জামা‘আতবদ্ধ থাকা এবং আমীরের নির্দেশ শোনা ও আনুগত্য করা

হারিছ আল আশআ’রী (রাযিআল্লাহু আনহু) হ’তে বর্ণিত। নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:আল্লাহ্ আমাকে পাঁচটি বিষয়ের নির্দেশ দিয়েছেন যেন আমি সেগুলোর উপর আমল করি। আমিও তোমাদেরকে সেগুলোর উপর আমল করার নির্দেশ দিচ্ছি:

(১) জামাআ’তবদ্ধ থাকা।

(২) আমীরের নির্দেশ শ্রবণ করা

(৩) তাঁর আনুগত্য করা

(৪) (প্রয়োজনে) হিজরত করা এবং

(৫) আল্লাহ’র রাস্তায় জিহাদ করা

যে ব্যক্তি জামা’আত হ’তে এক বিঘত পরিমাণ দূরে সরে গেল, সে নিজের গর্দান হ’তে ইসলামের রশি খুলে ফেললো- যতক্ষণ না সে তওবা করে তাতে ফিরে আসে। আর যে ব্যক্তি মানুষকে জাহেলিয়াতের রীতি-নীতির দিকে আহ্বান জানালো, সে ব্যক্তি জাহান্নামীদের দলভুক্ত হল (কিংবা সে তো জাহান্নামের পঁচা-গলা লাশ)।

সাহাবায়ে কেরামগণের মধ্য হতে কেউ একজন প্রশ্ন করলেন: হে আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! যদি সে সালাত আদায় করে, সাওম পালন করে তবুও?

তিনি বললেন: হ্যাঁ, যদিও সে সালাত আদায় করে, সিয়াম পালন করে এবং ধারণা করে যে, সে একজন ‘মুসলিম’।

[আহমাদ হা/১৭২০৯; তিরমিযী হা/২৮৬৩ ইফাবা; মিশকাত হা/৩৬৯৪; সহীহ তারগীব ও তারহীব ১ম খণ্ড হা/৫৫২, সহীহ ইবনে খুজাইমা ১৮৯৫, মুসান্নাফে আব্দুর রাজ্জাক ৫১৪১]

হাদিসে বর্ণিত প্রথমোক্ত ৩টি আদেশ সকল ঈমানদারদের জন্য ফরজ। খিলাফাহ প্রতিষ্ঠিত থাকা বা না থাকা এখানে শর্ত নয়।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ‘তোমাদের উপর জামা‘আতবদ্ধ থাকা ফরয করা হ’ল এবং বিচ্ছিন্ন থাকা নিষিদ্ধ করা হ’ল। কেননা শয়তান একক ব্যক্তির সাঙ্গে থাকে এবং সে দু’জন থেকে দূরে থাকে। অতএব, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি জান্নাতের মধ্যস্থলে থাকতে চায়, সে যেন জামা‘আতবদ্ধ জীবনকে অপরিহার্য করে নেয়’। (তিরমিযী হা/২১৬৫, ইবনু মাজাহ হা/২৩৬৩)।
আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত অপর এক হাদীসে তিনি আরও বলেন, ‘জামা‘আতের উপর আল্লাহ’র হাত থাকে’। [তিরমিযী হা/২১৬৬; মিশকাত হা/১৭৩]
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আনুগত্য থেকে বেরিয়ে গেল এবং জামায়াত থেকে বের হয়ে গেল অতঃপর মৃত্যুবরণ করলো, সে জাহেলিয়্যাতের উপর মৃত্যুবরণ করলো। এবং যে ব্যক্তি লক্ষ্যহীন নেতৃতের পতাকাতলে যুদ্ধ করে গোত্রের টানে ক্রুদ্ধ হয় এবং গোত্র প্রীতির জন্যই যুদ্ধ করে সে আমার উম্মাত নয়। আর যে ব্যক্তি আমার উম্মাত থেকে বেরিয়ে আমার উম্মাতেরই নেককার ও বদকার সকলের গর্দান কাটে, মুমিনদেরকেও রেহাই দেয়না এবং যার সাথে অঙ্গীকারবদ্ধ হয় তার অঙ্গীকারও পালন করে না- সে আমার উম্মাত নয়। [মুসলিম হা/৪৬৩৫, সহীহ, ইফাবা]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: কেউ যদি আমীরের মধ্যে এমন কোন ব্যাপার প্রত্যক্ষ করে, যা সে অপছন্দ করে, তবে সে যেন ধৈর্য ধারণ করে। কেননা, যে ব্যক্তি জামায়াত থেকে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে গেল এবং এ অবস্হায় মৃত্যুবরণ করল সে যেন জাহেলিয়্যাতের মৃত্যুই বরণ করলো। [মুসলিম হা/৪৬৩৯, সহীহ, ইফাবা]
হক্ব জামায়াতের জন্য আনুগত্য, শুনা ও মানা খুবই জরুরী। প্রকৃত সত্য হলো: শুনা ও মানা ছাড়া কোন জামায়াত টিকে থাকতে পারে না। বিশেষতঃ জিহাদ ফি সাবিলিল্লাহর জন্য একত্রিত জামায়াতকে সর্বোচ্চ পর্যায়ের শুনা ও মানার যোগ্যতা প্রদর্শন করতে হয়। কারণ এই জামায়াত শত্রুর সাথে লড়াইয়ে লিপ্ত, এছাড়া শয়তানও এই জামায়াতকে পদচ্যূত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালায়। সবদিক থেকে সাধারণ কাজের জন্য একত্রিত কোন জামায়াতের চেয়ে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য নিবেদিত যে কোন জামায়াতকে অনেক বেশী শ্রবণ ও আনুগত্য প্রদর্শন করতে হবে।
আমীরের আনুগত্য করা ফরজ।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেছেন: “তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহ’র, আনুগত্য কর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা উলিল আমর (নির্দেশ দানের অধিকারী) রয়েছে তাদের”। [সূরা আন নিসা ৪:৫৯]
তাই আমাদের উপর আমাদের আমীরের আনুগত্য করা ফরজ। এটা কোন ঐচ্ছিক বিষয় নয় যে, যখন ইচ্ছা ইমারার নির্দেশ মানলাম আর যখন ইচ্ছা মানলাম না।
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, আমরা সর্বশেষে আগমনকারী (পৃথিবীতে) সর্বাগ্রে প্রবেশকারী (জান্নাতে)। আর এ সনদেই বর্ণিত হয়েছে যে, (রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন,) যে ব্যাক্তি আমার আনুগত্য করল, সে ব্যাক্তি আল্লাহ তা’আলারই আনুগত্য করল। আর যে ব্যাক্তি আমার নাফরমানী করল, সে ব্যাক্তি আল্লাহ তাআলারই নাফরমানী করল। আর যে ব্যাক্তি (শরীয়ত স্বীকৃত) আমীরের আনুগত্য করল, সে ব্যাক্তি আমারই আনুগত্য করল। আর যে ব্যাক্তি আমীরের নাফরমানী করল, সে ব্যাক্তি আমারই নাফরমানী করল। ইমাম তো ঢাল স্বরূপ। তাঁর নেতৃত্বে যুদ্ধ এবং তাঁরই মাধ্যমে নিরাপত্তা অর্জন করা হয়। অনন্তর যদি সে আল্লাহর তাকওয়ার নির্দেশ দেয় এবং সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে, তবে তার জন্য এর প্রতিদান রয়েছে আর যদি সে এর বিপরীত করে তবে এর মন্দ পরিণতি তার উপরই বর্তাবে। [বুখারী, কিতাবুল ইমারাহ, হা/২৭৫১, সহীহ, ইফাবা]
হযরত আবূ হুরায়রা (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যে ব্যক্তি আমার আনুগত্য করলো, সে আল্লাহ’রই আনুগত্য করলো। আর যে আমার অবাধ্যতা করলো, সে আল্লাহ’রই অবাধ্যতা করলো। এবং যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য করল, সে প্রকৃতপক্ষে আমারই আনুগত্য করলো। আর যে ব্যক্তি আমীরের অবাধ্যতা করলো, সে আমারই অবাধ্যতা করলো। [মুত্তাফাকুন আলাইহি হা/১২০৪, পিস পাব.]
উবায়দুল্লাহ ইবনু মু’আয আম্বরী (রাহিমাহুল্লাহ) নাফি (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহু) আবদুল্লাহ ইবনু মুতী’ (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর নিকট এলেন, তখন ‘হাররা’-এর হৃদয় বিদারক ঘটনা ঘটেছে এবং যুগটা ছিল ইয়াযিদ ইবনু মুয়াবিয়া (রাযিআল্লাহু আনহু)’র যুগ। তখন তিনি (ইবনু মুতী’) বললেন, আবূ আবদুর রহমানের জন্য বিছানা পেতে দাও। তখন ইবনু উমার বললেন, আমি আপনার কাছে বসতে আসিনি, এসেছি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট যে হাদীস শুনেছি তা আপনাকে শুনাতে। আমি তাঁকে বলতে শুনেছি, যে ব্যক্তি আমীরের আনুগত্য থেকে হাত শুটিয়ে নিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে কিয়ামতের দিন দলিল বিহীন অবস্থায় আল্লাহ’র সাথে মিলিত হবে। আর যে ব্যক্তি এমন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করলো যে, তার ঘাড়ে আনুগত্যের বাইআত নেই, তার মৃত্যু জাহেলিয়্যাতের মৃত্যু হবে। [মুসলিম হা/৪৬৪২, ৪৬৪৩, ৪৬৪৪ সহীহ, ইফাবা]
আল্লাহ’র রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমীরের আনুগত্যকে তাঁর নিজের আনুগত্য বলে উল্লেখ করেছেন। এবং তাঁর আনুগত্যকে আল্লাহ’র আনুগত্য বলেছেন। আর আমীরের আনুগত্যের বাইআত বিহীন মৃত্যুকে জাহেলিয়াতের মৃত্যু বলেছেন। সুবহানাল্লাহ! আমীরের আনুগত্য করার জন্য এর চেয়ে উত্তম দলীল আর কি প্রয়োজন আছে?
সর্বাবস্থায় আমীরের নির্দেশ শুনতে ও মানতে হবে।
আমীরদের সকল নির্দেশ আমাদের পছন্দ হবে কিংবা ভালো মনে হবে এমন নয়। কিন্তু তারপরও তা মেনে নিতে হবে। হক্ব কথা হলো: যখন নির্দেশটা আমাদের মর্জি মাফিক হবে না, তখনই বুঝা যাবে কে আমীরদের কতটুকু আনুগত্য করছে?
হযরত উবাদা বিন সামিত (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত।তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে ডাকলেন এবং আমরা তাঁর কাছে বাই‘আত গ্রহণ করলাম। তিনি তখন আমাদের থেকে যে বাই‘আত গ্রহণ করেছিলেন তাতে উল্লেখ ছিল যে, আমরা শুনবো ও মানবো, আমাদের অনুরাগে ও বিরাগে, আমাদের সংকটে ও স্বাচ্ছন্দ্যে এবং আমাদের ওপর অন্যকে প্রাধান্য দিলেও। আরও (বাই‘আত করলাম যে,) ক্ষমতা সংক্রান্ত বিষয়ে ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হবো না। কিন্তু যদি (তার মধ্যে) এমন স্পষ্ট কুফরী দেখ, তোমাদের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে যে বিষয়ে সুস্পষ্ট দলীল বিদ্যমান, তবে ভিন্ন কথা।” [মুত্তাফাকুন আলাইহি হা/১২০৭, পিস পাব.]
কুতায়বা ইবনু সাঈদ (রহিমাহুল্লাহ) হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহু) এর সূত্রে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন: মুসলিম ব্যক্তির অবশ্য পালনীয় কর্তব্য হচ্ছে- শোনা ও মানা, তার প্রতিটি প্রিয় ও অপ্রিয় ব্যাপারে-যাবৎ না তাকে আল্লাহ’র অবাধ্যতার আদেশ করা হয়। যদি আল্লাহ’র অবাধ্যতার নির্দেশ তাকে দেয়া হয় তা হলে তা শুনতে হবে না, মানতেও হবে না। [মুসলিম হা/ ৪৬১১, সহীহ, ইফাবা]
আবূ বাকর ইবনু আবি শায়বা (রহিমাহুল্লাহ) হযরত উবাদা ইবনু সামিত (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন: আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাতে বাইআত হলাম এ মর্মে যে, আমরা শুনবো ও মানবো, সংকটের সময় ও সাচ্ছন্দের সময়, অনুরাগে ও বিরাগে এবং আমাদের উপর অন্যদের প্রাধান্য দিলেও। আর এ মর্মে যে, আমরা যোগ্য ব্যক্তির নেতৃত্ব বরণ করে নিতে কোনরুপ কোন্দল করবো না। আর এ মর্মে যে, আমরা যেখানেই থাকবো হক্ব কথা বলবো। আল্লাহ’র ব্যাপারে কোন ভৎসনাকারীর ভৎসনাকে ভয় করবো না। [মুসলিম হা/৪৬১৬, সহীহ, ইফাবা]
আহমাদ ইবনু আবদুর রহমান ইবনু ওহাব ইবনু মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) নাদা ইবনু আবূ উমাইয়া (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, আমরা উবাদা ইবনু সামিত (রাযিআল্লাহু আনহু)-এর খেদমতে গেলাম। তখন তিনি রোগগ্রস্ত। আমরা আরয করলাম, আল্লাহ আপনাকে আরোগ্য করুন। আমাদেরকে এমন কোন হাদীস বলুন- যদ্দ্বারা আল্লাহ আমাদেরকে উপকৃত করবেন; যা আপনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট থেকে শুনেছেন। তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে ডাকলেন এবং আমরা বাইআত হলাম। তিনি তখন আমাদের থেকে যে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন তার মধ্যে ছিল- আমরা শুনবো ও মানবো, আমাদের অনুরাগে ও বিরাগে, আমাদের সংকটে ও সাচ্ছন্দে এবং আমাদের উপর অন্যকে প্রধান্য দিলেও এবং যোগ্যপাত্রের সাথে আমরা নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল করবো না। তিনি আরও বলেন- যে পর্যন্ত না তোমরা তার মধ্যে প্রকাশ্য কুফর দেখতে পাবে এবং তোমাদের কাছে এ ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে আল্লাহ’র সুস্পষ্ট দলীল থাকবে। [মুসলিম হা/ ৪৬১৯, সহীহ, ইফাবা]
হযরত আলী ইবনু আবদুল্লাহ (রহিমাহুল্লাহ) হযরত জারীর (রাযিআল্লাহু আনহু) সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর হাতে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আন্না মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ’–এ কথা সাক্ষ্য দেয়ার, সালাত কায়েম করার, যাকাত দেয়ার, আমীরের কথা শুনার ও মেনে চলার এবং প্রত্যেক মুসলিমের কল্যাণ কামনা করার উপর বাইআত করেছিলাম। [বুখারী হা/২০২৩, সহীহ, ইফাবা]
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, একজন মুসলিমের উপর অপরিহার্য কর্তব্য (আমীরের নির্দেশ) শুনা এবং আনুগত্য করা- চাই তা তার মনঃপুত হোক বা না হোক। তবে যদি সে আল্লাহ’র অবাধ্যতার নির্দেশ দেয় তবে ভিন্ন কথা। যখন অবাধ্যতার নির্দেশ দেয়া হয়, তখন আর কোন শোনাও নেই, আনুগত্য করাও নেই। [মুত্তাফাকুন আলাইহি হা/১২০৫, পিস পাব.]
হযরত আলী (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাদল প্রেরণ করেন এবং এক ব্যক্তিকে আমীর নিযুক্ত করে সেনাবাহিনীকে তার আনুগত্য করার নির্দেশ দেন। এরপর তিনি তাদের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে আগুন প্রজ্জলিত করালেন এবং সেনাবাহিনীর লোকদেরকে তাতে ঝাঁপ দিতে নির্দেশ দিলেন। একদল লোক তাতে ঝাঁপ দিতে উদ্যত হলো আর অপর একদল বললো, আমরা (নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অনুসরনের মাধ্যমে তো) আগুন থেকেই আত্মরক্ষা করেছি (সূতরাং আগুনে ঝাপ দেয়ার প্রশ্নই উঠে না)। যথাসময়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দরবারে এ ঘটনা উত্থাপিত হলে যারা আগুনে ঝাঁপ দিতে উদ্যত হয়েছিল তাদেরকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন: তখন তোমরা যদি সত্যি সত্যি আগুনে ঝাঁপ দিতে তবে কিয়ামতের দিন পর্যন্ত তাতেই অবস্হান করতে। পক্ষান্তরে অপরদলকে লক্ষ্য করে তিনি উত্তম কথা বললেন। আরো বললেন: আল্লাহ’র অবাধ্যতায় আনুগত্য নেই। প্রকৃতপক্ষে আনুগত্য কেবল ন্যায় ও সৎ কাজেই। [মুসলিম হা/৪৬১৫, সহীহ, ইফাবা, প্রায় অনুরূপ হাদীস মুত্তাফাকুন আলাইহি হা/১২০৬, পিস পাব.]
কুতায়বা (রহিমাহুল্লাহ) হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রত্যক মুসলিম ব্যক্তির কর্তব্য হল পছন্দ হোক বা অপছন্দ সর্বাস্থায় আমীরের কথা শুনা ও মান্য করা যতক্ষণ পর্যন্ত না তাকে আল্লাহর নাফরমানীর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তাকে নাফরমানীর নির্দেশ দেওয়া হলে তখনার শোনা ও মান্য করা যাবে না। এই বিষয়ে আলী, ইমরান ইবনু হুসায়ন ও হাকাম ইবনু আমর গিফারী রাযিআল্লাহু আনহু থেকেও হাদীস বর্ণিত আছে। এই হাদীসটি হাসান-সহীহ। [জামে তিরমিজী হা/১৭১৩]
অর্থাৎ সকল অবস্থাতেই আমাদেরকে আমীরের নির্দেশ মানতে হবে এবং নেতৃত্বের জন্য কোন্দল করা যাবে না। আমাদেরকে শুধু এটা খেয়াল রাখতে হবে, যে কাজের নির্দেশ আমাকে দেয়া হচ্ছে তা কি আল্লাহ’র হুকুমের বিপরীত কিনা? ইসলামী শরীয়াহ’র খেলাফ কিনা?
আমীর মামুরের থেকে কম যোগ্যতাসম্পন্ন হলেও শোনা ও আনুগত্য করা জরুরী।
মুহাম্মদ ইবনু বাশশার (রহিমাহুল্লাহ) আনাস ইবনু মালিক (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তোমরা আমীরকে শোন ও তার আনুগত্য কর যদিও কিসমিসের সমান আকৃতির মাথাওয়ালা হাবশী ক্রীতদাসকেও তোমাদের আমীর নিযুক্ত করা হয়। [বুখারি হা/৬৬০, সহীহ, ইফাবা]
ইয়াহইয়া ইবনু হুসাইন তার দাদী উম্মুল হুসাইন থেকে বর্ণনা করেন, তিনি রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে বলতে শুনেছেন: “যদি নাক কাটা কোন ক্রীতদাসও তোমাদের উপর আমীর নিযুক্ত করা হয় এবং সে যদি আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী তোমাদেরকে পরিচালনা করে তবে তার কথা শোন ও তার আনুগত্য কর”। [মুসলিম হা/৪৬১২, সহীহ, ইফাবা]
বাকর ইবনু আবূ শায়রা ও আব্দুল্লাহ ইবনু বাররাদ আশআরী (রহিমাহুল্লাহ) হযরত আবূ যার (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমার পরম বন্ধু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে উপদেশ দিয়েছেন যে, আমি যেন (আমীরের নির্দেশ) শুনি ও মানি, যদি আমীর হাত পা কাটা গোলামও হয়। [মুসলিম হা/৪৬০৩, সহীহ, ইফাবা]
যদি আমীর কোন আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্ব না হয় কিংবা মামুর এর চেয়ে কম যোগ্যতাসম্পন্নও হন, তবুও আমীরের নির্দেশ শোনা ও তার আনুগত্য করা মামুরের কর্তব্য। কারণ আপাতঃ দৃষ্টিতে বেশী যোগ্যতাসম্পন্ন মামুরকে নতুন আমীর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তার চেয়ে আরো বেশী যোগ্যতাসম্পন্ন লোক সামনে আসতে পারে। এভাবে চলতে থাকলে অনবরত শুধু আমীর পরিবর্তন করতে হবে। ফলে জামা‘আতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিবে। সুতরাং এ পদ্ধতিতে কোন জামা‘আত চলতে পারে না।
আমীরের ভুল-ত্রুটি, গুনাহ থাকলেও তাঁর নির্দেশ শোনা ও আনুগত্য করা জরুরী।
হযরত আব্দুল্লাহ্ ইবনে আব্বাস (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: যদি কোন ব্যাক্তি তার আমীরের মধ্যে এমন কোন ব্যাপার প্রত্যক্ষ করে, যা সে অপছন্দ করে, তাহলে সে যেন সবর (ধৈর্যধারণ) করে, কেননা যে ব্যক্তি জামায়াত থেকে এক বিঘত পরিমাণও দূরে সরে গেল এবং এ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করল সে যেন জাহেলিয়্যাতের মৃত্যুই বরণ করলো। [মুসলিম হা/৪৬৩৯ সহীহ, ইফাবা, প্রায় অনুরূপ মুত্তাফাকুন আলাইহি হা/১২১২, পিস পাব.]
মুহাম্মাদ ইবনু সাহল ইবনু আসকার তামীমী ও আবদুল্লাহ ইবনু আব্দুর রহমান দারেমী (রহিমাহুল্লাহ) হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমরা ছিলাম অমঙ্গলের মধ্যে; তারপর আল্লাহ আমাদের জন্য মঙ্গল নিয়ে আসলেন। আমরা তাতে অবস্থান করছি। এ মঙ্গলের পিছনে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে? তিনি বললেন, হ্যা। আমি বললাম এ মঙ্গলের পিছনে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে? তিনি বললেন, হাঁ, আমি বললাম, এ মঙ্গলের পিছনে কি আবার কোন অমঙ্গল আছে? তিনি বললেন, হাঁ, আমি বললাম, তা কিভাবে? তিনি বললেন, আমার পরে এমন সব নেতার আবির্ভাব ঘটবে, যারা আমার প্রদর্শিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাতও গ্রহণ করবে না। অচিরেই তাদের মধ্যে এমন কিছু লোকের উদ্ভব হবে, যাদের অন্তঃকরণ হবে মানব দেহে শয়তানের অন্তঃকরণ। রাবী বলেন, তখন আমি বললাম: হে আল্লাহ’র রাসূল! যদি আমি সেই যুগে উপনীত হই তখন আমি কি করবো? তিনি বললেন: তুমি আমীরের নির্দেশ শুনবে এবং আনুগত্য করবে। যদি তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় এবং তোমার ধন-সস্পদ ছিনিয়ে নেয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে এবং আনুগত্য করবে। [মুসলিম হা/৪৬৩৪, সহীহ, ইফাবা]
অর্থাৎ, আমীর যে সকল ধরনের ভুল-ত্রুটির উর্ধ্বে থাকবেন এমনটি নয়। বরং মানুষ হিসেবে তার ব্যক্তিগত ভুল-ত্রুটি, গুনাহ থাকতেই পারে। সুতরাং সাবধান! কারো উপর কোন আমীর নিযুক্ত হলে সে যদি ঐ আমীরের কোন গুনাহ দেখতে পায়, তাহলে যেনো সে গুনাহটিকে অপছন্দ করে কিন্তু আমীরের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে না নেয়। অর্থাৎ ব্যক্তিগত গুনাহ বা ভুল-ত্রুটির অজুহাতে আমীরের আনুগত্য পরিত্যাগ করা যাবে না, শরীয়াহ সমর্থিত ব্যাপারে তার নির্দেশ শুনা ও মানা জারি রাখতে হবে।
সাধ্যানুযায়ী আমীরের নির্দেশ শোনা ও আনুগত্য করা জারি রাখতে হবে।
আব্দুল্লাহ ইবনু উমার (রাযিআল্লাহু আনহু) বলেন, আমরা যখন রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট শোনা ও আনুগত্যের বাই‘আত গ্রহণ করতাম, তখন তিনি আমাদের বলতেন, ‘যতটুকু তোমার সাধ্যের মধ্যে রয়েছে’। [মুত্তাফাকুন আলাইহি হা/১২২২, পিস পাব.]
হুযায়ফা ইবনু ইয়ামান (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: তুমি শুনবে এবং আনুগত্য কর। যদি তোমার পিঠে বেত্রাঘাত করা হয় বা তোমার ধন-সস্পদ কেড়েও নেয়া হয়, তবুও তুমি শুনবে এবং মানবে। [মুসলিম হা/৪৬৩৪, সহীহ, ইফাবা]
অর্থাৎ প্রত্যেক মুসলিমকে সামর্থ্য অনুযায়ী যথাসাধ্য আমীরদের আনুগত্য করতে হবে। এমনকি আমীর যদি আমাদের উপর কোন যুলুমও করে, তারপরও আনুগত্য করতে হবে। সুতরাং যারা আমীরের আনুগত্য করেন না, তাদের নিকট আনুগত্য না করার আর কোন অযুহাত থাকতে পারে?

আমীরের আনুগত্যের অধীনে কৃত ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা জরুরী।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাযিআল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: “চারটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে, সে খাঁটি মুনাফিক। ১.কথা বললে মিথ্যা বলে, ২.ওয়াদা করলে ভংগ করে, ৩.চুক্তি করলে গাদ্দারী করে, ৪.ঝগড়া করলে অশ্লিল গালি দেয়। আর এর একটি বৈশিষ্ট্য যার মধ্যে থাকবে, তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি বৈশিষ্ট্য বিদ্যমান, যতক্ষণ পর্যন্ত সে তা পরিত্যাগ না করে”। [বুখারী হা/৪৬৩৪, সহীহ, ইফাবা]
যখন আমীরের আনুগত্যের শপথ নেয়া হয় কিংবা বাই‘আত দেয়া হয়, সেটা এক প্রকার ওয়াদা ও আহাদ যা পূরণ করা জরুরী। শরয়ী কারণ ব্যতীত যে ব্যক্তি এই ওয়াদা ও আহাদ থেকে দূরে সরে গেলো, তার মধ্যে মুনাফিকীর একটি শাখা আছে।
আমীরকে দেয়া ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি ভংগ করা কিংবা তাকে দেয়া প্রতিশ্রুতি না রাখা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ।
শপথ ভংগ করার ব্যাপারে আল্লাহ বলেছেনঃ
إِنَّ الَّذِينَ يُبَايِعُونَكَ إِنَّمَا يُبَايِعُونَ اللَّهَ يَدُ اللَّهِ فَوْقَ أَيْدِيهِمْ ۚ فَمَن نَّكَثَ فَإِنَّمَا يَنكُثُ عَلَىٰ نَفْسِهِ ۖ وَمَنْ أَوْفَىٰ بِمَا عَاهَدَ عَلَيْهُ اللَّهَ فَسَيُؤْتِيهِ أَجْرًا عَظِيمًا [٤٨:١٠
“যারা আপনার কাছে আনুগত্যের শপথ করে, তারা তো আল্লাহর কাছে আনুগত্যের শপথ করে। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর রয়েছে। অতএব, যে শপথ ভঙ্গ করে; অতি অবশ্যই সে তা নিজের ক্ষতির জন্যেই করে এবং যে আল্লাহর সাথে কৃত অঙ্গীকার পূর্ণ করে; আল্লাহ সত্ত্বরই তাকে মহাপুরস্কার দান করবেন”। (সূরা ফাতহঃ ১০)
আল্লাহ আরো বলেনঃ
وَأَوْفُوا بِعَهْدِ اللَّهِ إِذَا عَاهَدتُّمْ وَلَا تَنقُضُوا الْأَيْمَانَ بَعْدَ تَوْكِيدِهَا وَقَدْ جَعَلْتُمُ اللَّهَ عَلَيْكُمْ كَفِيلًا ۚ إِنَّ اللَّهَ يَعْلَمُ مَا تَفْعَلُونَ [١٦:٩١
“আল্লাহর নামে অঙ্গীকার করার পর সে অঙ্গীকার পূর্ণ কর এবং পাকাপাকি কসম করার পর তা ভঙ্গ করো না, অথচ তোমরা আল্লাহকে জামিন করেছ। তোমরা যা কর আল্লাহ তা জানেন”। (সূরা নাহলঃ ৯১)
মুমিনদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেনঃ
الَّذِينَ يُوفُونَ بِعَهْدِ اللَّهِ وَلَا يَنقُضُونَ الْمِيثَاقَ [١٣:٢٠
“এরা এমন লোক, যারা আল্লাহর প্রতিশ্রুতি পূর্ণ করে এবং অঙ্গীকার ভঙ্গ করে না”। (সূরা রা’দ” ২০)
জামা‘আতবদ্ধ থাকা এবং আমীরের আনুগত্য করা একটা ইবাদাত, কারণ এটা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সুস্পষ্ট নির্দেশ। আল্লাহ যেন উম্মাহর সবাইকে, খাস করে সকল ঈমানদার মুসলিমকে জামা‘আতবদ্ধ থেকে যথাযথভাবে আমীরের নির্দেশ শোনা ও তার আনুগত্য করার তাওফিক দান করেন এবং আমীরের নিকট কৃত ওয়াদা-প্রতিশ্রুতি সঠিকভাবে পালন ও রক্ষা করার মাধ্যমে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সন্তুষ্টি অর্জনের তাওফিক দান করেন। আমীন, ইয়া রাব্বাল আ‘লামীন।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s