কবীরা গুনাহসমূহ ও তাওবার সঠিক পদ্ধতি

কবীরা গুনাহসমূহ ও তাওবার সঠিক পদ্ধতি
-আবু যারীফ

গুনাহ বলতে এমন সব খারাপ কাজকে বুঝায় যা মানব জীবনে বিপর্যয় সৃষ্টি করে এবং অকল্যাণ বয়ে আনে। আবার মহান আল্লাহ সুবহানাহু তাআলা অহী করে তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মাধ্যমে যে সকল কাজ করতে আদেশ করেছেন সে সকল কাজ না করা এবং যে সকল কাজ করতে নিষেধ করেছেন সে সকল কাজ করা অর্থাৎ মহান আল্লাহর আদেশ নিষেধের বিপরীত কোন কাজ করাকে পাপ বা গুনাহ বলা হয়। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন- “গুনাহর কাজ তো ওটাই যা তোমার অন্তরে খটকা সৃষ্টি করে এবং মানুষ উহা দেখে ফেলুক তা তুমি অপছন্দ কর”-(মুসলিম)
রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন- “তোমার অন্তরের কাছে ফাতওয়া জিজ্ঞেস কর, নিজেকে এর সমাধান জিজ্ঞেস কর। (একথা তিনি তিন বার বলেছেন) যে কাজে মনে প্রশান্তি সৃষ্টি হয় সেটাই নেককাজ। আর যে কাজে মনে খটকা জাগে এবং অন্তরে বাঁধা সৃষ্টি করে সেটাই গুনাহের কাজ। আর যদি লোকেদের কাছে ফাতওয়া জিজ্ঞেস কর তবে লোকেরা না জেনেই তোমাকে ফাতওয়া দিবে।” (আহমাদ/দারেমী/ছহীহ তারগীব হা/১৭৩৪)।
গুনাহ মূলতঃ দুই প্রকার- (১) ছগীরা বা ছোট গুনাহ। (২) কাবীরা বা বড় গুনাহ।
কাবীরা গুনাহ- যে গুনাহ্ সম্পর্কে পবিত্র কুরআন ও সহীহ্ হাদীসে শাস্তির কথা উল্লেখ রয়েছে অথবা যে সকল কাজ করতে কুরআন-হাদীসে কঠোরভাবে নিষেধ করা হয়েছে সে সকল কাজ করাকে কাবীরা বা বড় গুনাহ বলে। আনাস (রাযিআল্লাহু আনহু) হতে বর্ণিত। রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন- “কাবীরা গুনাহ সমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় গুনাহ হচ্ছে আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, প্রাণ হত্যা করা, মিথ্যা কসম করা বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া” (বুখারী তাঃপাঃহাঃ-৬৮৭০-৭১/আঃপ্রঃহাঃ-৬৩৯১-৯২/ইঃফাঃহাঃ-৬৪০৪-৫)। ছগীরা গুনাহ করতেই থাকলে তা এক সময় কাবীরা গুনাহতে পরিণত হয়। আর কাবীরা গুনাহ খালেছ অন্তরে তাওবা না করলে মাফ হয় না। অর্থাৎ ঐ গুনাহ থেকে মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে এবং পুনরায় ঐ গুনাহ আর কখনও করবো না বলে প্রতিজ্ঞা করতে হবে। তাওবা কবুল হওয়ার দুইটি শর্ত বা পর্যায় রয়েছে। যেমন মহান আল্লাহ বলেন- “তাওবা কবুল করার দায়িত্ব যে আল্লাহর উপর রয়েছে তিনি শুধু তাদের তাওবা কবুল করেন যারা অজ্ঞতাবশতঃ পাপ কাজ করে এবং অবিলম্বে তাওবা করে। সুতরাং আল্লাহ তাদেরকেই ক্ষমা করবেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।“(সূরা নিছা-৪/১৭)। আবার মহান আল্লাহ আরও বলেন- “তাওবা তাদের জন্য নহে যারা আজীবন পাপ কাজ করতেই থাকে অবশেষে যখন তাদের কারও নিকট মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন বলে নিশ্চয়ই আমি এখন ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তাদের জন্যেও নহে যারা অবিশ্বাসী (কাফির) অবস্থায় মৃত্যুমুখে পতিত হয়। তাদের জন্য আমি বেদনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।”(সূরা নিছা-৪/১৮)। প্রিয় মুসলিম দাবীদার ভাই ও বোনেরা আপনারা যারা মনে মনে এই ধারণা পোষণ করে রেখেছেন যে, যদিও নামায আল্লাহর ফরয ইবাদত, যা না করলে গুনাহ হবে ঠিকই কিন্তু শেষ জামানায় তাওবা করে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে ইবাদত বন্দেগী করলে আল্লাহ পরম দয়ালু ও ক্ষমাশীল সুতরাং তিনি ক্ষমা করে দিবেন। আপনাদের এ ধারণা যে ভুল তা উপরিউক্ত আয়াত দুটি থেকে স্পষ্ট বুঝতে পারলেন। তাই আর কাল বিলম্ব না করে এখনই তাওবা করে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নির্দেশিত পথে ফিরে আসুন। আর কাবীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকলে মহান আল্লাহ তাঁর রাহমান ও রাহীম নামের গুণে ছগীরা গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন এই মর্মে পবিত্র কুরআনুল কারীমে অঙ্গীকার করেছেন। মহান আল্লাহ বলেন- “তোমরা যদি গুরুতর নিষিদ্ধ কাজ অর্থাৎ বড় বড় পাপসমূহ থেকে বিরত থাক তাহলে আমি তোমাদের অন্যান্য লঘু পাপ সমূহ ক্ষমা করে দিব এবং তোমাদেরকে মহা সম্মানজনক স্থানে প্রবেশ করাবো।”(সূরা নিছা-৪/৩১)। সুতরাং মহান আল্লাহর এই মহা অনুগ্রহ তথা মহা পুরস্কার পেতে হলে আমাদেরকে অবশ্যই কাবীরা গুনাহ সমূহ থেকে বেঁচে থাকতে হবে। নিম্মে কাবীরা গুনাহ সমূহ উল্লেখ করা হলো-
(১) শির্ক করা। মহান আল্লাহর সৃষ্টিজগতের কোন কিছুর সাথে তাঁর সাদৃশ স্থাপন করার নাম শির্ক। কি কি কাজ করলে শির্ক হয় তা জানার পরেও কেউ যদি শির্ক করে এবং শির্ক করা অবস্থায় মারা যায় তবে মহান আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করবেন না (ময়িদাহ-৫/৭২, নিছা-৪৮ ও ১১৬। বুখারী তাঃপাঃহাঃ-৩৩৩৪/৬৮৭১/আঃপ্রঃহাঃ-৩০৮৮/ ৬৩৯২/ইঃফাঃহাঃ-৩০৯৬/৬৪০৫/মুসলিমহাঃ-২৮০৫)।
(২) পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। (বানী ইসারাইল-১৭/২৩, লুকমান-৩১/১৪। বুখারীতাঃপাঃহাঃ-৬৮৭১/আঃপ্রঃহাঃ ৬৩৯২/ইঃফাঃহাঃ ৬৪০৫)।
(৩) অন্যায়ভাবে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করা-(বানীইসরাইল-১৭/৩৩, মায়িদাহ-৫/৩২, নিছা-৪/৩০। বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৬৮৭১/আঃপ্রঃহাঃ ৬৩৯২/ইঃফাঃহাঃ ৬৪০৫)।
(৪) মিথ্যা কথা বলা। (মু’মিন-৪০/২৮, তুর-৫২/১১ ও ১২। বুখারী তাঃপাঃহাঃ ১৯০৩/৬০৫৭/৬৮৭১/আঃপ্রঃহাঃ ১৭৬৮/৫৬২২/৬৩৯২/ইঃফাঃহাঃ ১৭৭৯/৫৫১৮/৬৪০৫)।
(৫) মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করা। (ফুরকান-২৫/৭২। বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৬৮৭১/আঃপ্রঃহাঃ ৬৩৯২/ইঃফাঃহাঃ ৬৪০৫/মিশকাতহাঃ ৩৭৫৯)।
(৬) জাদু করা। জাদুকর বা গণকের কাছে গেলে ৪০দিন পর্যন্ত তার কোন ইবাদতই কবুল হয় না। (বাকারা-২/১০২। বুখারী তাঃপাঃহাঃ ২৭৬৬/আঃপ্রঃহাঃ ২৫৬৩/ইঃফাঃহাঃ ২৫৭৫/মুসলিম হাঃ ৮৯)।
(৭) দারিদ্রের ভয়ে সন্তান হত্যা করা ও জন্ম নিরোধ করা। (বানী ইসরাইল-১৭/৩১)।
(৮) আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে নিয়ে হাসি তামাশা করা। (তাওবা-৯/৬৫ ও ৬৬, নিছা-৪/১৪০, মায়িদা-৫/৫৭ ও ৫৮)।
(৯) অবৈধ অছীলা করা। [মায়িদাহ-৫/৩৫। অছীলা চার প্রকার-(ক) আল্লাহর গুণবাচক নামের অছীলা। (খ) ঈমানের অছীলা। (গ) জীবিত নেককার মানুষের দোয়ার অছীলা। (ঘ) নেক আমলের অছীলা। এই চারপ্রকার বৈধ অছীলা ধরে মহান আল্লাহকে ডাকা যাবে। এই চারপ্রকার বৈধ অছীলা ব্যতীত বাকী সবই অবৈধ অছীলা এবং এটা করলে শির্ক হবে।]
(১০) মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে অমান্য করা। (জ্বিন-৭২/২৩,নিছা-৪/১৪,আহযাব-৩৩/৩৬)।
(১১) আল্লাহ কর্তৃক প্রেরিত দ্বীনকে দম্ভভরে প্রত্যাখ্যান করা। (সাবা-৩৪/৩৪)।
(১২) আল্লাহর বাণী ও বিধানকে মিথ্যা পতিপন্ন করা এবং অহংকার করে তা হতে দুরে সরে থাকা। (আরাফ-৭/৩৬ ও ৪০ )।
(১৩) আল্লাহর উপর মিথ্যা আরোপ করা অথবা তাঁর নিকট থেকে আগত সত্যকে অস্বীকার করা। (হুদ-১১/১৭ ও ১৮, আনকাবুত-২৯/৬৮, আরাফ-৭/৩৭, সাফ-৬১/৭)।
(১৪) রাসুল (সঃ) কে অমান্য করা, অবিশ্বাস করা এবং তাঁর নামে মিথ্যাচার করা। (নিছা-৪/৮০, মুহাম্মাদ-৪৭/৩৩, আহকাফ-৪৬/৩১, ইমরান-৩/১৮৪। বুখারী তাঃপাঃহাঃ ১১০/আঃপ্রঃহাঃ ১০৮/ইঃফাঃহাঃ ১১১)।
(১৫) রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ব্যতীত অন্যকে শাফায়াতের অধিকারী মনে করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৬৫৬৫/আঃপ্রঃহাঃ ৬১১১/ইঃফাঃহাঃ ৬১১৯)।
(১৬) রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)এর উপর অবতীর্ণ শরীয়তকে অসম্পূর্ণ (পরিপূর্ণ নয়) মনে করা এবং মানব রচিত দ্বীনকে বিশ্বাস করা, যৌক্তিক মনে করা। (জাসিয়া-৪৫/১৮, ইমরান-৩/৮৩ ও ৮৫, নিছা-৪/১১৫)।
(১৭) কাফির-মুশরিকদের ধর্মও সঠিক হতে পারে বলে সন্দেহ করা ও তাদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করা। (ইমরান-৩/২৮, বাকারা-২/২২১, তাওবা-৯/২৮)।
(১৮) রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক আনীত দ্বীনকে অপছন্দ করা। (মুহাম্মাদ-৪৭/৯, মুমিনুন-২৩/৭০, তাওবা-৯/৪৮)।
(১৯) ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত পরিত্যাগ করা। (মুদ্দাসির-৭৪/৪০-৪৩, আনকাবুত-২৯/৪৫, (তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, নাসাঈ, ই.সে. হা:৪৬৪, মুসলিম হা: ১৫৪)।
(২০) শারয়ী কারণ ব্যতীত নামাজে শৈথিল্য প্রদর্শন করা। (মাঊন-১০৭/৪ ও ৫)।
(২১) যাকাত আদায় না করা। (মু’মিনুন-২৩/৪)।
(২২) কোন ওজর ব্যতীত রমাদ্বানের সিয়াম (রোজা) নষ্ট করা। (বাকারা-২/১৮৩ ও ১৮৫, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ১৮৯১/১৮৯৪/ইঃফাঃহাঃ ১৭৬৭/১৭৭০/ মুসলিম হাঃ ১১৫১)।
(২৩) সামর্থ থাকা সত্ত্বেও হাজ্জ পালন না করা। (ইমরান-৩/৯৭, বুখারী/মুসলিম/মিশকাত)।
(২৪) আত্মহত্যা করা। (নিছা-৪/২৯ ও ৩০, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ১৩৬৩/১৩৬৪/১৩৬৫/আঃপ্রঃহাঃ ১২৭৩/১২৭৪/ইঃফাঃহাঃ ১২৮০/১২৮১/মুসলিমহাঃ ১১০)।
(২৫) আত্মীয় স্বজনদের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করা। (মুহাম্মাদ-৪৭/২২ ও ২৩, নিছা-৪/৩৬। বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৪৮৩০/আঃপ্রঃহাঃ ৪৪৬৫/ইঃফাঃহাঃ ৪৪৬৭/মুসলিম হাঃ ২৫৫৪)।
(২৬) বিবাহ বহির্ভূত যৌন সম্পর্ক, যেনা-ব্যাভিচার করা, সমকামীতা (লাওয়াতাত) ও যৌন বিকারে লিপ্ত হওয়া। (বানী ইসরাইল-১৭/৩২, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫৫৯০/আঃপ্রঃহাঃ ৫১৮০/ইঃফাঃহাঃ ৫০৭৬)।
(২৭) মদ্যপান করা। (মায়িদাহ-৫/৯০, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫৫৯০/আঃপ্রঃহাঃ ৫১৮০/ইঃফাঃহাঃ ৫০৭৬)।
(২৮) সুদ গ্রহন ও প্রদান করা। (বাকারা-২/ ২৭৫, ২৭৮ ও ২৭৯, ইমরান-৩/১৩০, রূম-৩০/৩৯, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ২০৮৬/২৭৬৬/আঃপ্রঃহাঃ ২৫৬৩/১৯৪১/ইঃফাঃহাঃ ২৫৭৫/১৯৫৬/মুসলিম হাঃ ৮৯)।
(২৯) ইয়াতিমের সম্পদ ভক্ষণ করা ও তার উপর অত্যাচার করা। (বণী ইসরাঈল-১৭/৩৪, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ২৭৬৬/আঃপ্রঃহাঃ ২৫৬৩/ইঃফাঃহাঃ ২৫৭৫/মুসলিম হাঃ ৮৯)।
(৩০) জিহাদ চলাকালে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে পলায়ণ করা। (আনফাল-৮/১৫ ও ১৬, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ২৭৬৬/আঃপ্রঃহাঃ ২৫৬৩/ইঃফাঃহাঃ ২৫৭৫/মুসলিম হাঃ ৮৯)।
(৩১) শাসক কর্তৃক শাসিতের উপর অত্যাচার করা। (শুরা-৪২/৪২, বুখারী/মুসলিম/মিশকাত হাঃ ৩৬৮৭)।
(৩২) আমানতের খেয়ানত করা। (আনফাল-৮/২৭)।
(৩৩) অহংকার করা। (লুকমান-৩১/১৮, মুসলিম হাঃ-৯১/মিশকাত হাঃ ৫১০৮)।
(৩৪) তাস, কেরাম, দাবা বা লুডুর সাহায্যে জুয়া খেলা। (মায়িদাহ-৫/৯০, মুসলিম/মিশকাত হাঃ ৪৫০০)।
(৩৫) সতী-সাধ্বী নারীর বিরুদ্ধে অপবাদ বা কুৎসা রটনা করা। (নূর-২৪/৪, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ২৭৬৬/আঃপ্রঃহাঃ ২৫৬৩/ইঃফাঃহাঃ ২৫৭৫/মুসলিম হাঃ ৮৯)।
(৩৬) রাষ্ট্রীয় সম্পদ আত্মসাৎ করা। (ইমরান-৩/১৬১, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৩০৭৩/আঃপ্রঃহাঃ ২৮৪২/ইঃফাঃহাঃ ২৮৫৩/ মুসলিম হাঃ ১৮৩১)।
(৩৭) চুরি-ডাকাতি করা। (মায়িদা-৫/৩৮)।
(৩৮) মিথ্যা শপথ করা। (মুসলিম/মিশকাত হাঃ ৩৭৬০)।
(৩৯) কারও উপর অন্যায়ভাবে অত্যাচার ও জুলুম করা। (শূরা-৪২/৪২, হুদ-১১/১০২ ও ১১৩, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৪৬৮৬/আঃপ্রঃহাঃ ৪৩২৫/ইঃফাঃহাঃ ৪৩২৬)।
(৪০) হারাম উপার্জন করা ও ভক্ষণ করা। (বাকারা-২/১৮৮, মুসলিম/মিশকাত হাঃ ২৭৬০)।
(৪১) বিচার কার্যে অসততা ও দূর্নীতি করা। (মায়িদাহ-৫/৪৪, ৪৫, ৪৭)।
(৪২) ঘুষ খাওয়া। (বাকারা-২/১৮৮)।
(৪৩) নারীরা পুরুষদের এবং পুরুষরা নারীদের সাদৃশ্যপূর্ণ বেশভূষা ধারণ করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫৮৮৫/আঃপ্রঃহাঃ ৫৪৫৭/ইঃফাঃহাঃ ৫৩৫৩)।
(৪৪) নিজ পরিবারবর্গকে নামাযের আদেশ না দেওয়া এবং পাপাচারের প্রশ্রয় দেওয়া। (ত্বাহা-২০/ ১৩২, ইব্রাহীম-১৪/৪০)।
(৪৫) ঋতুবর্তী স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হওয়া। (বাকারা-২/২২২)।
(৪৬) অন্যকে দেখানো বা সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে ভাল কাজ করা। (বাকারা-২/২৬৪, নিছা-৪/৩৮,১৪২, মাউন-১০৭/৪-৬)।
(৪৭) শুধুমাত্র দুনিয়ার স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে জ্ঞান অর্জন করা। (মুসলিম হাঃ ১৯০৫/তিরমিযী হাঃ ৩১৩৮/আবুদউদ/আহমাদ/মিশকাত হাঃ ২০৫/২২৫/২২৭)।
(৪৮) বিশ্বাস ঘাতকতা/ভঙ্গ করা। (হুজুরাত-৪৯/১১ ও ১২)।
(৪১) দান খয়রাত করার পর তার খোটা দেওয়া। (বাকারা-২/২৬৪)।
(৪৯) অপরের সম্পদ আত্মস্যাৎ করা। (বাকারা-২/১৮৮, নিছা-৪/২৯, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৩১৯৬/আঃপ্রঃহাঃ ২৯৫৫/ইঃফাঃহাঃ ২৯৬৬)।
(৫০) ওয়াদার খেলাপ/ওয়াদা ভঙ্গ করা। (নাহল-১৬/৯১, ৯২, ৯৪ ও বণী ইসরাঈল-১৭/৩৪)।
(৫১) বিনা অপরাধে কোন মুসলিমকে অভিশাপ বা গালি দেওয়া। (বুখারী: হা/৪৮, ৬০৪৪, ৬০৪৭, ৭০৭৬, মুসলিম: হা/১২৪)
(৫২) জ্যোতিষী বা গণকের কথা বিশ্বাস করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৩২১০/আঃপ্রঃহাঃ ২৯৭০/ইঃফাঃহাঃ ২৯৮০/মিশকাত হাঃ ৪৫৯৫)।
(৫৩) স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের অধিকার নষ্ট করা। (নিছা-৪/৩৪, বাকারা-২/২২৮)।
(৫৪) প্রাণীর ছবি আঁকা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫৯৪৯-৫১/আঃপ্রঃহাঃ ৫৫১৭-১৯/ইঃফাঃহাঃ ৫৪১২-১৪/মুসলিম হাঃ ২১০৮-০৯)।
(৫৫) অহংকার ও দাম্ভিকতা প্রকাশ করা। (লুকমান-৩১/১৮, বানী ইসরাইল-১৭/৩৭, আরাফ-৭/৩৬। মুসলিম হাঃ ৯১/মিশকাত হাঃ ৫১০৮)।
(৫৬) দাস-দাসী, দূর্বল শ্রেণী ও জীবজন্তুর সাথে নিষ্ঠুর আচরণ করা। (নিছা-৪/৩৬)।
(৫৭) ওজনে কম দেওয়া বা বেশী নেওয়া। (বানী ইসরাইল-১৭/৩৫, আরাফ-৭/৮৫, শুআরা-২৬/১৮১ ও ১৮৩, হুদ-১১/৮৪ও ৮৫)।
(৫৮) প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া। (নিছা-৪/৩৬, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৬০১৬/আঃপ্রঃহাঃ-৫৫৮২/ইঃফাঃহাঃ ৫৪৭৮/মুসলিম হাঃ ৪৬)।
(৫৯) পুরুষের টাখনুর নীচে কাপড় পরা। (বুখারী/মুসলিম/মিশকাত হাঃ ৪৩১১-১২)।
(৬০) পুরুষের স্বর্ণ ও রেশমের কাপড় ব্যবহার করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫৫৯০/আঃপ্রঃহাঃ ৫১৮০/ইঃফাঃহাঃ ৫০৭৬)।
(৬১) শারয়ী ওজর ব্যতীত বৈধ কর্তৃপক্ষের অবাধ্য চলা। (নিসা-৪/৫৯)।
(৬২) যৌতুক আদান প্রদান করা। (সূরা আল-বাকারা- ২/১৮৮, সূরা নিসা ৪/৪)
(৬৩) জেনে শুনে নিজেকে অন্যের সন্তান বলে পরিচয় দেওয়া অর্থাৎ নিজ পিতার পরিবর্তে অন্যকে পিতা বলে পরিচয় দেওয়া। (বুখারী/মুসলিম/মিশকাত হাঃ ৩৩১৪-১৫)।
(৬৪) আল্লাহর নাম ব্যতীত জবেহ করা জন্তুর গোশত ভক্ষণ করা। (আনআম-৬/১২১, নাহল-১৬/১১৫, বুখারী তাঃপাঃ হাঃ-৫৪৯৯/আঃপ্রঃহাঃ-৫০৯৩/ ইঃফাঃহাঃ ৪৯৯০)।
(৬৫) আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হওয়া। (যুমার-৩৯/৫৩)।
(৬৬) ধোকাবাজি করা, ছলচাতুরী করা ও অন্যের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বা গোয়েন্দাগিরি করা এবং অন্যের প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করা। (হুজুরাত-৪৯/১১, বুখারী তাঃ ৬০৬৬/আঃপ্রঃহাঃ ৫৬৩১/ইঃফাঃহাঃ ৫৫২৭)।
(৬৭) কৃপণতা করা বা অপব্যয় করা। (বাণী ইসরাঈল-১৭/২৬, ২৭, ২৯, নিছা-৪/৩৭, আরাফ-৭/৩১, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ১৪৪২/আঃপ্রঃহাঃ ১৩৪৯/ইঃফাঃহাঃ ১৩৫৫/মুসলিম হাঃ ১০১০)।
(৬৮) মুসলিমদের ক্ষতি সাধণে অমুসলিমকে সাহায্য করা, তাদের গোপনীয় বিষয় অনুসন্ধান করা ও শত্রুর নিকট প্রকাশ করা। (মুমতাহিনা-৬০/১ ও ২, মায়িদাহ-৫/৫১, হুজুরাত-৪৯/১২)।
(৬৯) সাহাবীদের সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা, সমালোচনা করা বা তাঁদেরকে গালি দেওয়া। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৩৬৭৩/আঃপ্রঃহাঃ ৩৩৯৮/ইঃফাঃহাঃ ৩৪০৫)।
(৭০) অপরের দোষ তাঁলাশ, গীবত করা অর্থাৎ চোগলখুরী করা বা নিন্দা করা। (হুজুরাত-৪৯/১১ ও ১২, হুমাজাহ-১০৪/১, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৬০৫৬/আঃপ্রঃহাঃ ৫৬২১/ ইঃফাঃহাঃ ৫৫১৭)।
(৭১) জোর পূর্বক চাঁদা আদায় করা। (আরাফ-৭/৩৩)।
(৭২) শক্তি থাকা সত্ত্বেও সৎকাজের আদেশ ও অসৎকাজের নিষেধ করা থেকে বিরত থাকা। (লুকমান-৩১/১৭, হা-মীম-সাজদা-৪১/৩৩, ইমরান-৩/১১০)।
(৭৩) নামাযীর সামনে দিয়ে গমন করা-(বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫০৯/আঃপ্রঃহাঃ ৪৭৯/ইঃফাঃহাঃ ৪৮৫/মুসলিম হাঃ ৫০৫)।
(৭৪) গান-বাজনা নৃত্য করা ও দেখা। (লুকমান-৩১/৬, আরাফ-৭/৩৩, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫৫৯০/আঃপ্রঃহাঃ ৫১৮০/ইঃফাঃহাঃ ৫০৭৬)।
(৭৫) পর্দার বিধান লংঘন করা। (মুমিনুন-২৩/৫)।
(৭৬) মূল্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে চল্লিশ দিনের বেশী খাদ্যশস্য মজুদ করে রাখা। (আল-মুসনাদে আহমাদ, খ.৪, পৃ.৪৩৭, হাদীস নং ৪৮৮০, সহীহ মুসলিম, অধ্যায়: আল-মুসাকাত ওয়াল মুযারায়াত, আস-সুনান ইবনে মাজাহ, অধ্যায়: আত-তিজারাত)
(৭৭) সামর্থ থাকা সত্ত্বেও ঋণ পরিশোধে গড়িমসি করা। (বুখারী: ২/৮৪১, তিরমিজি, মুসলিম, আবু দাউদ, নাসায়ি ও ইবনে মাজা)
(৭৮) হিংসা করা। (ফালাক্ব-১১৩/৫)।
(৭৯) মুসলমানদের মধ্যে ভাষা, বর্ণ ও বংশের ভিত্তিতে বিভেদ তৈরী করে অনৈক্য সৃষ্টি করা। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত)
(৮০) মুসলমানদের বিপদে খুশি হওয়া। (আদাবুল মুফরাদ হা/১২৪, ইবনু মাজাহ হা/১৬০১, মুসলিম হা/৪৫, তিরমিজি)
(৮১) ছোটদের স্নেহ না করা এবং বড়দের সাথে বেয়াদবী করা। (মুসনাদ আহমদ হা/৬৯৩৭)
(৮২) বিনা কারণে ভিক্ষাবৃত্তি করা। (ইমাম মুসলিম, সহীহ মুসলিম ১০৪২)
(৮৩) কাউকে তার অপরাধের জন্য লোক সন্মুখে অপমান করা। (সহীহ তিরমিজি, ৪র্থ খণ্ড)
(৮৪) কোন মুসলিম সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ করা। (হুজুরাত-৪৯/১২, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৬০৬৬/ আঃপ্রঃহাঃ ৫৬৩১/ইঃফাঃহাঃ ৫৫২৭)।
(৮৫) মুসলিমদের জামা’আত বা দল থাকা সত্ত্বেও নতুন দল সৃষ্টি করা। (ইমরান-৩/১০৩ ও ১০৫, রূম-৩০/৩১ ও ৩২, আনআম-৬/১৫৯)।
(৮৬) প্রমাণ ছাড়া কোন কিছু শুনে বিশ্বাস করা এবং তা অন্যকে বলা। (আম্বিয়া-২১/৭, হুজুরাত-৪৯/৬, নাহল-১৬/৪৩ ও ৪৪)।
(৮৭) আল্লাহর দ্বীন থেকে বিমুখ হওয়া এবং পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের অত্যাবশ্যকীয় ও ন্যুনতম জ্ঞান অর্জন না করা। (সাজদা-৩২/২২, ত্বাহা-২০/১২৪ ও ১২৬, কাহফ-১৮/৫৭)।
(৮৮) নিষিদ্ধ সময়ে, নিষিদ্ধ স্থানে ও নিষিদ্ধ অবস্থায় ইবাদত করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৫৮১-৫৮৮/আঃপ্রঃহাঃ ৫৪৭-৫৫৩/ইঃফাঃহাঃ ৫৫৪-৫৬১)।
(৮৯) শারয়ী ওজর ব্যতীত সালামের জবাব না দেওয়া ও অমুসলিমকে সালাম দেওয়া। (নিছা-৪/৮৬, বুখারী/মুসলিম)।
(৯০) দাড়ি কাটা ও গোঁফ লম্বা করা ও নাভীর নীচের চুল চল্লিশ দিন পর্যন্ত না কাটা। (বুখারী তাঃ পাঃহাঃ ৫৮৮৯-৫৮৯৩/আঃপ্রঃহাঃ ৫৪৬১-৫৪৬৫/ ইঃফাঃহাঃ ৫৩৫৭-৫৩৬১)।
(৯১) শারয়ী ওজর ব্যতীত ফিতরা ও কুরবানী না দেওয়া। (সূরা আল-হাজ্জ: ৩৪, সূরা আল-কাউসার: ২, মুসনাদ আহমাদ, ইবন মাজাহ হা/৩১২৩)
(৯২) নারীর উপর নেতৃত্বের দায়ীত্ব প্রদান করা বা নারীকে নেতা মনোনীত করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৭০৯৯/আঃপ্রঃহাঃ ৬৬০৪/ইঃফাঃহাঃ ৬৬১৭)।
(৯৩) পেশাব থেকে যথাযথ পবিত্রতা অর্জন না করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ২১৬/আঃপ্রঃহাঃ ২১০/ইঃফাঃহাঃ ২১৬/মুসলিম হাঃ ২৯২)।
(৯৪) বিধর্মীদের পূজা দেখা ও তাদের মেলায় যাওয়া।
(৯৫) ছাগীরা বা ছোট গুনাহ বার বার করা।
(৯৬) রাসুলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কোন সুন্নাহকে তুচ্ছ ভাবা, অবজ্ঞা করা ও অস্বীকার করা। (নিছা-৪/৬৫ ও ৮০, ইমরান-৩/৩১)।
(৯৭) ভাগ্যের ভাল-মন্দ অর্থাৎ তাকদীরকে অস্বীকার বা অবিশ্বাস করা। (ক্বামার-৫৪/৪৯, লাইল-৯২/৫, ৭ ও ৮, বুখারী তাঃপাঃহাঃ ৭৫৫২/ আঃপ্রঃহাঃ ৭০৩২/ইঃফাঃহাঃ ৭০৪৩)।
(৯৮) অমুসলিমদের রীতি-নীতি অনুসরণ করা। (মুসলিম ইঃফাঃহাঃ ৬৫৩৯/ইসঃসেঃহাঃ ৬৫৯১/আহাঃলাইঃহাঃ ৬৬৭৪)।
(৯৯) জেনে শুনে অন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করা। (আন-নিসা, ৪/১০৫-১০৭, আবু দাউদ)
(১০০) অতিরিক্ত পানি অন্যের প্রয়োজনে না দেওয়া।
(১০১) বিপদে, দূর্যোগে বা শোকাবহ কোন ঘটনায় উচ্চঃস্বরে কান্নাকাটি ও বিলাপ করা। (বুখারী তাঃপাঃহাঃ ১২৯৪/আঃপ্রঃহাঃ ১২০৯/ইঃফাঃহাঃ ১২১৭/ মুসলিম হাঃ ১০৩)।
(১০২) ফরয গোসল না করা।
(১০৩) শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করে জোর করে ক্ষমতা দখল করা।
(১০৪) ইসলামী দন্ডবিধি প্রয়োগের বিরুদ্ধে সুপারিশ করা।
(১০৫) মাসজিদের অবমাননা করা।
(১০৬) জেনে শুনে কোন পাপীষ্ঠ ইসলাম বিরোধী ব্যক্তির সংসর্গে বসবাস করা।
(১০৭) মেয়েরা বিবাহের উপযুক্ত হওয়া সত্ত্বেও ইচ্ছাকৃতভাবে বিয়ে না দেওয়া।
(১০৯) তালাক প্রাপ্তা নারীকে সহবাস না করার শর্তে বিয়ে করা।
(১১০) দ্বীন ইসলামকে খেল তামাসার বস্তুতে পরিণত করা ও পার্থিব জীবন নিয়ে মত্ত থাকা। (সূরা আল আ’রাফ-৭/৫১)।

কবীরা গুনাহ থেকে মুক্তির উপায়

উপরিউল্লেখিত যতগুলো কাবীরা গুনাহ সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে তার মধ্যে সবচাইতে বড়, ভয়াবহ ও মারাত্মক কাবীরা গুনাহ হল শির্ক এরপর মানুষের হক বা অধিকার সম্পর্কিত পাপ,যা মহান আল্লাহ কখনও ক্ষমা করবেন না। শির্ক হচ্ছে সবচাইতে বড় কাবীরা গুনাহ। শির্ক করলে আপনার সমস্ত ইবাদত বন্দেগী ও সৎ আমল সবই বিনষ্ট হয়ে যাবে এবং মহান আল্লাহ শির্কের গুনাহ কখনও ক্ষমা করবেন না। আর শির্ককারীর পরিণতি তাকে চিরস্থায়ীভাবে জাহান্নামে থাকতে হবে এতে কোন সন্দেহ নেই।
মহান আল্লাহ বলেন- “নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করবেন না শির্কের গুনাহ, এছাড়া তিনি ইচ্ছা করলে অন্যসব গুনাহ ক্ষমা করবেন।” (সূরা নিছা-৪/৪৮)।
মহান আল্লাহ অপর এক আয়াতে বলেন- “নিশ্চয়ই যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শির্ক করে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে করে দিবেন এবং তার বাসস্থান হবে জাহান্নাম। এই জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই।” (সূরা আল মায়িদাহ-৫/৭২)
মহান আল্লাহ আবার বলেন-“নিশ্চয়ই আল্লাহ কখনই ক্ষমা করবেন না শির্কের গুনাহ। ইহা ব্যতীত যেকোন গুনাহ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করবেন এবং যে আল্লাহর সাথে শির্ক করল সে পড়ল ঘোরতর ভ্রান্তিতে।” ( সূরা নিছা-৪/১১৬)।
মহান আল্লাহ সুরা আনআমে ১৮ জন নাবী ও রাসূলের নাম উল্লেখ করে বলেছেন-
“আর তাঁরা যদি শির্ক করতো তবে তাঁদের সমস্ত আমল বিনষ্ট হয়ে যেত।” (সূরা আনআম-৬/৮৮)।
মহান আল্লাহ আরও বলেন- “(হে নাবী!) তোমার ও তোমার পূর্ববর্তীগণের প্রতি অহী করা হয়েছে, যদি তুমি আল্লাহ’র সাথে শরীক কর তাহলে তোমার কর্ম (আমল) বরবাদ হয়ে যাবে এবং অবশ্যই তুমি ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভূক্ত হবে।” (সূরা যুমার-৩৯/৬৫)।
তবে মহান আল্লাহ বলেন- “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজদের উপর জুলুম করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমা করবেন সকল গুনাহ। বস্তুতঃ তিনি পরম ক্ষমাশীল, অত্যন্ত দয়ালু।”( সূরা যুমার-৩৯/৫৩)।
পবিত্র কুরআনের আয়াত থেকে বুঝতে পারা যাচ্ছে যে, তাওবার দুয়ার এখনও খোলা আছে। সুতরাং আপনি যত বড় গুনাহই করেন না কেন, বা যত বড় পাপী হউন না কেন,এই মূহুর্তে গুনাহ্ ও পাপের কর্ম ছেড়ে দিয়ে ইখলাছুন নিয়্যাত অর্থাৎ খালেছ অন্তরে তওবা করুন,শির্ক মুক্ত হউন। শির্কমুক্ত নির্ভেজাল ইবাদত করলে আপনি অবশ্যই একদিন জান্নাতে যাবেন ইনশা-আল্লাহ। কারণ মহান আল্লাহ বলেন-
“আল্লাহ অবশ্যই সেসব লোকের তাওবা কবুল করেন যারা অজ্ঞতাবশতঃ পাপ করে, অতঃপর অনতিবিলম্বে তাওবা করে,আল্লাহ্ তাদেরকেই ক্ষমা করেন। আল্লাহ মহাজ্ঞানী প্রজ্ঞাময়।” (সূরা নিছা-৪/১৭)
মহান আল্লাহ আরও বলেন- “যে ব্যক্তি অসৎকর্ম করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে অতঃপর আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করে, সে আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও পরমদয়ালু হিসাবে পাবে।” (সূরা নিছা-৪/১১০)
মহান আল্লাহ বলেন- “তারা নয় কিন্তু যারা তাওবা করে, ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে; আল্লাহ তাদের পাপ পরিবর্তন করে দিবেন পূণ্যের দ্বারা। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু।” (সূরা ফুরকান-২৫/৭০)
মহান আল্লাহ বলেন- “উহারা কি জানেনা আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করেন এবং সাদাকা গ্রহণ করেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাওবা কবুলকারী পরম দয়াময়-( সূরা তাওবাহ-৯/১০৪)।
মহান আল্লাহ বলেন- “যারা এরপর তাওবা করেছে ও সংশোধিত হয়েছে তবে নিশ্চয়ই আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।” (সূরা আলে ইমরান-৩/৮৯)
মহান আল্লাহ্ বলেন- “যখন কেউ অশ্লীল কার্য করে কিংবা স্বীয় জীবনের প্রতি অত্যাচার বা জুলুম করে, অতঃপর আল্লাহকে স্বরণ করে, অপরাধসমূহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, আর আল্লাহ ব্যতীত কে অপরাধসমূহ ক্ষমা করতে পারে?” (সূরা আলে ইমরান-৩/১৩৫)
কিন্তু ঈমান আনার পর যারা বার বার কুফরী করে এবং তাদের পাপের পরিমাণ যদি দিন দিন বেড়েই চলে, তাহলে মহান আল্লাহ তাদের পাপ আর ক্ষমা করবেন না। মহান আল্লাহ বলেন- “নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনার পর কুফরী করেছে অতঃপর কুফরীর পরিমাণ আরো বেড়ে গেছে তাদের তওবা কখনই কবুল হবে না এবং তারাই পথভ্রষ্ট।” (সূরা আলে ইমরান-৩/৯০)
মহান আল্লাহ বলেন- “তওবা তাদের জন্য নয়, যারা আজীবন পাপ করে অবশেষে তাদের কারও মৃত্যু আসলে বলে আমি এখন তওবা করছি এবং তাদের জন্য নয়, যাদের মৃত্যু হয় কুফরী অবস্থায়।” (সূরা নিছা-৪/১৮)
মহান আল্লাহ বলেন- “নিশ্চয়ই যারা ঈমান আনে অতপরঃ কুফরী করে, পুনরায় ঈমান আনে আবার কুফরী করে, এইভাবে যদি তার কুফরীর বা পাপের পরিমাণ বেড়েই চলে, তাহলে মহান আল্লাহ তাকে আর ক্ষমা করবেন না এবং তাকে পথও দেখাবেন না।” (সূরা নিছা-৪/১৩৭)
মহান আল্লাহ বলেন- “যারা কুফরী করে ও আল্লাহর পথ হতে মানুষকে বিরত রাখে; অতঃপর কাফির অবস্থায় মারা যায়, আল্লাহ তাদেরকে কখনই ক্ষমা করবেন না।” (সূরা মুহাম্মাদ-৪৭/৩৪)
মহান আল্লাহ আরও বলেন- “নিশ্চয়ই যারা কুফরী করেছে ও কুফরী অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছে; মূলতঃ তাদের কারো নিকট হতে পৃথিবী পরিপূর্ণ স্বর্ণও মুক্তি হিসেবে বিনিময় গৃহীত হবে না। ওদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি এবং ওদের জন্য কোন সাহায্যকারীও নাই।“ (সূরা আলে ইমরান-৩/৯১)।
মহান আল্লাহ কিছু আয়াতে বললেন, তিনি কখনও শির্কের গুনাহ ক্ষমা করবেন না আবার বললেন, হে মানুষ সকল! তোমরা আল্লাহর রহমত হতে নিরাশ হয়ো না। তোমরা অন্তর থেকে তওবা করলে নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গুনাহ ক্ষমা করবেন।”
তাহলে মহান আল্লাহর কথায় কি দ্বন্দ্ব আছে? অবশ্যই না, মহান আল্লাহর কথায় কখনও দ্বন্দ্ব থাকতে পারে না। আমাদেরই বুঝতে ভুল হয়েছে। বিষয়টি একটু ভালভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন। আপনি জেনে অথবা না জেনে যতবড় পাপই করুন না কেন এমনকি তা শির্কের মত ভয়াবহ পাপ হউক না কেন, ঐ পাপ আর কখনও করবেন না, এই ওয়াদা করে অনুতপ্ত হয়ে তওবা করলে আল্লাহ আপনাকে অবশ্যই ক্ষমা করে দিবেন-ইনশা-আল্লাহ। কিন্তু আপনি বার বার পাপ করছেন আবার তওবা করছেন এভাবে আপনার পাপের পরিমাণ যদি বেড়েই চলে তবে আল্লাহ আপনাকে আর ক্ষমা করবেন না। আবার আপনি সারা জীবন শুধু পাপ করেই গেলেন অথচ মৃত্যু উপস্থিত হলে তখন তওবা করলেন, তাহলেও আপনার তওবা কবুল হবে না। আবার আপনি সারা জীবন শির্কের সাথে যুক্ত থাকলেন অর্থাৎ তওবা না করেই মারা গেলেন, তাহলে আল্লাহ আপনাকে কখনও ক্ষমা করবেন না। সুতরাং এখনই আপনাকে শির্ক-কুফরীর মত বড় কাবীরা গুনাহ থেকে তওবা করে ফিরে আসতে হবে। আর তা না হলে আপনি কোন দিনই মুক্তি পাবেন না বা জান্নাতে যেতে পারবেন না মহান আল্লাহ নিজে বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুল (সঃ) বলেছেনঃ যে আল্লাহর সাথে শির্ক করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। আমি বললাম, যে আল্লাহর সাথে শির্ক না করা অবস্থায় মারা যাবে? তিনি বললেন, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে।(বুখারীতাঃপাঃহাঃ ১২৩৮/৪৪৯৭/৬৬৮৩/ আঃপ্রঃহাঃ ১১৫৯/ ৪১৩৯/ ৬২১৬/ ইঃফাঃহাঃ ১১৬৬/৪১৪২/৬২২৬)

তাওবার সঠিক পদ্ধতি

আল্লাহ তাওবা পছন্দ করেন, তাওবা কবুল করেন এবং তাওবা করলে অত্যন্ত খুশি হন। মহান আল্লাহ বলেন- “তুমি জেনে নাও যে আল্লাহ ব্যতীত সত্য কোন উপাস্য নেই। ক্ষমা প্রার্থনা কর তোমার ত্রুটির জন্য এবং মু’মিন পুরুষ ও মু’মিন নারীদের জন্য।” (সূরা মুহাম্মাদ-৪৭/১৯)।
নিন্মের চারটি শর্ত পূরণ সাপেক্ষে একনিষ্ঠ ও খালেছ অন্তরে তাওবার মাধ্যমে সকল গুনাহ থেকে অব্যাহতি লাভ করা যায়। যেমন-
(১) আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত ও লজ্জিত হওয়া।
(২) ভবিষ্যতে ঐ গুনাহ আর কখনও করবো না এই মর্মে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হওয়া।
(৩) অবিলম্বে ঐ গুনাহ একেবারে দৃঢ়ভাবে পরিত্যাগ করা।
(৪) কোন গুনাহের সাথে মানুষের হক বা অধিকার জড়িত থাকলে সে জীবিত থাকা কালে তার কাছ থেকে ক্ষমা চেয়ে মাফ করিয়ে নেওয়া অথবা তার পাওনা পরিশোধ করা।
সুতরাং সময় থাকতে তাওবা করে আল্লাহর পথে ফিরে আসুন। তাওবা শব্দের অর্থ ফিরে আসা বা বিরত থাকা। আমাদের এই উপমহাদেশে তাওবার একটা দু’আ প্রচলিত আছে যা বেশীর ভাগ মানুষই তা পড়ে থাকে। দু’আটি হলঃ “তাওবা আস্তাগ ফিরুল্লা রাব্বি মিনকুল্লি জাম্বিও ওয়াআতুবু ইলাইহি লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ”। তাওবার এই দু’আটি পৃথিবীর কোনও হাদীস গ্রন্থে খুঁজে পাওয়া যাবে না। এটি মানুষ নিজেরা বানিয়েছে। সুতরাং মানুষের বানানো এই দু’আ পড়ে তাওবা করার পরিবর্তে সঠিক দুআ পড়ুন। তাওবার সঠিক দু’আটি হল- “আস্তাগ ফিরুল্লা হাল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম ওয়াআতুবু ইলাইক” অর্থ- “আমি আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করছি। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব ও সবকিছুর ধারক। আমি তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তন করছি।” (তিরমিযী/ আবুদাউদ/ মিশকাত, হা-২৭২৭)।
আর মহান আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার সবচাইতে বড় দু’আ যাকে সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার বলা হয়। শাদ্দাদ ইবনু আউস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী (সঃ) বলেছেন, সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার হল বান্দার এ দু’আ পড়া-“আল্লাহুম্মা আংতা রাব্বী লা ইলাহা ইল্লা আংতা খালাক্বতানী ওয়া আনা আবদুকা ওয়াআনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়া’দিকা মাসতাত্বাতু আউযুবিকা মিং শাররিমা ছানাতু আবু উলাকা বিনি’মাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবু উলাকা বিজামবিহ ফাগফিরলী ফাইন্নাহু ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আংতা।” অর্থ- “হে আল্লাহ! তুমি আমার রব্ব! তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ। আমি তোমারই গোলাম। আমি যথাসাধ্য তোমার সাথে কৃত প্রতিজ্ঞা ও অঙ্গীকারের উপর আছি। আমি আমার সব কৃতকর্মের কুফল থেকে তোমার কাছে আশ্রয় চাচ্ছি। তুমি আমার প্রতি যে নি’য়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করছি। আর আমার কৃত গুনাহের কথাও স্বীকার করছি। তুমি আমাকে ক্ষমা কর। যে ব্যক্তি সকালে দৃঢ় বিশ্বাসের সাথে এ দু’আ পড়বে আর সন্ধ্যা হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে। আর যে ব্যক্তি রাতে দৃঢ় বিশ্বাসের সঙ্গে এ দু’আ পড়বে আর ভোর হবার আগেই মারা যাবে সে জান্নাতী হবে।” (বুখারীতাঃপাঃহাঃ-৬৩০৬/৬৩২৩/ আঃপ্রঃহাঃ-৫৮৬১/৫৮৭৮/ইঃফাঃহাঃ-৫৭৫৪/৫৭৭১)।
সুতরাং আমাদেরকে অবশ্যই জীবনে ঘটে যাওয়া পাপের জন্য অত্যন্ত ভয়-ভীতি ও বিনয়ের সাথে খালেছ অন্তরে মহান রব্ব আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। সবশেষে মহান আল্লাহর কাছে এই প্রার্থনা করি তিনি যেন আমাদেরকে সকল প্রকার কাবীরা ও ছাগীরা গুনাহ থেকে বিরত থাকার এবং সঠিক তাওবা করার মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন করে পাপ মুক্ত হওয়ার তাওফিক দান করেন। (আমীন)।

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s