তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় ও র্শিকের বিনাশে : আলিমগণ নানা মতে, আমরা যাবো রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পথে

সীমাবদ্ধ যোগ্যতা দ্বারা কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে তাওহীদ ও র্শিক সম্পর্কে এতোসব জ্ঞান আহরণ করার পরও পুলকিত হওয়ার পরিবর্তে আমার হৃদয় দুঃখ ভারাক্রান্ত হয়ে পড়লো যখন দেখলাম বর্তমানের এই বিংশ শতাব্দীর জাহিলিয়্যাতের সমাজে তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় ও র্শিকের বিনাশে জাতির মানুষকে সাবধান-সতর্ক করার আন্দোলনে পথের দিশা দিতে পারতেন যে আলিম সমাজ তারা-ই ঐক্যবদ্ধ ননতারা নিজেরাই একাধিক গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জাতিকে দিশেহারা করে তুলছেনমহান রব্ব প্রদত্ত আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানের আলোকে দেখতে পেলাম বর্তমান আলিম সমাজ পাঁচ গ্রুপে বিভক্ত:

প্রথম গ্রুপ: ঐ সমস্ত আলিম যারা তাওহীদ ও র্শিক বুঝেছেনঅতঃপর মানুষের জীবনে এর প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্বঅনুধাবন পূর্বক তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় এবং শিরক নির্মূলে সোচ্চার হয়েছেনশুধুমাত্র আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সন্তুষ্টি এবং তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মুহাব্বাতেই তারা ইলম শিক্ষা করেছেন আর দরদ ভরা মন নিয়ে মানুষকে সাবধান-সতর্ক করছেনকারো সামনে অহমিকা প্রকাশ কিংবা সমাজে নিজের নাম-যশ-খ্যাতি বাড়ানো সর্বোপরি দুনিয়ার কোন লোভ-লালসা তাদেরকে এ কর্মে উদ্বুদ্ধ করেনিতাদের দলীল হলো কুরআন এবং সহীহ সুন্নাহ্তাদের দাওয়াত সমাজের প্রচলিত অভ্যাস, ধ্যান-ধারণা, র্শিক, কুফর ও বিদআতের বিরুদ্ধে হওয়ার কারণে নাবী-রাসূলগণের ন্যায় তাদেরকেও সমাজ কর্তৃক বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ ও জুলুমের সম্মুখীন হতে হচ্ছেতারা সকল প্রকার অপবাদ, জেল-জুলুম-নির্যাতন একমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির জন্য সহ্য করে যাচ্ছেন; কিন্তু দাওয়াতী কাজ হতে বিরত হচ্ছেন নাতারা শুধুমাত্র আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীনের ঐ কথার উপর আমল করে যাচ্ছেন যে কথা কুরআনে বর্ণিত হয়েছে এভাবে-
আর লোকেরা যাই বলুক না কেন, আপনি সহ্য করুন এবং উত্তম পন্থায় তাদেরকে পরিহার করে চলুন” (সূরা মুয্যাম্মিল ৭৩:১০)
আপনি মানুষকে আপনার রব্বের পথে আহ্বান করুন হিকমত ও সদুপদেশ দ্বারা এবং তাদের সাথে বিতর্ক করুন উত্তম পন্থায়” (সূরা নাহল ১৬:১২৫)

যারা আল্লাহর বাণী মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে থাকে, তারা শুধু তাঁকেই ভয় করে এবং এক আল্লাহকে ছাড়া আর কাউকে ভয় করে নাআর হিসাব গ্রহণের জন্য কেবলমাত্র আল্লাহই যথেষ্ট” (সূরা আহযাব ৩৩:৩৯)

অপর এক আয়াত যেখানে লুকমান হাকীম তার ছেলেকে উপদেশ দিয়ে বলেছেন-

হে আমার পুত্র! সালাত কায়েম কর, নেক কাজের প্রতি আদেশ দাও এবং মন্দকাজে নিষেধ কর এবং এই দাওয়াতে যে কষ্ট-মুছিবত হবে তার উপর ছবর করনিশ্চয় এটা খুবই সাহসিকতার কাজ” (সূরা লুকমান ৩১:১৭)

তারা আল্লাহ্র রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঐ সকল কথার উপরও আমল করে যাচ্ছেন:
যে ব্যক্তি ইলম অর্জন করবে নির্বোধদের সাথে তর্ক-বিতর্ক করার জন্য বা আলিমদের সামনে অহংকার প্রদর্শনের জন্য অথবা মানুষের আকর্ষণ নিজের দিকে নিবদ্ধ রাখার জন্য, তাহলে সে জাহান্নামে যাবে” (ইবনু মাজাহ্, হা/২৫৩, অনুরূপ হা/২৫৯ ই.ফা.বা)

তোমরা আলিমদের উপর অহমিকা প্রকাশের জন্য, নির্বোধদের সাথে ঝগড়া করার জন্য এবং মজলিসে বড়ত্ব প্রকাশের জন্য ইলম শিক্ষা করো নাকেননা যে এরূপ করবে, তার জন্য রয়েছে আগুন আর আগুন” (ইবনু মাজাহ্, হা/২৫৪, ই.ফা.বা)
যে ইল্ম দ্বারা আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, যদি কেউ সে ইল্ম পার্থিব স্বার্থ সিদ্ধির জন্য শিক্ষা করে, সে কিয়ামতের দিন জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না” (ইবনু মাজাহ্, হা/২৫২, ই.ফা.বা)

অর্থাৎ আলিমদের এ গ্রুপ তাওহীদের পক্ষে এবং র্শিক ও কুফরের বিরুদ্ধে দাওয়াত দেয়ার ফলে বিরুদ্ধবাদী লোকদের নিকট হতে যে অন্যায় ও অর্থহীন আচরণ করা হয়, তা উপেক্ষা করে চলে এবং তাদের কোন অভদ্র আচরণের জবাব দেয় নাতবে বিরুদ্ধবাদীদের প্রতি তাদের এ উপেক্ষা এবং নির্লিপ্ততা অবশ্যই কোন প্রকার ক্ষোভ, ক্রোধ এবং বিরক্তি সহ প্রকাশ করে না বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী উত্তম পন্থা অবলম্বন করে

এই আলিমগণ দাওয়াতী কাজ করতে গিয়ে যখন কোন দুঃখ-কষ্ট, ভয়-ভীতি, ক্ষুধা-অনাহার কিংবা সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তখন তারা এসবকে ঈমানের পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করছেনএদের সম্পর্কেই কুরআনুল কারীমে আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ফরমান-

আর নিশ্চয়ই আমরা ভয়-ভীতি, ক্ষুধা, জান ও মালের ক্ষতি এবং ফল-ফসল বিনষ্টের মাধ্যমে তোমাদের পরীক্ষা করবোতবে সুসংবাদ দিন ধৈর্যশীলদেরএবং যখনই তারা কোন বিপদে পতিত হয় তখন বলে: আমরাতো আল্লাহ্র জন্যই এবং আল্লাহ্র দিকেই আমাদেরকে ফিরে যেতে হবেএরা সে সব ব্যক্তি, যাদের উপর রয়েছে তাদের রব্বের পক্ষ থেকে বিপুল অনুগ্রহ ও রহমতএই ধরণের লোকরাই হিদায়াত প্রাপ্ত” (সূরা আল বাকারা ২:১৫৫-১৫৭)

দ্বিতীয় গ্রুপ: ঐ সমস্ত আলিম যারা ঈমান ও ইসলামের মূল ভিত্তি তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেয়াকে খুব বেশী গুরুত্ব দেন নাসমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষ ইসলামে আছে না জাহিলিয়্যাতে আছে, তাওহীদে আছে না র্শিকে নিমজ্জিত আছে, সেদিকে তাদের কোন ভ্রুক্ষেপ নেইতাদের মধ্যে কেউবা ঘুরে ঘুরে মানুষকে ওজু, গোসল ও সালাতের তালিম দেন, আবার কেউবা ডাকেন জিহাদের দিকে, কেউবা ডাকেন ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের দিকেতাদের কর্মকান্ড দেখে মনেই হয় না যে কুরআনে এরূপ কোন আয়াত আছে:

যে ব্যক্তি আল্লাহ্র সাথে কাউকে শরীক করেছে তার ওপর আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার আবাস হবে জাহান্নামআর এ ধরনের জালিমদের কোন সাহায্যকারী নেই” (সূরা মায়িদাহ ৫:৭২)

যদি তুমি র্শিক করো, তাহলে তোমার আমল বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং তুমি হবে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভূক্ত” (সূরা যুমার ৩৯:৬৫)
কিন্তু যদি তারা কোন র্শিক করে, তাহলে তারা যত আমলই করুক না কেন তা ধ্বংস হয়ে যাবে” (সূরা আনআম ৬:৮৮)
সুতরাং দেখা যাচ্ছে আল্লাহ্র নিকট আমাদের কোন কাজ কবুল হওয়ার এবং তাঁর নিকট হতে বিশেষ সাহায্য পাওয়ার মূল শর্তই হচ্ছে পরিপূর্ণ তাওহীদ গ্রহণ করা অর্থাৎ বিশ্বাস বা কর্মে র্শিক মুক্ত থাকা

তৃতীয় গ্রুপ: ঐ সমস্ত আলেম যারা মানুষের শত্রুতার ভয়ে অথবা তাদের চাকরী চলে যাওয়ার ভয়ে অথবা রুটি-রুজিতে আঘাত আসার ভয়ে অথবা শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক জুলুম নির্যাতনের শিকার হওয়ার ভয়ে কিংবা নিজেদের সামাজিক অবস্থান নষ্ট হয়ে যাওয়ার ভয়ে পরিপূর্ণ তাওহীদের দাওয়াত দেন না আর র্শিকের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কোন আন্দোলন দুরে থাক স্পষ্ট করে কোন কথাই বলেন নাফলে তারা দাওয়াত ও তাবলীগ করার সময় আল্লাহ তাদেরকে যে ইলম দান করেছেন তা ইচ্ছাকৃতভাবে গোপন রাখছেনতারা যদি আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঐ বাণীসমূহের উপর আমল করতেন তবে তারা সহ তাদের অনুসারীদের জন্য কতোইনা কল্যাণকর হতো যেখানে ইরশাদ হয়েছে- 

নিশ্চয়ই যারা গোপন করে ঐ সমস্ত বিস্তারিত তথ্য এবং হিদায়াতের কথা যা আল্লাহ্ মানুষের জন্য তাঁর কিতাবের মধ্যে নাযিল করেছেন; সে সমস্ত লোকের প্রতিই আল্লাহ্র অভিশাপ এবং অন্যান্য অভিশাপকারীদেরও অভিশাপ” (সূরা আল বাকারা ২:১৫৯)

‘‘মূলতঃ আল্লাহ্ তাঁর কিতাবে যে সমস্ত বিধান অবতীর্ণ করেছেন সেগুলো যারা গোপন করে এবং সামান্য পার্থিব স্বার্থের বেদীমূলে সেগুলো বিসর্জন দেয় তারা আসলে আগুন দিয়ে নিজেদের পেট ভর্তি করছেকিয়ামতের দিন আল্লাহ তাদের সাথে কথাই বলবেন না, তাদের পবিত্রতার ঘোষণাও দেবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি” (সূরা আল বাকারা ২:১৭৪)

জানা থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি ইলমকে গোপন রাখবে, আল্লাহ রাব্বুল ইয্যত কিয়ামত দিবসে তার মুখে আগুনের লাগাম পরাবেন” (মুসনাদে আহমদ:ইল্ম অধ্যায়, হা/৩৭, ইবনু মাজাহ্ হা/২৬৬, ই.ফা.বা)

চতুর্থ গ্রুপ: ঐ সমস্ত আলেম যারা তাওহীদ ও র্শিক সম্পর্কে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কী বলেছেন সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করে তাদের বুজুর্গ ও উস্তাদদের কথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করে এবং কুরআন ও সুন্নাহর খেলাফ কাজ করার ক্ষেত্রে তাদের আনুগত্য করেতারা মানুষের ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে সকল ফরযের বড় ফরয, উম্মুল ফরয তাওহীদ গ্রহণ ও র্শিক বর্জনসম্পর্কে কোন ভূমিকা তো রাখেন-ইনা উপরন্তু সুন্নাত ও মুস্তাহাব সম আমল নিয়ে বাহাছ-মুনাজারা করে উম্মাহর ঐক্যের পথ রুদ্ধ করতে সদা তৎপরএই ধরনের আলেম, যারা আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অবাধ্যতায় অন্য কারো আনুগত্য করবে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ ফরমান-
যেদিন তাদের মুখমন্ডলকে উল্টিয়ে পাল্টিয়ে আগুনে জ্বালানো হবে; সেদিন তারা বলবে: হায়! আমরা যদি আল্লাহ্র আনুগত্য করতাম এবং রাসূলের আনুগত্য করতামতারা আরও বলবে, হে আমাদের রব্ব! আমরা আমাদের নেতা ও মুরুব্বীদের আনুগত্য করেছিলাম, তারা আমাদের পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেহে আমাদের রব্ব! তাদেরকে দ্বিগুণ আযাব দিন এবং তাদের প্রতি মহা লাণত বর্ষণ করুন” (সূরা আল আহ্যাব ৩৩:৬৬-৬৮)

তোমরা তারই অনুসরণ কর যা তোমাদের নিকট তোমাদের রব্বের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ করা হয়েছেতা বাদ দিয়ে ওলী-আওলিয়াদের অনুসরণ কর নাতোমরা তো খুব কমই উপদেশ গ্রহণ করে থাক” (সূরা আরাফ ৭:৩-৪)

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার আনুগত্য করো তখন তারা বলে, আমরা আমাদের বাপ-দাদাকে যে রীতির ওপর পেয়েছি তার আনুগত্য করবোশয়তান যদি তাদেরকে জ্বলন্ত আগুনের দিকেও আহ্বান করতে থাকে তবুও কি তারা তারই আনুগত্য করবে ? (সূরা লুকমান ৩১:২১)

এ প্রসঙ্গে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইরশাদ করেন-

সৃষ্টিকর্তার সাথে অবাধ্যতার কাজে সৃষ্টির আনুগত্য করা যাবে না” (মুসনাদে আহমদ)

পঞ্চম গ্রুপ:ঐ সমস্ত নামধারী আলিম যাদের অধিকাংশই তাওহীদ ও র্শিক সম্পর্কে নিজেরাই পরিপূর্ণ ধারণা রাখেন নাযদিওবা তাদের মাঝে কতিপয় আলিম এ সম্পর্কে কিছুটা ধারণা অর্জন করেছেন তথাপিও ব্যক্তি স্বার্থে সমাজ ও জাতির মানুষকে সাবধান-সতর্ক করার পরিবর্তে তাদের ঈমান ও ইসলামকে খানকাহ, দরগাহ, কবর ও মাজারে নিয়ে বন্দী করেছেনএই সকল আলিম নামধারী মুরিদচোষা পীর আর মিলাদজীবী হুজুরগণ জাতির মানুষের ঈমান ও আক্বীদাহ সংশোধণের পরিবর্তে নিজস্ব উদ্ভাবিত মনগড়া তরীকার মাধ্যমে কিছু নব উদ্ভাবিত আমল ধরিয়ে দিয়ে জান্নাত লাভের গ্যারান্টি দিচ্ছেনজাতির মানুষ আল্লাহ্র বিধান কুরআন ও সুন্নাহর পরিবর্তে মানব রচিত আইন-বিধান গ্রহণ করে সুস্পষ্ট র্শিক ও কুফরীতে লিপ্ত হওয়ার কারণে তাদের সকল আমল বরবাদ হয়ে, জান্নাত হারাম হয়ে জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে বসে আছে সেদিকে তাদের নজর দেবার ফুরসত পর্যন্ত নেইউপরন্তু মানুষের মনগড়া আইন-বিধান দ্বারা সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনা করে যারা তাগুতে পরিণত হয়েছে, কুরআন ও হাদীসের অপব্যাখ্যা করে সেই সকল শাসকদের নৈকট্য হাসিলের মাধ্যমে পেট আর পকেট পুর্তি করাটাই যেন তাদের একমাত্র লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়ে দাড়িয়েছেএই সকল নামধারী আলিমরা মানুষকে বেশী বেশী দান-খয়রাত, নযর-মানতের মাধ্যমে সকল প্রকার আসমানী-জমীনি বালা-মুসিবত থেকে বাঁচার পথ বাতলে দিচ্ছেনআবার এই দান-খয়রাত, নযর-মানতের মাল দরিদ্র, অসহায়, মিসকিনদের মাঝে বিলিয়ে দেয়ার পরিবর্তে নিজেরা গ্রহণ করছেন এবং নিজেদের আরাম-আয়েশী ভোগের জীবনে ব্যয় করছেনতারা আল্লাহ্র পাশাপাশি নবী, আউলিয়া ও মৃতদের নিকট সাহায্য চাওয়টাকে শুধু বৈধ নয়, সাধারণ মানুষের জন্য ব্যাপক পূণ্যের কাজ মনে করেনএ গ্রপের আলিমদের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যই হচ্ছে, সমাজের প্রচলিত ও প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থার বিরোধীতা না করে, সাধারণ মানুষদের ধর্মের প্রতি আবেগপ্রবণতাকে পুঁজি করে কুরআন হাদীসের অপব্যাখ্যা করে দুনিয়াবী স্বার্থ হাছিল করা, সমাজে নিজেদের নাম, খ্যাতি প্রতিষ্ঠা করাঅথচ কতইনা কল্যাণকর হতো যদি তারা র্শিক-কুফর, বিদআত ত্যাগ করে তাওহীদকে প্রাধান্য দিতেন, দুনিয়াবী ক্ষণস্থায়ী ভোগের জীবনকে প্রাধান্য না দিয়ে আখিরাতমুখী আল্লাহ্ ওয়ালা হয়ে যেতেনকেননা আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন ফরমান-

যারা ঈমান এনেছে এবং ঈমানের সাথে সামান্যতম র্শিককেও মিশ্রিত করেনি তাদের জন্যই রয়েছে নিরাপত্তা এবং একমাত্র তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত” (সূরা আনআম ৬:৮২)

হাদীসের কিতাবে বর্ণিত হয়েছে:

কিয়ামতে যাদের দ্বারা জাহান্নামকে প্রজ্জ্বলিত করা হবে তারা হল তিন ব্যক্তিএদের মধ্যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ঐ আলিমের কথা উল্লেখ করেছেন যে নিজ ইল্ম দ্বারা মানুষের প্রশংসা ও তাদের গুণকীর্তন আশা করে ছিল (আল্লাহ্র সন্তুষ্টি আশা করেনি)…” (হাদীছটি বিস্তারিতভাবে জানার জন্য দেখুন সহীহ মুসলিম:ইমারত অধ্যায়, হা/৪৭৭১, তিরমিযী:ইলম অধ্যায়, হা/২৬৫৫-৫৬, ই.ফা.বা)

হযরত আবু হুরাইরা (রাযিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিতরাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তোমরা জুব্বুল হুযনথেকে পানাহ চাওসাহাবাগণ জিজ্ঞেস করলেন, “জুব্বুল হুযনকী? তিনি বললেন, জাহান্নামের একটি উপত্যকা, যা থেকে বাঁচার জন্য স্বয়ং জাহান্নাম দৈনিক চারশো বার পানাহ চায়বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তাতে কারা প্রবেশ করবে? তিনি বললেন, এটা ঐসকল আলেমের জন্য তৈরী করা হয়েছে যারা লোক দেখানোর জন্য আমল করেআর আল্লাহ্র নিকট সর্বাপেক্ষা নিকৃষ্ট আলেম তারাই, যারা (তাগুত) শাসক শ্রেণীর সংশ্রবে আসে” (সুনান ইবনু মাজাহ, হা/২৫৬, ই.ফা.বা)

হযরত হুযাইফা ইবনু ইয়ামান (রাযিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিততিনি বলেন, লোকেরা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কল্যাণের বিষয়াবলী জিজ্ঞেস করতোকিন্তু আমি তাঁকে অকল্যাণের বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করতাম এ ভয়ে যে, অকল্যাণ আমাকে পেয়ে না বসেআমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমরা তো জাহিলিয়্যাত ও অকল্যাণের মাঝে ছিলামএরপর আল্লাহ্ তাআলা আমাদেরকে এ কল্যাণের মধ্যে নিয়ে আসলেনএ কল্যানের পর আবারও কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁতবে এর মধ্যে কিছুটা ধুম্রজাল থাকবেআমি প্রশ্ন করলাম, এর ধুম্রজাল কিরূপ? তিনি বললেন, এক জামাআত আমার তরীকা ছেড়ে অন্য পথ ধরবেতাদের থেকে ভাল কাজও দেখবে এবং মন্দ কাজও দেখবেআমি জিজ্ঞেস করলাম, সে কল্যাণের পর কি আবার অকল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁজাহান্নামের দিকে আহ্বানকারী এক সম্প্রদায় হবেযে ব্যক্তি তাদের আহ্বানে সাড়া দেবে, তাকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বেআমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তাদের কিছু স্বভাবের কথা আমাদের বর্ণনা করুনতিনি বললেন, তারা আমাদেরই লোক (অর্থাৎ তারা মুসলিম দাবীদার হবে) এবং আমাদের ভাষায়ই কথা বলবে (অর্থাৎ তারা কুরআন এবং হাদিস দিয়ে কথা বলবে)আমি বললাম, যদি এমন অবস্থা আমাকে পেয়ে বসে, তাহলে কী করতে হুকুম দেন? তিনি বললেন, মুসলিমদের জামাআত ও ইমামকে আঁকড়ে থাকবেআমি বললাম, (এই সকল দল ছাড়া) যদি তখন মুসলিমদের কোন জামাআত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তখন সকল দল ত্যাগ করো, সম্ভব হলে কোন গাছের শিকড় কামড়িয়ে পড়ে থাকবে, যতক্ষণ না সে অবস্থায় তোমার মৃত্যু উপস্থিত হয়। (সহীহ বুখারী:কিতাবুল ফিতনাহ, হা/৬৬০৫, ই.ফা.বা)

উপরোক্ত আলোচনা থেকে কুরআন, সুন্নাহ সম্পর্কে মোটামুটি ধারণা আছে এরূপ বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন যে কোন সুস্থ্য ব্যক্তিই অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন যে, তাওহীদের পক্ষে আর র্শিক ও কুফরের বিরোধীতায় মুসলিম উম্মাহকে ঐক্যবদ্ধ করার পরিবর্তে, মুসলিম উম্মাহর মাঝে ক্রমবর্ধমান ভাঙ্গন কে উস্কে দেয়ার পিছনে ইয়াহুদী-খৃষ্টানরা না যতটুকু দায়ী, তার চেয়ে অধিক দায়ী হচ্ছে মুসলিম সমাজের আলিম নামধারীরানিজেদের মাঝে দলাদলি আর মতভিন্নতা সম্পর্কে তারা বলে থাকেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন- আমার উম্মতের মধ্যে ইখতেলাফ (পারস্পরিক মতবিরোধ) রহমত স্বরূপসুতরাং পারস্পরিক মতভেদ থাকলেও অধিকাংশ ইসলামী দলই হক্বএই বাক্যটি হাদীস কি-না তা কুরআন-সুন্নাহ্র মানদন্ডে যাচাই-বাছাই না করেই এর রেফারেন্স দিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদেরকে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করে ইসলাম প্রতিষ্ঠা তথা খিলাফত ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের পথে নিজেরাই যে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক হয়ে আছেন তা তাদের চিন্তা-চেতনায়ই আসছে না

আল্লামা জালালুদ্দিন আস সুয়ূতী (রহিমাহুল্লাহু) (জামেউস সাগীর গ্রন্থে), আল্লামা নাসিরদ্দীন আলবানী, মানাবী (রহিমাহুল্লাহু) (সুবকীর উদ্ধৃতিতে), শাইখ জাকারিয়া আল-আনসারী (তাফসীর বায়যাবী গ্রন্থের টিকায়), ইমাম ইবনু হাযম (রহিমাহুল্লাহু) (আল-ইহকাম ফি উসূলিল আহকাম গ্রন্থে) প্রমুখ আলিম উল্লিখিত বাক্যটির ব্যাপারে বলেছেন : হাদীসটি মুহাদ্দিসদের নিকট পরিচিত নয়এটির কোন সহীহ, দুর্বল এমনকি জাল সনদ সম্পর্কেও অবহিত হতে পারি নিঅর্থাৎ হাদীসটির কোন ভিত্তি নেইমুহাদ্দিসগণ হাদীসটির সনদ বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেনএছাড়া হাদীসটির অর্থও বিচক্ষণ আলিমদের নিকট অপছন্দনীয়এটি অত্যন্ত নিকৃষ্ট কথাকারণ মতভেদ যদি রহমত স্বরূপ হত, তাহলে মতৈক্য অপছন্দনীয় হতএটি এমন একটি কথা যা কোন মুসলিম ব্যক্তি বলতে পারেন নাএ বানোয়াট হাদীসের কুপ্রভাবে বহু মুসলমান কিতাবুল্লাহ ও সহীহ হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তনের চেষ্টাও করেন নাঅথচ সকল মাযহাবের ইমামগণ কুরআন ও সহীহ হাদীসের দিকে প্রত্যাবর্তন করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেনআর স্বাভাবিকভাবেই এই বাক্যটি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীস না হওয়ার সম্ভাবনা শতভাগ, কারণ এর ভাষ্য কুরআনের বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীতদেখুন মহান আল্লাহ্ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে স্পষ্ট ঘোষনা করেছেন-

তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর এবং এ ব্যাপারে পরস্পর দলাদলি-বিচ্ছিন্নতা করো না” (সূরা শুরা ৪২:১৩)

নিশ্চয় যারা স্বীয় দ্বীনকে খন্ড-বিখন্ড করেছে এবং বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে গেছে; হে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তাদের সাথে তোমার কোন সম্পর্ক নেই” (সূরা আল আনআম ৬:১৫৯)

তোমরা একনিষ্ঠভাবে তাঁর অভিমুখী হয়ে শুধুমাত্র তাঁকেই ভয় করো, আর সালাত কায়েম করো এবং এমন মুশরিকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেয়ো না, যারা তাদের দ্বীনে মতভেদ সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে গেছেপ্রত্যেক দলই নিজ নিজ মতবাদ নিয়ে উল্লসিত হয়ে আছে” (সূরা রুম ৩০:৩১-৩২)

আয়াতসমূহ স্পষ্ট ভাবে জানাচ্ছে যে, দ্বীন প্রতিষ্ঠায় মতভেদের অনুমতি আল্লাহ তায়ালার নিকট হতে আসেনিঅতএব কীভাবে এ মতভেদকে অনুসরণীয় শরীয়ত বানিয়ে নেয়া সঠিক হয়? আর কীভাবেই তা নাযিলকৃত রহমত হতে পারে? মোটকথা দ্বীন প্রতিষ্ঠায় শরীয়তের মধ্যে মতভেদ নিন্দনীয়ওয়াজিব হচ্ছে যতদূর সম্ভব তা থেকে মুক্ত হওয়াকারণ এটি হচ্ছে উম্মতের দুর্বলতার কারণসমূহের একটিযেমনিভাবে আল্লাহ পাক বলেছেন : 

আর আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য করো এবং পরস্পর বিবাদে লিপ্ত হয়ো না, তাহলে তোমরা দুর্বল হয়ে পড়বে এবং তোমাদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিনষ্ট হয়ে যাবে৷ আর তোমরা ধৈর্য্যধারণ করনিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্য্যশীলদের সাথে রয়েছেন” (সূরা আনফাল ৮:৪৬) 

অতএব মতভেদে সন্তুষ্ট থাকা এবং মতভেদ কে রহমত হিসেবে নামকরণ করা সম্পূর্ণ কুরআন বিরোধী কথা, যার অর্থ খুবই স্পষ্টঅপরপক্ষে মতভেদের সমর্থনে সনদবিহীন এ ভিত্তিহীন হাদীস ছাড়া আর কোন দলীল নেইএখানে একটি প্রশ্ন আসতে পারে যে, সাহাবীগণ মতভেদ করেছেন, অথচ তারা লোকদের মধ্যে সর্বোত্তমসুতরাং উল্লিখিত বাক্যটি অবশিষ্ট উম্মাহর জন্য কেন গ্রহনযোগ্য হবে না? হবে না এই কারণে যে, তাদের প্রত্যেকেই আল্লাহর পথ এবং হক্বের পক্ষকে গ্রহণ করার জন্য সচেষ্ট ছিলেনতাদের মধ্য হতে যে ব্যক্তি অনিচ্ছাকৃত ভুল করেছেন তিনি তাতেও সওয়াবের অধিকারী এবং একটি সওয়াব পাবেনখালেছ নিয়্যাত এবং উত্তম ইচ্ছা থাকার কারণেতাদের উপর হতে আল্লাহ্ তাদের ভুলের গুণাহ উঠিয়ে নিয়েছেনকারণ তারা ইচ্ছাকৃতভাবে তা করেননি; আর তারা সত্যকে জানার গবেষণার ক্ষেত্রে অলসতাও করেন নিফলে তাদের মধ্যে যিনি সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছেন, তিনি দুটি সওয়াবের অধিকারী। (দলীল: আবু দাউদ, অনুচ্ছেদ/৩৮৬, হা/৩৫৩৬, ই.ফা.বা)এমন ধারা প্রত্যেক মুসলিম ব্যক্তির জন্য কিয়ামত দিবস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে ধর্মীয় ঐ সকল বিষয়ের ক্ষেত্রে যেগুলোর সমাধান লুকায়িত, যা আমাদের নিকট এখনো পৌঁছায়নিআর সাহাবীগণের সম্পর্কে আল্লাহ্ পাকের ফায়সালা দেখুন কুরআনে:

“…তাদের অন্তরে আল্লাহ ঈমান লিখে দিয়েছেন এবং তাদেরকে শক্তিশালী করেছেন তাঁর অদৃশ্য শক্তি দ্বারাতিনি তাদেরকে জান্নাতে দাখিল করবেন, যার তলদেশে নদী প্রবাহিততারা তথায় চিরকাল থাকবেআল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট এবং তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্টতারাই আল্লাহর দলজেনে রাখ, আল্লাহর দলই সফলকাম হবে” (সূরা মুজাদালাহ ৫৮:২২)
সুতরাং আমার উম্মতের মধ্যে ইখতেলাফ (পারস্পরিক মতবিরোধ) রহমত স্বরূপবাক্যটির অনুসরণকারী ঐ ব্যক্তির জন্য সর্বাবস্থায় নিন্দা ও অভিসম্পাত যে কুরআনকে এবং নাবীর হাদীসকে প্রত্যাখ্যান করে, তার নিকট স্পষ্টভাবে দলীল প্রতীয়মান হওয়ার পরেওবরং কুরআন ও হাদীসকে পরিত্যাগ করার মানসে অন্য ব্যক্তির সাথে সে সম্পর্ক স্থাপন করেছে ইচ্ছাকৃতভাবে মতভেদের অন্ধ অনুসরণ করে, গোঁড়ামী ও অজ্ঞতার দিকে আহবানকারী হিসেবেসে এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, তার দাবীর সমর্থনে কুরআন ও হাদীসের যে কথাটি মিলে সেটি গ্রহণ করে আর যেটি তার বিপরীতে যায় সেটি পরিত্যাগ করেএরাই হচ্ছে নিন্দনীয় মতভেদকারী

তবে বিভিন্ন মুসলিম স্কলারের গবেষণা হতে এ সত্যই বের হয়ে এসেছে যে, পবিত্র কুরআনের এই আয়াতকে আড়াল করে, জাল-বানোয়াট হাদীস তৈরী করে, মুসলিম উম্মাহ কে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করার সুন্দর ব্যবস্থা করেছে মূলতঃ মুসলিম নামধারী খৃষ্টান ও ইয়াহুদী গোয়েন্দা আলিমগণআজ মুসলিম জাতি বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্তখৃষ্টান ও ইয়াহুদী গোয়েন্দারা তাদের এ উদ্দেশ্যটি সাধনে দারুনভাবে সফল হয়েছে (যদিও দলে-উপদলে বিভক্ত হওয়াটা র্শিকের পরোক্ষ ফলাফল)

একটি জাতিকে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করে ফেলার ফলপ্রসু উপায় হচ্ছে- তাদের ঈমান ও ইসলাম সংশ্লিষ্ট মূল জ্ঞানের মধ্যে ভুল ঢুকিয়ে দেওয়াযেমন আল্লাহ্র পরিবর্তে মানুষের সার্বভৌমত্ব (sovereignty) মেনে নিলে ঈমান নষ্ট হয় না, র্শিক হয় না, কারণ সার্বভৌমত্ব ঈমানের সাথে সংশ্লিষ্ট নয়, রাজনীতি, রাষ্ট্রনীতির সাথে সংশ্লিষ্ট”, “আল্লাহ্র পরিবর্তে কেউ আইন-বিধান প্রনয়ণ করলে সে ব্যক্তি কাফির এই বিশ্বাস রাখতে হবে কিন্তু সমাজে ফিত্নার আশংকা আছে বিধায় তাকে প্রকাশ্যে কাফির বলা যাবে না”, “কোন ব্যাক্তি বা গোষ্ঠীকে যারা আইন-বিধান প্রনয়ণের ক্ষমতা দিয়েছে তারা গুনাহ্র কাজ করেছে তবে তারা র্শিককারী বা মুশরিক নয়”, “আল্লাহ্র আইন আছে একথা সুস্পষ্ট জানা সত্যেও আল্লাহ্র পরিবর্তে মানব রচিত আইন-বিধান দ্বারা বিচার-ফায়সালাকারী ব্যক্তি কাফির নয়”, “না বুঝে র্শিক করলে ঈমান নষ্ট হয় না, মুর্তি পুজারী-মাজার পুজারী মুশরিক কিন্তু আল্লাহ্র হুকুমের পরিবর্তে বা পাশাপাশি মানব রচিত আইন-বিধান মান্যকারী মুশরিক নয়”, “রকেট সাইন্সের যুগে ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য নববী যুগের পদ্ধতি অকার্যকরইত্যাদি ইত্যাদিখৃষ্টান ও ইয়াহুদীরা দেখেছে এই পরিকল্পনা সফল হলে একেক দল একেক মত, ভিন্ন দল ভিন্ন মত পোষণ করে মুসলিমরা নিজেরাই নিজেদের মধ্যে ফিত্না-ফাসাদ সৃষ্টি করে বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়তে বাধ্যআর বর্তমান বিশ্বে মুসলিমদের মাঝে হয়েছেও তাই

একটি জাতির মূল ধর্মগ্রন্থ (মহান রব্ব কর্তৃক প্রদত্ত কিতাব) অবিকৃত থাকলে, শুধুমাত্র নিজেদের জ্ঞানের দ্বারা কৃত বিশ্লেষণের ভিন্নতার কারণে, বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়ার ঘটনা স্বাভাবিক নয়প্রায় ১৪৫০ বছর গত হয়েছে, এখন পর্যন্ত কুরআনের একটি অক্ষরও বিকৃত হয়নিপড়ার সুবিধার্থে পরবর্তীতে সংযোজিত হরকতসমূহও আজ পর্যন্ত পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয়নিঅথচ মুসলিম নামধারীরা আজ বিভিন্ন মাযহাব (মত) আর দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে পড়েছেকাজেই খুব সহজেই বুঝা যায়, ব্রিটিশ গোয়েন্দা আলিমগণ (এক্ষেত্রে বৃটিশ গোয়েন্দা মি. হ্যামফের-Hampher এর নাম উল্লেখযোগ্য) গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ইসলামের মূলে, মুসলিমদের জ্ঞানে বিষ ঢুকিয়ে, মুসলিম বিশেষজ্ঞদের ধোঁকা দিয়ে নিজেরাই বিশেষজ্ঞ সেজে, তাদের আবিষ্কৃত ফতোয়াসমূহ মুসলিমদের উপর চাপিয়ে দিয়ে, মুসলিম জাতিকে আজ বিভিন্ন দলে-উপদলে বিভক্ত করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেপ্রমান পেতে দেখুন ইন্টারনেটে এমন অসংখ্য সাইট আছে যেখানে ইসলামিক নাম ব্যবহার করে সমসাময়িক বিষয়ের হালাল হারাম ফতওয়া দেওয়ার মাধ্যমে মুসলিমদেরকে বিভ্রান্ত করার এক সূক্ষ্ণষড়যন্ত্রের জাল পেতেছে শায়খ নামধারী ইয়াহুদী-খৃস্টান আলিমরা:

http://www.answering-islam.org/Testimonies/younathan.html

http://www.islamreview.com/

http://answering-islam.org.uk/

http://www.knowislam.info/drupal/mno

http://www.answering-islam.org
http://www.aboutislam.com
http://www.thequran.com
http://www.allahassurance.com
ইয়াহুদী ও খৃস্টান গোয়েন্দা আলিমদের ষড়যন্ত্রে দ্বিধাবিভক্ত মুসলিম আলিমদের কারণেই আমার মতো সাধারণ মানুষরা ঈমান, ইসলাম, তাওহীদ ও র্শিক সম্পর্কে এক মহা বিভ্রান্তির ঘূর্ণাবর্তে পতিত হয়আমরা লক্ষ্য করেছি আলিমদের বক্তব্যের বিষয়টি যদি সমাজের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে অসামঞ্জস্যশীল বা বিপরীত হয়, তবে প্রতিরোধ বা বিরোধীতার সম্মুখীন হওয়া থেকে শুরু করে তাদের বেতন-ভাতা, দান-খয়রাত ও নজর-নিয়াজ বন্ধ হয়ে যেতে পারে, যে ভীতিকর অবস্থাটি বর্তমানে খুবই বিরাজমানআর এ অবস্থাকে এড়ানোর (overcome) জন্য আলিমদের মাঝে সাধারণ প্রবণতা হচ্ছে, কুরআনের যে বক্তব্যগুলো সমাজের প্রচলিত ধারণার বিপরীত, সেগুলোকে লুকিয়ে ফেলা অথবা সে বক্তব্যকে এমনভাবে ঘুরিয়ে বলা, যাতে বিরোধিতা কম আসে বা সবার জন্য তা গ্রহণযোগ্য হয়দুঃখজনক হলেও সত্য, এই মানসিকতাই বর্তমান বিশ্বের মুসলিমদের দুরবস্থার একটি প্রধান কারণকুরআন দিয়ে মানুষকে সাবধান-সতর্ক করার ব্যাপারে এই ভীষণ ক্ষতিকর কর্মপদ্ধতি সমূলে উৎপাটন করার জন্যই আল্লাহ্ রাব্বুল আলামীন তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাধ্যমে মুমিনদের বলছেন-

এটা (আল-কুরআন) একটি কিতাবএটি আপনার উপর নাযিল করা হয়েছে এ জন্য যে, এর বক্তব্য দ্বারা আপনি মানুষকে সতর্ক করবেন, ভয় দেখাবেনতাই (কুরআনের বক্তব্য দিয়ে মানুষকে সতর্ক করার ব্যাপারে) আপনার অন্তরে যেন কোন প্রকার দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি ইত্যাদি না আসেআর এটাই মুমিনদের জন্য উপদেশ” (সূরা আরাফ ৭:২)

কুরআনের অন্য জায়গায় আল্লাহ তাঁর রাসূলকে (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছেন,
অতএব আপনি উপদেশ দিয়ে যেতে থাকুনআপনি তো শুধু মাত্র একজন উপদেশকআপনি এদের উপর বল প্রয়োগকারী নন” (সূরা গাশিয়াহ ৮৮:২১,২২)

যে ব্যক্তি রাসূলের আনুগত্য করলো সে আসলে আল্লাহ্রই আনুগত্য করলোআর যে ব্যক্তি মুখ ফিরিয়ে নিলো, যাই হোক, তাদের উপর তো আমি আপনাকে পাহারাদার বানিয়ে পাঠাইনি” (সূরা নিসা ৪:৮০)

অর্থাৎ পৃথিবীর সকল মানুষ কখনই কোনো একটি বিষয়ে একমত হবে নাতাই আপনি কুরআনের বক্তব্য সরাসরি মানুষের নিকট উপস্থাপন করবেনযারা তা গ্রহণ করবে না, তাদের তা গ্রহণ করতে বাধ্য করার জন্যে পুলিশের ন্যায় আচরণ করা আপনার কাজ নয়

কুরআনের এই সকল বক্তব্য জানার পর আসুন আমরা সিদ্ধান্ত নেই, আমরা আমাদের কথা বা লেখনীতে কুরআনের বক্তব্য লুকিয়ে নয়, ঘুরিয়ে-পেঁচিয়ে নয়, সরাসরি উপস্থাপন করব

সুতরাং আমরা মানুষকে সাবধান-সতর্ক করার সময় দ্বিধা-দ্বন্দ্ব, ভয়-ভীতি ইত্যাদির মধ্যে পড়ে কখনই কুরআনের বক্তব্যকে লুকাবো না বা ঘুরিয়ে বলবো নাকারণ কুরআন হচ্ছে হিদায়াত-সুস্পষ্ট পথ প্রদর্শক মুত্তাকীদের জন্যতাই আমরা কেবল ঐ আয়াতের উপর আমল করবো যেখানে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ফরমান-

হে মুমিনগণ! আল্লাহ্ কে ভয় কর এবং সঠিক কথা বলতিনি তোমাদের আমল-আচরণ সংশোধন করবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দিবেনযে ব্যক্তি আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূলের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আনুগত্য করে, সে ব্যক্তি অবশ্যই মহা সাফল্য অর্জন করবে” (সূরা আহযাব ৩৩:৭০-৭১)

আলিফ-লাম-মীমএই সেই কিতাব (অর্থাৎ কুরআন) যাতে কোন সন্দেহ নেইএটি পথ প্রদর্শনকারী মুত্তাকীদের জন্য, যারা অদৃশ্য বিষয়ের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে এবং সালাত কায়েম করেআর আমি তাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা থেকে ব্যয় করে আর যে কিতাব (অর্থাৎ কুরআন) তাদের ওপর নাযিল করা হয়েছে এবং তাদের আগে যেসব কিতাব নাযিল করা হয়েছিল সে সবগুলোর ওপর ঈমান আনে আর আখিরাতকে যারা নিশ্চিত বলে বিশ্বাস করেএ ধরনের লোকেরা তাদের রব্বের পক্ষ থেকে সরল সত্য পথের ওপর প্রতিষ্ঠিত আর তারাই যথার্থ সফলকাম” (সূরা বাকারা ২:১-৫)

আল্লাহ্ যা ইচ্ছা করেন, তা করেই ছাড়েনতাঁর এ সিফাত বা গুণ পূর্বেও ছিল, আজও আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবেএকমাত্র তিনিই হচ্ছেন হুকুমদাতাতিনি ছাড়া সবাই তাঁর গোলাম/দাস ও হুকুমের তাঁবেদারতাই তাঁর রাজত্ব ও হুকুমের বাইরে যাওয়ার অবকাশ কোন বান্দাহর নেই

সুতরাং আসুন আমরা যারা জাহান্নামের অকল্পনীয় ভয়ঙ্কর আগুন থেকে বাঁচতে এবং ধারণাতীত সুখ-শান্তি ও কল্যানের স্থান জান্নাতের অধিবাসী হতে আল্লাহ্কেই একমাত্র রব্ব-সার্বভৌম মালিক, সার্বভৌম আইনদাতা-বিধানদাতা ও নিরঙ্কুশ কর্তা মেনে তাঁরই দাসত্ব, আইনের আনুগত্য ও উপাসনা করার মাধ্যমে তাওহীদ গ্রহণ করি এবং র্শিকমুক্ত ঈমানের উপর দৃঢ়-অটল থাকি এবং একমাত্র আল্লাহ, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করিকেননা এসকল ঈমানদানগণই আল্লাহ্র দলভূক্ত এবং বিজয় তাদের হবেই হবে, এটাই আল্লাহ পাকের ওয়াদাআল্লাহ্ ফরমান- আর তোমরা নিরাশ হয়ো না এবং দুঃখ করো না, তোমরাই বিজয়ী হবে, যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাকো” (সূরা আলে ইমরান ৩:১৩৯)

আর যারা আল্লাহ্, তাঁর রাসূল এবং মুমিনদেরকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করে, তারাই আল্লাহ্র দল এবং তারাই বিজয়ী” (সূরা মায়িদাহ ৫:৫৬)আর আল্লাহ্র গোলাম হওয়া সত্যেও যারা আল্লাহ্র সাথে র্শিক করে, আল্লাহ মনোনীত দ্বীন-ইসলাম গ্রহণ না করে মানব রচিত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তারা মূলতঃ আল্লাহ্র পরিবর্তে (সার্বভৌমত্ব, আইন-বিধান ও কর্তৃত্বের ক্ষেত্রে) মানুষকেই রব্ব মেনে নিয়েছে এবং নিজ নফসকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছে, তারা-ই শয়তানের দল, পতন তাদের নিশ্চিতএদের প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে-

শয়তান তাদেরকে বশীভূত করে নিয়েছে, অতঃপর তাদের অন্তর থেকে আল্লাহর স্মরণ ভূলিয়ে দিয়েছেতারা শয়তানের দলসাবধান! শয়তানের দলভুক্ত লোকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত” (সূরা মুজাদালাহ ৫৮:১৯)

শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণকারী র্শিককারীরা আল্লাহ্র জমীনে মিথ্যা সার্বভৌমত্বের দাবীদার সেজে শুধু মহান রব্ব আল্লাহ্র ক্রোধই অর্জন করছে, এতে করে তাদের মাঝে ও জাহান্নামের মাঝে দূরত্ব ক্রমশঃ কমছে বৈ বাড়ছে নাসুতরাং আসুন আমরা মতানৈক্য না করে পরিপূর্ণ তাওহীদ গ্রহণ করি এবং তাওহীদ প্রতিষ্ঠায় ও র্শিকের বিনাশে সহীহ আমীরের নেতৃত্বে সহীহ দ্বীনি আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করি এবং এ মহৎ কাজে নিজেদেরকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে জাহান্নাম থেকে ফিরে নিজেদের মূল বাড়ী, আসল বাড়ী জান্নাতে যাওয়ার পথ ধরিনিজেদেরকে আর আবু জাহেল নয়, আবুল হাকাম হিসেবে আল্লাহ্র নিকট উপস্থাপন করি এবং এ আয়াতের উপরে আমল করি-

তোমরা দ্বীন প্রতিষ্ঠা কর এবং এ ব্যাপারে পরস্পর দলাদলি-বিচ্ছিন্নতা করো না” (সূরা শুরা ৪২:১৩)

যে ব্যক্তিকে তার রব্বের আয়াত সমূহ দ্বারা উপদেশ দান করা হয়, অতঃপর সে তা হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার চেয়ে বড় জালিম আর কে হতে পারে? নিশ্চয় আমি অপরাধীদের শাস্তি প্রদান করে থাকি” (সূরা সাজদাহ ৩২:২২)

পরিশেষে আমরা মহান মালিক আল্লাহ্র কাছে শয়তানের চিরন্তণ অবস্থা : আল্লাহ্র দয়ায় নিরাশ হওয়াথেকে আশ্রয় চাই এবং সেই নৈরাশ্যের আনুসঙ্গিক কুফরী থেকেও আশ্রয় চাইতিনি আমাদেরকে সকল প্রকার র্শিক ও কুফরী হতে হিফাযত করুন ও প্রকৃত হিদায়াত দান করুনআমীন ইয়া রাব্বাল আলামীন

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s