জীবনে সুখী হওয়ার দশটি উপায়

১) অন্যের কাজে নাক গলাবেন না: আমরা জীবনের বেশিরভাগ সমস্যাই সৃষ্টি করি অন্যের কাজে অহেতুক হস্তক্ষেপ করে। অন্যের চলার পথকে আপনি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করবেন না। কেননা, আল্লাহ প্রত্যেকটি মানুষকে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে, ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।

২) ক্ষমা করে মনে রাখবেন না: ক্ষমা মহৎ লক্ষণ কিন্তু সেটা মহৎ থাকে না যদি আপনি সেটা সবার মাঝে বলে বেড়ান। এমন কাজে নষ্ট করার মতো যথেষ্ট সময় জীবনে নেই। ক্ষমা করে, ভুলে গিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে জান। মনে রাখবেন, ভালোবাসাটা দেওয়ার পড় ভুলে যেতে পারলেন কিনা তার মধ্যেই প্রস্ফুটিত হয়।

৩) স্বীকৃতির জন্য কামনা করবেন না: এই পৃথিবী স্বার্থপর মানুষের পরিপূর্ণ। আজ আপনার প্রশংসা করে আপনার ক্ষমতা আছে বলে, কাল যখন ক্ষমতা থাকবে না তখন ছুড়ে ফেলতেও দ্বিধা করবে না। আপনার সকল অর্জন-ত্যাগ ভুলে যাবে। কিন্তু শুধু স্বীকৃতির জন্য আপনার ভিতরের মানুষটাকে ধ্বংস করবেন কেন? আপনার কাজ আপনি যথাযথ ভাবেই করে যান।

৪) হিংসা কে মাটি চাপা দিন: কারো অর্জনে কখনো হিংসা করবেন না। হিংসা মানুষের অর্জনগুলো মাটি চাপা দিয়ে দেয়। এটা আমাদের মানসিক প্রশান্তি নষ্টেরও বড় ধরণের একটা কারণ।

৫) আগে নিজেকে বদলান: আপনি যদি আপনার চারপাশের পরিবেশকে পরিবর্তন করে দিতে চান, তবে আগে নিজেকে বদলান। আপনি যদি হঠাৎ করে আপনার চারপাশের পরিবেশকে পরিবর্তন করে দিতে চান, তাহলে সেটা বেশ কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার হয়ে দাড়াতে পারে এবং বেশিরভাগ সময়-ই আপনি এতে বিফল হবেন। তাই চারপাশের পরিবেশের সাথে আগে নিজেকে মানিয়ে নিন। তারপর সবাইকে নিয়েই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যান।

৬) যা থেকে পরিত্রাণ পাবেন না, তা সহ্য করে নিন: প্রতিদিন আমরা এমন সব সমস্যার সম্মুখীন হই যা আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাহিরে। এ সমস্যাগুলো নিইয়ে অহেতুক ভেবে আমরা কোন সমাধানে পৌঁছতে পারি না, কিন্তু মাঝে দিয়ে অনেক গুলো সময় নষ্ট হয়। আমাদের এ ছোট ছোট সমস্যাগুলোকে নিজেদের মানসিক প্রশান্তির জন্যই সহ্য করে নিতে হবে।

৭) সাধ্যাতীত কাজ এড়িয়ে চলুন: আমরা অনেকেই আমাদের ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় সাধ্যের বাহিরেও কাজের দায়িত্ব নিয়ে থাকি। অনেক সময় আÍমর্যাদা থেকে অহেতুক কাজের ভার বাড়িয়ে নেই।

৮) মহান রব্ব আল্লাহকে স্মরণ করুন: সব সময় মহান মালিক আল্লাহ রাব্বুল আলামীনকে স্মরণ রাখুন। তাঁর অনুগ্রহ ও সাহায্য চান। এটা আপনার কাজের গতি বাড়িয়ে দিবে এবং কম সময়ে বেশি কাজ করতে সহায়তা করবে।। মহান আল্লাহর সহায়তা পাচ্ছেন- এমন ভেবে কাজ করলে মনের সতেজতা অনেক গুন বৃদ্ধি পায়।

৯) মনকে শূন্য রাখবেন না: কথায় আছে- “অলস মস্তিষ্ক শতানের কারখানা”। তাই মনকে কখনো ফাঁকা রাখবেন না। যখনি সুযোগ পাবেন নিজেকে কোন না কোন কাজে ব্যস্ত রাখবেন।

১০) অতীত নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তা ত্যাগ করুন: অতীতের অসাফল্য আর তিক্ত স্মৃতিকে ভুলে সামনে আগান অর্থাৎ অতীতের জয়-পরাজয় যাই থাকুক না কেন, তা স্মরণ করে পিছনে পড়ে না থেকে তা হতে শিক্ষা নিয়ে নয়তো অনুপ্রেরণা নিয়ে সামনে আগাতে পারেন। কিন্তু অতীত আঁকড়ে ধরে থাকলে কখনোই সামনে এগুবার পথ টুকুও খুঁজে পাবেন না।

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s