আলেমগণের নামের পূর্বে ‘মাওলানা’ সম্বোধন করাটা কি শির্ক হবে?

কুরআনুল কারীমে আল্লাহ’র ক্ষেত্রে মাওলানা শব্দের প্রয়োগগত অর্থ এসেছে প্রভু।
এক্ষণে আলেমদগণ যদি নামের পূর্বে ‘মাওলানা’ লিখেন বা কেউ তাদেরকে ‘মাওলানা’ সম্বোধন করাটা কি শির্ক হবে?

উত্তর : এটি বলা যাবে এবং এটি শির্ক নয়। কেননা ‘মাওলা’ অর্থ কেবল ‘প্রভু’ বা ‘উপাস্য’ নয়। বরং মাওলা অর্থ বন্ধু, সুহৃদ, অভিভাবক, নেতা, গোলাম ইত্যাদি হয়ে থাকে। যা আরবী ভাষায় বহুল প্রচলিত। ‘মাওলানা’ শব্দটি পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহয় একাধিক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। এমনকি খোদ কুর’আনে আল্লাহ্ তা’আলা নিজের পাশপাশি ফিরিশতা জিবরাঈল এবং মু’মিন-মুত্তাকি বান্দাদের ক্ষেত্রেও ‘মাওলা’ (‘ ﻣﻮﻟﻲ) শব্দটি ব্যবহার করেছেন।

যেমন মালিক (ইউনুস :৩০): সেখানে প্রত্যেকে যাচাই করে নিতে পারবে যা কিছু সে ইতিপূর্বে করেছিল এবং আল্লাহর প্রতি প্রত্যাবর্তন করবে যিনি তাদের প্রকৃত মালিক, আর তাদের কাছ থেকে দূরে যেতে থাকবে যারা মিথ্যা বলতো।

বন্ধু (সুরা দুখান :৪১):সেদিন কোন মাওলা (বন্ধু) অপর কোন মাওলার (বন্ধুর) উপকারে আসবে না। আর তারা সাহায্য প্রাপ্তও হবেনা।

মনিব গোলামের মাওলা (মালিক) (সুরা নাহল: ৭৬):আল্লাহ আরেকটি দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন, দু’ব্যক্তির, একজন বোবা কোন কাজ করতে পারে না। সে মালিকের উপর বোঝা। যেদিকে তাকে পাঠায়, কোন সঠিক কাজ করে আসে না। সে কি সমান হবে ঐ ব্যক্তির, যে ন্যায় বিচারের আদেশ করে এবং সরল পথে কায়েম রয়েছে।

ফিরেশতা জিবরিল এবং মু’মিন-মুত্তাকি বান্দাদের ক্ষেত্রে ‘মাওলা’ (সহায়) শব্দটির ব্যবহার (সূরা আত-তাহরীম:৪): “তোমাদের অন্তর অন্যায়ের দিকে ঝুঁকে পড়েছে বলে যদি তোমরা উভয়ে তওবা কর, তবে ভাল কথা। আর যদি নবীর বিরুদ্ধে একে অপরকে সাহায্য কর, তবে জেনে রেখ আল্লাহ্, জিবরিল এবং সৎকর্মপরায়ন মুমিনগণ তাঁর সহায়। উপরন্তু ফেরেশতাগণও তাঁর সাহায্যকারী।”

রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম) বলেন, তোমরা কেউ বলোনা যে, আমার রবকে খাওয়াও ও পান করাও। বরং বল যে,আমার নেতা ও অভিভাবককে (سيدى ومولايَ )খাওয়াও’ (বুখারী ও মুসলিম, মিশকাত হা/৪৭৬০)।
রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম) তাঁর গোলাম যায়েদ বিন হারেছাহকে أنت أخونا ومولانا ‘তুমি আমার ভাই ও গোলাম’ বলেছেন (বুখারী ২৫৫২, মুসলিম; মিশকাত হা/৩৩৭৭)।
রাহবা নামক স্থানে আলী রাযিআল্লাহু আনহু -এর কাছে একটি দল এসে বলল- মাওলানা! আসসালামু আলাইকা (মাজমাউজ জাওয়াইদ ১৪৬১০) সনদ সহীহ।

এটি আল্লাহর গুণবাচক নামের অন্তর্ভুক্ত নয়। পবিত্র কুরআনে এটি গুণবাচক নাম হিসাবে ব্যবহৃত হয়নি। অতএব কোন দ্বীনী আলেমকে এ শব্দ দিয়ে সম্বোধন করা আপত্তিকর নয়। কোন সম্মানী ব্যক্তির জন্য ‘মাওলানা’ বলার ব্যাপারে বিদ্বানগণের মধ্যে কোন মতভেদ নেই। তবে কোন ব্যক্তি নিজে নিজের পরিচয় দানকালে এই শব্দ ব্যবহার করা অর্থগতভাবে ভুল এবং ক্ষেত্রবিশেষে রিয়া (আত্মপ্রশংসা)র নামান্তর। অতএব নিজের মূল নামের সাথে এ শব্দটি যুক্ত করা বা ব্যবহার না করাটাই উত্তম।

সংগৃহীত ও সম্পাদিত।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s