তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য (বিড়ি-সিগারেট, জর্দা, সাদা পাতা, গুল) সেবন আত্মহত্যার শামিল।

আত্মহত্যা মানে নিজকে নিজে ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম যন্ত্রণা ও কষ্ট দেয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানো। এক কথায় একজন মানুষ যদি নিজ ইচ্ছায় অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয় বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণ নাশ করে তবে তাকে আত্মহত্যা বলা হবে। হতে পারে তার প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিক বা ধীরে ধীরে। শরীয়ার ভাষায় একজন মানুষ যদি স্বইচ্ছায় নিজ কর্ম দ্বারা আল্লাহর দেয়া হায়াতকে সংকুচিত করে এনে মৃত্যু বরণ করে তবে সে নিজেকে নিজেই হত্যা করেছে বলে গণ্য হবে আর এটাই আত্মহত্যা। এক শলাকা বিড়ি বা সিগারেট যদি পাঁচ মিনিট হায়াত কমিয়ে দেয় তবে ধুমপানকারী স্বইচ্ছায় আল্লাহর দেয়া হায়াত থেকে পাঁচ মিনিট আগে মৃত্যু বরণ করলো এটাও একধরনের আত্মহত্যা। আবার স্বইচ্ছায় তামাক সেবনের কারণে যদি কেউ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে তবে সেও নির্ধারিত হায়াতকে সংকুচিত করে এনে মৃত্যু বরণ করলো আর এটাও একধরনের আত্মহত্যা। মোটকথা স্বইচ্ছায় কোন কর্ম দ্বারা যদি মানুষ যদি নিজেকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় তবে সে আত্মহত্যা করেছে বলে বিবেচিত হবে। আর ইসলামী শরীয়ায় আত্মহত্যা সমর্থন যোগ্য নয় এবং আত্মহত্যাকারী জাহান্নামী। তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য (বিড়ি-সিগারেট, জর্দা, সাদা পাতা, গুল) যারা সেবন করেন তারা হয়তো পড়ে দেখেন না বা পড়লেও গুরুত্ব দেন না যে, বর্তমানে বিড়ি-সিগারেট সহ সকল তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের গায়ে লেখা থাকে “ধুমপান মৃত্যু ঘটায়” “ধুমপানে ক্যান্সার হয়” “তামাক সেবনে মুখ গহ্বরে, গলায়, ফুসফুসে ক্যান্সার হয়” আর ক্যান্সার মৃত্যুর কারণ। এছাড়া আজকর শিশু বাচ্চাটিও জানে ধুমপান মানে বিষপান। তামাক পাতায় থাকা নিকোটিন এবং হাজার হাজার কার্সিনোজেনিক যৌগ এমনই বিষ যা মানুষকে তিলে তিলে শেষ করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়। সংতরাং যারা তামাক ও তামাকজাত দ্রব্য (বিড়ি-সিগারেট, জর্দা, সাদা পাতা, গুল) সেবন করে আত্মহণনে লিপ্ত আছেন তাদের প্রতি নসিহত- আপনারা যদি ঈমানদার হয়ে থাকেন তবে আল্লাহ ও তাঁর অবাধ্যতা হতে ফিরে আসুন, আল্লাহর দেয়া আমানত হায়াতকে স্বইচ্ছায় তামাক সেবনের মাধ্যমে সংকুচিত করবেন না সর্বোপরি তামাকের বিষ সেবনের মাধ্যমে নিজ জীবনকে ধ্বংশের মুখে ঠেলে দিবেন না। লক্ষ্য করুন,

আল্লাহ ফরমান-
“আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তোমরা নিজেদেরকে ধ্বংসের দিকে নিক্ষেপ করো না।” [সূরা বাকারা ২:১৯৫]

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করো না। কেবলমাত্র তোমাদের পরস্পরের সম্মতিক্রমে যে ব্যবসা করা হয় তা বৈধ। আর তোমরা (নিজরা) নিজেদেরকে হত্যা (অর্থাৎ আত্মহত্যা) করো না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা’আলা তোমাদের প্রতি ক্ষমাশীল। যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে এ কাজ (আত্মহত্যা) করবে, নিশ্চয়ই আমি তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো এবং এটা আল্লাহর পক্ষে সহজসাধ্য। ” [সূরা নিসা ৪:২৯-৩০]

আবু হুরায়রা [রাযিআল্লাহু আনহু] থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি পাহাড় থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে অনুরূপভাবে আত্মহত্যা করতেই থাকবে এবং এটিই হবে তার স্থায়ী বাসস্থান। যে ব্যক্তি বিষ পান করে আত্মহত্যা করবে, তার বিষ তার হাতে থাকবে, জাহান্নামে সে সর্বক্ষণ বিষ পান করে আত্মহত্যা করতে থাকবে। আর এটা হবে তার স্থায়ী বাসস্থান। আর যে ব্যক্তি লৌহাস্ত্র দিয়ে আত্মহত্যা করবে, সে লৌহাস্ত্রই তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সে তা নিজ পেটে ঢুকাতে থাকবে, আর সেখানে সে চিরস্থায়ীভাবে থাকবে।’ [বুখারি হা/১৩৬৫ ও মুসলিম]

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আত্মহত্যাকারী সম্পর্কে আল্লাহ্ বললেন, “আমার বান্দা স্বীয় জান কবজের ব্যাপারে আমারি চাইতেম অগ্রগামী হয়েছে। অতএব আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম।” [বুখারী হা/১৩৬৪]

Smoking Desease

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s