো জাহান্নাম। আর তা কতইনা নিকৃষ্ট অবস্থান (সূরা আলে ইমরান : ১৬২)

বলে দিনঃ অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়, যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্য তোমাকে বিস্মিত করে। অতএব, হে বুদ্ধিমানগণ, আল্লাহকে ভয় কর-যাতে তোমরা মুক্তি পাও। (সূরা মায়িদাহ : ১০০)

আপনি বলুনঃ আমি তোমাদেরকে বলি না যে, আমার কাছে আল্লাহর ভান্ডার রয়েছে। তাছাড়া আমি অদৃশ্য বিষয় অবগতও নই। আমি এমন বলি না যে, আমি ফেরেশতা। আমি তো শুধু ঐ ওহীর অনুসরণ করি, যা আমার কাছে আসে। আপনি বলে দিনঃ অন্ধ ও চক্ষুমান কি সমান হতে পারে? তোমরা কি চিন্তা কর না।(সূরা আনআম : ৫০)

উভয় পক্ষের দৃষ্টান্ত হচ্ছে যেমন অন্ধ ও বধির এবং যে দেখতে পায় ও শুনতে পায় উভয়ের অবস্থা কি এক সমান? তবুও তোমরা কি ভেবে দেখ না? (সূরা হুদ : ২৪)

যে ব্যক্তি রাত্রিকালে সেজদার মাধ্যমে অথবা দাঁড়িয়ে ইবাদাত করে, পরকালের আশংকা রাখে এবং তার রব্বের রহমত প্রত্যাশা করে, সে কি তার সমান, যে এরূপ করে না; বলুন, যারা জানে এবং যারা জানে না; তারা কি সমান হতে পারে? চিন্তা-ভাবনা কেবল তারাই করে, যারা বুদ্ধিমান। (সূরা যুমার : ৯)

যারা দুস্কর্ম উপার্জন করেছে তারা কি মনে করে যে, আমি তাদেরকে সে লোকদের মত করে দেব, যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে এবং তাদের জীবন ও মুত্যু কি সমান হবে? তাদের দাবী কত মন্দ। (সূরা জাশিয়া : ২১)

যে ব্যক্তি তার রব্বের পক্ষ থেকে আগত নিদর্শন অনুসরণ করে, সে কি তার সমান, যার কাছে তার মন্দ কর্ম শোভনীয় করা হয়েছে এবং যে তার খেয়াল-খুশীর অনুসরণ করে। (সূরা মুহাম্মাদ : ১৪)

আল্লাহর জমীনে আল্লাহ্’র দ্বীন-ইসলাম প্রতিষ্ঠায় মানুষের সার্বভৌমত্ব ভিত্তিক ব্যবস্থা গণতন্ত্র সহ সকল মানব রচিত মতবাদ ত্যাগ করে একমাত্র আল্লাহ্’র সার্বভৌমত্বের প্রতি ঈমান এনে রাব্বুনাল্লাহ্ ঘোষণা দিয়ে সকল জুলুম-নির্যাতনের মুখেও যেসকল বান্দা দৃঢ়-অটল-অবিচল থাকবে, আল্লাহ ঐসকল বান্দাদেরকেই তাঁর জমীনে খিলাফত (শাসনকর্তৃত্ব বা রাষ্ট্রক্ষমতা) দান করবেন। কারণ আল্লাহ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছেন-

‘‘তোমাদের মধ্য থেকে যারা ঈমান আনবে ও সৎ কাজ করবে, আল্লাহ তাদেরকে ওয়াদা দিয়েছেন যে, তাদেরকে অবশ্যই পৃথিবীতে খিলাফত (শাসনকর্তৃত্ব) দান করবেন যেমন তিনি খিলাফত (শাসনকর্তৃত্ব) দান করেছিলেন তাদের পূর্বে অতিক্রান্ত লোকদেরকে এবং তাদের জন্য মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে দিবেন তাদের দ্বীনকে, যা তিনি তাদের জন্য পছন্দ করেছেন এবং তাদের (বর্তমান) ভয়-ভীতির অবস্থাকে নিরাপত্তায় পরিবর্তিত করে দেবেন। তারা শুধু আমার ইবাদাত করবে এবং আমার সাথে কাউকে শরীক করবে না। আর যারা এরপর কুফরী করবে তারাই ফাসেক।’’ (সূরা আন নূর ২৪:৫৫)।

যারা মনে করেন যেকোন পন্থায় ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না করে কবরে গেলে জাহান্নামী হতে হবে, তারা অবশ্যই মারাত্মক ভুল চিন্তা করছেন। আমরা আমাদের ফরয দায়ীত্ব ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করার জন্য রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নির্দেশিত সঠিক পন্থায় চূড়ান্ত চেষ্টা চালিয়ে যাব। যদি মাঝ পথে কুফর শক্তি বা তাগুত আমাদেরকে থামিয়ে দেয় তবে আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীন আমাদেরকে পুরো কাজের প্রতিদানই দিবেন ইনশাআল্লাহ। আর যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাকুল হয়ে কাফিরদের উপস্থাপিত গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা নিশ্চিত শয়তানের ধোঁকায় পড়েছেন।

সুতরাং যারা সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মত অত্যাবশ্যক মনে করে হিকমতের নামে গণতন্ত্র মেনে নিয়েছেন তারা অবশ্যই মহাভ্রান্তিতে আছেন। আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন-ইসলাম প্রতিষ্ঠায় সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ কখনোই মত দিবে না, তারপরও আল্লাহ তাঁর বিশেষ সাহায্যে মুষ্টিমেয় প্রকৃত ঈমানদারদের মাধ্যমেই তাঁর জমীনে তাঁর মনোনীত দ্বীন-ইসলাম কায়েম করবেন। এই ঈমানদারগণ হচ্ছেন তারা, যারা নব্য জাহিলিয়্যাতের মাঝেও সংগঠিত হবেন এবং বুঝে-শুনে রাব্বুনাল্লাহ্ ঘোষণা দিয়ে তাগুতের সকল জুলুম-নির্যাতনের মুখেও এ ঘোষণার উপর অটল-অবিচল থাকবেন। আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-

“দ্বীন ইসলামের সূচনা গরীব অবস্থায় ঘটেছে। আর সূচনায় যেমন ঘটেছিল পূণরায় সেরূপ ঘটবে। অতএব ‘গুরাবা’রাই সৌভাগ্যবান। জিজ্ঞাসা করা হলো, গুরাবা’দের তাৎপর্য কি? বা গুরাবা কারা? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, অধিক সংখ্যক দুষ্ট লোকদের মাঝখানে মুষ্টিমেয় সৎ লোক। অনুগত দল অপেক্ষা অবাধ্য দলের সংখ্যা বেশী হবে।” (মুসনাদে আহমাদ ২য় খন্ড ১১৭ ও ২২২ পৃঃ, মিশকাত ২৯ পৃঃ)

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আ’লামীন। এটাই ইসলামের বিশেষত্ব। সুতরাং আসুন আল্লাহর জমীনে আল্লাহর দ্বীন-ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মত লাভের শিরক ও কুফরী পন্থা গণতন্ত্র বর্জন করে সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মানুষ মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদর্শিত সুন্নাহর পথে এগিয়ে যাই। আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্বকারী নেতার নেতৃত্বে ঈমানের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হই। আর গণতন্ত্র সহ মানব রচিত সকল মতবাদকে ছুড়ে ফেলে, সার্বভৌম ক্ষমতার একমাত্র মালিক, আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরংকুশকর্তা মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আ’লামীন প্রদত্ত ও গৃহীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলামে পরিপূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করি। বর্তমান বিশ্বের সকল রাষ্ট্রই মানুষের সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের ভিত্তিতে মানব রচিত ব্যবস্থা দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে এবং ইসলাম প্রতিষ্ঠার কথা বলে ইসলামী দলগুলো মানব রচিত ব্যবস্থার আনুগত্য করে চলেছে। এহেন বিশ্ব পরিস্থিতিতে নিজ জীবনের এবং মানবতার কল্যাণকামী সকলের উচিত আল্লাহর সার্বভৌমত্বের প্রতিনিধিত্বকারী নেতার নেতৃত্বে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রে রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রদর্শিত পদ্ধতিতে “ইসলাম” প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বীয় জান ও মাল তথা সময় ও অর্থ ব্যয়ের মাধ্যমে চূড়ান্ত চেষ্টা করা। আর এই চেষ্টাই হবে আল্লাহর ক্ষমা ও জান্নাত লাভের উপায়। আল্লাহ্ জাতীর জ্ঞানী, গুণী ও সচেতন মানুষকে এই মহাসত্যের আহ্বানে সাড়া দেওয়ার জন্য চেতনা দান করুন এবং এই মহাসত্য গ্রহণের মাধ্যমে প্রকৃত ঈমানদারদের কাতারে শামিল হওয়ার তাওফিক দিন। আল্লাহ্ আমাদের সহায় হোন। কারণ তিনিই আমাদের একমাত্র ভরষাস্থল, তাওফিকদাতা।

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s